kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং

চীনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ কোয়াড জোটে যাবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০২২ ০৮:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ কোয়াড জোটে যাবে না

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াড জোটে বাংলাদেশ যোগ দেবে না বলে বিশ্বাস করে চীন। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গতকাল রবিবার এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।  

কোয়াড প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ কোয়াডে যোগ দেবে—এমন সামান্যতম সম্ভাবনাও আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ বাংলাদেশ সরকার পরিষ্কারভাবে বলেছে, তারা কোনো সামরিক বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত জোটে যোগ দেবে না।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলে থাকে কোয়াড চীনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু বাস্তবে চীনকে লক্ষ্য করেই সামরিক জোট কোয়াড গঠন করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, এ ধরনের একটি জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রজ্ঞা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত তাঁর বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি জানি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বিষয় হলো—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। ’

উল্লেখ্য, কোয়াড জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে চীনের বিরোধিতা নতুন নয়। গত বছর চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উই ফেংহে বাংলাদেশ সফরকালে বলেছেন, সম্প্রসারিত কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতি হবে।

জাপানের অন্যতম জাতীয় সংবাদপত্র নিকি এশিয়ায় গত সপ্তাহে ‘বাংলাদেশে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে সতর্ক ভারত’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এটুকু বলতে চাই, বাংলাদেশসহ কোনো দেশে চীনের সামরিক স্থাপনা নেই। যদি কিছু থাকে সেটি হচ্ছে মেরামত করার জন্য কারখানা এবং সেটিও সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী। তবে আমি নিশ্চিত করে এখন কিছু বলতে পারছি না। আমি বেইজিংয়ের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাইব। ’

লি জিমিং বলেন, এখন পর্যন্ত চীনের যে নীতি তাতে বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও সামরিক ঘাঁটি গড়বে না চীন।

এ বছরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সংকটের শুরু থেকেই বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীন নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটিও সত্য যে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ বছর বড় কিছু অর্জন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। ’

বড় কী অর্জন হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগে দুইবার প্রত্যাবাসনচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ঠিক করেছি, দৃঢ় কোনো পদক্ষেপ না হলে আমরা কোনো তথ্য প্রকাশ করব না। ’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমার সরকার গত সপ্তাহে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরুর পর এ দেশে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, এই অঞ্চল এখনো বাংলাদেশ সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। চীনের প্রত্যাশা, খুব শিগগির বাংলাদেশ ওই অনুমোদন দেবে। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউক্রেন সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয়েই চীনের বন্ধু। চীনের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট শেষ হবে।

লি জিমিং স্মরণ করিয়ে দেন, ইউক্রেন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও চীন এখন পর্যন্ত অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার মূল কারণ কভিড মহামারি ও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা। তিনি বলেন, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রগ্রাম তার গতি হারায়নি। ওই প্রগ্রামে আরো ১০টি দেশ যোগ দিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শিগগিরই চীনে ফিরে যাবেন। মাত্র ১০টি দেশ এই প্রকল্পে আছে। বাংলাদেশ ওই ১০ দেশের অন্যতম।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কভিড মহামারির মধ্যেও চীন বাংলাদেশে ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কভিড টিকা উৎপাদনের উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।



সাতদিনের সেরা