kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

‘টিপ পরছোস কেন’ : সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

অনলাইন ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০২২ ১৭:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘টিপ পরছোস কেন’ : সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গতকাল শনিবার তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষিকাকে টিপ পরার কারণে গালি দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার।  

লতা সমাদ্দার আরো অভিযোগ করেন, সেই সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে তার গায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সুর্বণা মুস্তাফা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের টিপ পরা ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারী ফারাহ জেবিন শাম্মী ওই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘কোনো দিন নামাজ পড়েন না, জীবনে কোনো দিন মসজিদেও যান না। স্মার্ট লাইফ লিড করেন, মদ, ঘুষ সবই খান; কিন্তু হিজাব-নিকাবের বাড়াবাড়ির কথা আসলে তারাও পোশাকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বলে তাদের পক্ষ নেন। ’

‘আর তারা হয়তো জানেন না আজকাল রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন জায়গায় হিজাব না পরা, টিপ পরা নারীদের নানা কটূক্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় গালিগালাজ’, তিনি আরো লিখেছেন।

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী টিপ পরা একটি মেয়ের ছবি শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, ‘এ দেশ যত দিন না হবে আফগানিস্তান, টিপ হবে বাঙালি নারীর একান্ত পরিধান। '

অবন্তী নাগ প্রমী লিখেছেন, ‘সিস্টেম যদি টিপ পরার পেছনে লাগে, তবে দিন-রাত টিপ পরেই থাকব। ’ 

সাবিনা ইয়াসমিন মাধবী নিজের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘একজন নারীকে রাস্তায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমি নিজেও হই। তাই বলে পুলিশের পোশাক পরা একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে নারীকে হয়রানি? আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ’

ত্রিশিয়া নাশতারান নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘গত ২ এপ্রিল ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে কর্মরত পুলিশের কাছে হয়রানি ও অপমানের শিকার হন তেজগাঁ কলেজের শিক্ষক লতা সমাদ্দার। কারণ তিনি টিপ পরে ছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকালে আমরা কজন টিপ পরে সেজান পয়েন্টে গেছিলাম এবং প্রবেশমুখে এক ঘণ্টা অবস্থান করেছি। সেখানে মানুষ আমাদের ধর্ম জানতে চেয়েছে, সেখান থেকে উঠে যেতে বলেছে। আবার সেখানকার মানুষই আমাদের ছবি তুলে দিয়েছেন। অনলাইনে টিপ পরে প্রতিবাদ করা ভালো। তবে আসল প্রতিবাদ ঘরের বাইরে, অনলাইনের বাইরে। তাই টিপ পরে বের হন, ধর্মীয় পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান, জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান, পালটা জবাব দিন। ’ 

যে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী

লতা সমাদ্দার বলছেন, ‘শনিবার সকালে তিনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে হেঁটে যখন তিনি তেজগাঁও কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন সেজান পয়েন্টের দিকে তিনি শুনতে পান, টিপ পরছোস কেন বলে একটা গালি। আমি ঠিক পেছনে তাকিয়ে দেখি, একজন পুলিশ একটা বাইকের ওপর বসে আছে। আমি তার প্রতিবাদ করলে সে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে। ’

লতা সমাদ্দার বলেন, ‘একপর্যায়ে সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমার শরীরের ওপর দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি সটকে যায়, কিন্তু তার বাইকের চাকা আমার পায়ে লাগে। আমার পা ইনজ্যুরড (আহত)। পুলিশকে এড়িয়ে চলি, সহযোগিতা আশা করি না। ’

পুলিশ কী বলছে

শেরেবাংলানগর থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলছেন, 'লতা সমাদ্দার গাড়ির লাইসেন্স নাম্বারের কয়েকটি ডিজিট বলতে পেরেছিলেন, কিন্তু তা থেকে গাড়িটি শনাক্ত করা যায়নি। আমরা এখন বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি দিয়ে যাচাই-বাছাই করছি। তাকে শনাক্ত করতে পারলে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেব। '

ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টা নজরদারি করছেন। তদন্তের আলোকে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। ’ তিনি বলেন, 'সেদিন ওই এলাকায় যাদের ডিউটি ছিল, তাদের সবাইকে যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই ব্যক্তির সেখানে কোনো ডিউটি ছিল না। তিনি হয়তো ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তাকে শনাক্ত করা কোনো কঠিন বিষয় হবে না, আমরা খুঁজে বের করব। '

কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ফৌজদারি এবং বিভাগীয় দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়ে থাকে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ফৌজদারি ব্যবস্থা হলে আইনের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেটা বাদী নিজে করতে পারে বা পুলিশও করতে পারে। অপকর্মের জন্য অনেক পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার নজির রয়েছে।



সাতদিনের সেরা