kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিরতি নিয়ে চলবে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট

মাসুদ রুমী   

১০ এপ্রিল, ২০২২ ০৯:৩৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিরতি নিয়ে চলবে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট

ঢাকা-টরন্টো রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা থেকে সরে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বহুল আলোচিত এ রুট বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে না বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য এয়ারলাইনসের মতো কোনো একটি দেশে বিরতি নিয়ে জুন থেকে শুরু হবে নিয়মিত ফ্লাইট। প্রাথমিকভাবে ম্যানচেস্টার, ইস্তাম্বুল, আজারবাইজান—এই তিনটি অঞ্চলকে ট্রানজিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটে বিরতি নিতে গন্তব্য হিসেবে তিন-চারটি বিকল্প নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক হয়। এ ক্ষেত্রে বিমানের এসংক্রান্ত  কমিটি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, আজারবাইজান—এই তিনটি গন্তব্যে বিরতি নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। এর মধ্যে যেটি ব্যবসাবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী হবে, সেটিকে বেছে নেওয়া হবে। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এই বিষয়ে গঠিত কমিটি।

জানা গেছে, সরাসরি ফ্লাইট হওয়ায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে এয়ারক্রাফটে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল নিতে হবে। এ কারণে ২৯৮ আসনের এয়ারক্রাফটে মাত্র ১৩০ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। আর ফিরতি পথে নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১২০ জন যাত্রী। এতে উচ্চ ভাড়ায় যাত্রী না পেলে লোকসানে পড়তে হতে পারে। তা ছাড়া বর্তমানে রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট অন্য দেশের ওপর দিয়ে যাবে। ফলে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বেশি লাগবে। এতে তেলও বেশি লাগবে। ঢাকা-টরন্টো রুটে ভাড়া ধরা হয়েছে (ওয়ানওয়ে) ৭৫ হাজার ৮৩০ টাকা আর রিটার্নসহ এক লাখ ২৬ হাজার টাকা।

গত ২৬ মার্চ ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা রুটে পরীক্ষামূলক সরাসরি ‘পরীক্ষামূলক’ বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। ঢাকা থেকে উড়াল দিয়ে টানা ১৮ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট আকাশে উড়ে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। ‘মান রক্ষার’ ওই ফ্লাইটে পাইলট ও ক্রেবিন ক্রু ২২ জনসহ ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটটিতে বিমানের চার কোটি টাকা খরচ হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের বন্ধুপ্রতিম দেশ কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সহজ হবে। দুই অঞ্চলের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও ভূমিকা রাখবে বিমানের এই রুট।

তবে এভিয়েশনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিরতিহীন এই রুট আদৌ লাভজনক হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফ্লাইটটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনার পর অতিরিক্ত যাত্রী এবং আবার জ্বালানি নিতে ইউরোপ বা এশিয়ার যেকোনো দেশে বিরতি নিয়ে পরিচালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি সার্থক হয়েছে। এখন জুন মাসে নিয়মিত ফ্লাইটেও যাতে আমরা সফল হতে পারি তার জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঢাকা-টরন্টো রুটটি লাভজনক করতে আমরা বিরতি নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কথা চিন্তা করছি। বিরতি নেওয়ার কারণে আমরা ফ্লাইটে জ্বালানি নিতে পারব এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রীও পাব। এ ছাড়া কোড শেয়ারিংয়ের বিষয় আছে, যা রুটটিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করবে। আর এ জন্য ইউরোপ বা এশিয়ার কোনো একটি পয়েন্টে স্টপওভার ও রিফুয়েলিং করা যায় কি না, সেটা আমরা বিবেচনা করছি। কানাডায় আমাদের যে প্রবাসীরা আছেন, তাঁদের পাশাপাশি আমরা বিদেশিদেরও ফ্লাইটে আনার চেষ্টা করছি। রিফুয়েলিংয়ের সুযোগের কারণে টরন্টো ফ্লাইটের অপারেটিং খরচ কমবে এবং লোড ফ্যাক্টর বিবেচনায় বিমান এই রুটে আরো বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম হবে। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্লাইট পরিচালনা করেছি, বিশ্বব্যাপী এটা প্রচারিত হয়েছে। তাতে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে বিমান শতকোটি টাকা লাভ করেছে। ’

এভিয়েশন বিশ্লেষক ও বিমান বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মোমেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এটা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। এই রুটে যাওয়ার আগেই একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করা দরকার ছিল, যাতে লাভ-লোকসানের হিসাব বোঝা যায়। এমন কোনো স্টাডি বিমান করেছে কি না তা আমার জানা নেই। যদি করে থাকে তাহলে যাত্রাবিরতি নেওয়া, না সরাসরি—এসব প্রশ্ন আসছে কেন? মাঝখানে স্টপওভার দিয়ে, সেখান থেকে যাত্রী নেওয়া, এটা খুব সহজ নয়। তার পরও আমি বিমানের সাবেক কর্মী হিসেবে কামনা করি, তারা সঠিক পদক্ষেপ নেবে এবং রাষ্ট্রের টাকা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকটা খেয়াল রাখবে। ’

এভিয়েশন খাত বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফ্লাইট চালু করলেই হবে না; সেবার মান ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে বিমানকে। না হলে তা আবার লোকসানের কবলে পড়বে। ’

কানাডায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছে, যেখানে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী সেখানকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন।



সাতদিনের সেরা