kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

চার মাস বেতন নেই ৭ হাজার শিক্ষকের

শরীফুল আলম সুমন   

১২ এপ্রিল, ২০২২ ০৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার মাস বেতন নেই ৭ হাজার শিক্ষকের

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সাত হাজার শিক্ষকের এমপিও নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তাঁরা যোগদানের পর এমপিওর আবেদন করলেও তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে চার মাস ধরে তাঁরা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন। খালি হাতে তাঁদের সামনের ঈদ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এতে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

গত জানুয়ারি মাসে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৪ হাজার শিক্ষককে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়। এসব শিক্ষক নিজ নিজ স্কুলে যোগদান করেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ২০২১ সালের সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩৫ বছর। ফলে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন বাতিল করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আঞ্চলিক শিক্ষা কার্যালয়।

সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছিল, আবেদনের শেষ সময় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছর বা এর কম হতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মামলার রায় অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১২ জুনের আগে যাঁরা শিক্ষক নিবন্ধন লাভ করেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। আদালতের এ রায় অনুযায়ী ৩৫ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। কিন্তু মাউশি অধিদপ্তর এমপিও নীতিমালা মানতে গিয়ে ৩৫ ঊর্ধ্ব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে পারছে না।

জটিলতা নিরসনে গত ৩০ মার্চ মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দেন। সেখানে নীতিমালা, আদালতের রায়সহ সব কিছু উল্লেখ করে করণীয় জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) ফৌজিয়া জাফরীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মাউশি অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছি। এ ব্যাপারে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের পরামর্শক্রমে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। পাশাপাশি আদালতের রায়ের বিষয়টিও আমাদের দেখতে হবে। শিগগিরই এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করে মাউশি অধিদপ্তরকে জানানো হবে। ’

অনেক শিক্ষকই দূর-দূরান্তের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় নিয়োগ পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। চার মাস বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন শিক্ষকরা। বাড়িভাড়াসহ সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। এতে তাঁদের শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার সামনেই ঈদুল ফিতর। এর আগে কোনোভাবেই এমপিও পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে চাকরি পাওয়ার চার মাস পর প্রথম ঈদ হলেও তাঁদের খালি হাতেই এ উৎসব পালন করতে হবে।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. নুরুল হুদা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে এমপিওর জন্য আবেদন করেছিলাম। ডিডি অফিস থেকে বাতিল করা হয়েছে। এখন আমরা মাউশির নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু চার মাস চাকরি করার পরও খালি হাতে ঈদ করাটা কষ্টের। মা-বাবা, সন্তান, স্ত্রীকে কী জবাব দেব সেটাই ভাবছি। ’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার যশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এর আগে চট্টগ্রামে চাকরি করতাম। কিন্তু এখন যেহেতু বাড়ির কাছাকাছি এমপিওভুক্ত স্কুলে চাকরি হয়েছে, তাই এখানে যোগদান করেছি। কিন্তু চার মাস বেতন না পেয়ে খুবই কষ্টে আছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিক্ষা অফিস আমাদের আবেদনই নিচ্ছে না। আদালত যেহেতু ৩৫-ঊর্ধ্ব বয়সীদের নিয়োগ দিতে বলেছেন, সেখানে মাউশি অধিদপ্তর কেন এমপিও দিচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। ’



সাতদিনের সেরা