kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

অবকাঠামো নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন, রিহ্যাবের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৬:২০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অবকাঠামো নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন, রিহ্যাবের উদ্বেগ

অবকাঠামো নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাশাপাশি সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নিতে হবে- এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রিয়েল অ্যাস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি রিহ্যাব সদস্য ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভবন/স্থাপনা নির্মাণে ভোগান্তি বাড়াবে বলে মনে করছে আবাসন খাতের বৃহৎ এই সংগঠনটি।

আজ শনিবর দুপুর ১২টায় 'অবকাঠামো নির্মাণে রাজউকের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন গ্রহণের বিধানের প্রতিবাদ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। এসময় সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

 

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণে অনুমোদনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন পেলে তাতে দ্বৈত প্রশাসনের সৃষ্টি হবে। এই সিদ্ধান্ত আসলেই সাংর্ঘষিক ও অবাঞ্চিত। আমরা ভোগান্তি কমাতে রিহ্যাব থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সেখানে আরো নতুন তদারকি সংস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। যা মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে বিবেচিত হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত সভায় প্রস্তাব আকারে সিদ্ধান্ত হয়, অবকাঠামো নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পরিপত্র বা সরকারি আদেশ জারি না হলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এমন সংবাদের পর আমাদের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘বিগত ২০১৯ সালের আগে হাইরাইজ তথা ১০তলার অধিক বহুতল ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র গ্রহণের একটি বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বিগত ২০১৯ সালে রাজউক প্ল্যান পাসের প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে পূর্বে অনুমোদন দেওয়া ১০/১১টি প্রতিষ্ঠান/সংস্থার পরিবর্তে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল অ্যাভিয়েশন- এই তিনটি সংস্থার অনুমোদন গ্রহণের সহজ পন্থা চালু করা হয়। এখন সিটি করপোরেশন থেকে একই বিষয়ের অনুমোদন নিতে গেলে ভোগান্তি বাড়া ছাড়া কিছু হবে না। '

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সিটি করপোরেশন অনুমোদিত স্থাপনা নিয়মিত মনিটরিং করার ব্যবস্থা রাখবে এবং যদি সিটি করপোরেশন মনে করে রাজউক অনুমোদিত অবকাঠামো শহরের জন্য কল্যাণকর নয় তাহলে সেই অবকাঠামোর কাজ বন্ধ করে দিতে পারবে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে এই কল্যাণকর বা অকল্যাণকরের মাপকাঠি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে এই প্রশ্নে আমরা শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। একই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কতবার অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার জনগণের ভোগান্তি কমাতে চাচ্ছেন। এ জন্য অনেক কিছু ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।

রাজউকে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই, সিটি করপোরেশনে নতুন ভোগান্তি পোহাতে হবে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্তে ভালো কাজ কিছুই হবে না; বরং যারা প্ল্যান জমা দেবেন তাদের হয়রানি বাড়বে। ভবনের প্ল্যান পাস করতে গেলে রাজউকেই মানুষকে হয়রানি পোহাতে হয়। সেখানে নতুন করে অনুমোদনের দায়িত্ব পেলে অবকাঠামো যারা বানাবেন তাদের অসন্তুষ্টির কারণ হবে সিটি করপোরেশনগুলো। এমনিতেই সিটি করপোরেশনের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণার শেষ নেই। জন্মসনদ জটিলতাসহ সারা বছর মশা, ডেঙ্গু লেগেই থাকে। বর্তমান মেয়ররা অনেক কাজ করলেও সিটি করপোরেশনকে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত এই দায়িত্ব দিলে জনবল ও সক্ষমতাহীন এই সিটি করপোরেশনেও হয়রানির ক্ষেত্র তৈরি হবে।

রাজউকের কাছেই শুধু দায়িত্ব থাকা উচিত উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজউক ৫০ বছর এর অধিক সময় থেকে ঢাকায় ছোট-বড় সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে এবং তদারকি সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ভালো বা মন্দ যাই হোক না কেন রাজউক ও তার জনবল উক্ত কাজে একটি সক্ষমতা অর্জন করেছে। তাদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা লব্ধ সক্ষমতা অর্জনে সিটি করপোরেশন অদ্যবধি নবীনতম বলে স্পষ্টত প্রতিয়মান। সিটি করপোরেশনের তো এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় জনবল নেই, কোনো কাঠামো নেই। ফলে ভোগান্তি বেড়ে যাবে আরো কয়েকগুণ।

দেশের অর্থনৈতিকখাতে রিহ্যাবের অবদান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, রিহ্যাবের বিপুল কার্যক্রমে সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২৬৯ প্রকার লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের আবাসন শিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সাথে ৪০ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল ২.৫ কোটি লোকের অন্নের যোগান দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতেই, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে জিডিপিতে আবাসন শিল্পের অবদান ছিল ৩৮ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অবদান ৮১ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মিলে টাকার অংক আরো বেশি হবে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক খাতের হিসাব যোগ করায় প্রকৃত হিসাব থেকে কম দেখা যায়। জিডিপিতে সমগ্র নির্মাণ খাতের অবদান রয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।   চলতি বাজার মূল্যে জিডিপিতে নির্মাণ খাতের অবদান এক দশকে চার গুণের বেশি বেড়েছে। দেশের সামগ্রীক অর্থনীতির সাথে আবাসন সেক্টরের সম্পর্ক কতটা প্রকট তা অর্থনীতিবিদরা খুব সহজেই হিসাব করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট লিংকেজ শিল্পসহ সমগ্র নির্মাণ খাত বিবেচনায় আনলে জিডিপিতে এর অবদান দাঁড়াবে ২০ শতাংশের উপরে।



সাতদিনের সেরা