kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

ঢাবি হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩০ জানুয়ারি

‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্তরা হল ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবে না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:০৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্তরা হল ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবে না’

ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে পারবে ও গবেষণা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চেয়ে একাডেমিক ক্যারিয়ারে গুরুত্ব বেশি দেবে আমরা তাদেরকে নেতৃত্ব দিতে চাই। আর যাদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলবে তারা নেতৃত্বে আসতে পারবে না।  

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ছাত্রলীগের নেতারা। ৩০ জানুয়ারি ছাত্রলীগের সমন্বিত হল সম্মেলন উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 

সংবাদ সম্মেলনে হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব রনক জাহান রাইনের সঞ্চালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সদস্য নাহিদ হাসান শাহিন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক বরিকুল ইসলাম বাঁধন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘করোনা পরিস্থিতে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে টিএসসি প্রাঙ্গণে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মী, অন্য ছাত্র সংগঠনের আমন্ত্রিত অতিথি, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ’ 

তাতে আরো জানানো হয়,  সম্মেলনে প্রবেশের ক্ষেত্রে দুই ডোজ টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি আবাসিক হলে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। এছাড়াও ইতোমধ্যে হল সম্মেলন উপলক্ষে পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ রয়েছে, মামলা আছে যারা কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত, সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তারা হল নেতৃত্বে আসতে পারবে না। সৎ, মেধাবী ও দেশের প্রশ্নে আপোষহীন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন, আগামীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের চ্যালঞ্জ মোকাবেলায় যারা প্রস্তুত তারাই নেতৃত্বে আসবেন।

নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ১৮ হলে কর্মী সমাবেশ করেছি। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পদপ্রত্যাশীদের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আমরা জরিপ করেছি। পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। অনেকবার যাচাই বাছাই করা হয়েছে।  

তিনি আরো বলেন, ‘হল সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সাংগঠনিক ফোরামে নেতৃত্ব নির্বাচনের  বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। হলগুলোতে আমরা দক্ষ ছাত্রনেতা চাই। এমন নেতৃত্ব চাই, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে পারবে। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চেয়ে একাডেমিক ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগামীর রাজনীতি বিনির্মাণ করতে পারবে- আমরা তাদেরকে হল নেতৃত্বে নিয়ে আসতে চাই।  

এ বছর ১৮ হলে তিনশোর বেশি পদ প্রত্যাশী সিভি জমা দিয়েছেন। হলে হলে এক ডজনেরও বেশি নেতা শীর্ষ পদে প্রার্থী হয়েছেন। হল কমিটিতে শীর্ষে নেতৃত্বে আলোচনায় যারা,  বঙ্গবন্ধু হলে শাকিল আহমেদ, সিফাত, আকমল হোসেন, মাহবুবুর রহমান, শাখাওয়াত হোসেন, সরদার ইসরাফিল হোসেন, মেহেদী হাসান শান্ত, গালিব। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আতিকুর রহমান, তানভীর শিকদার, মিলন খান, আরিফুল ইসলাম, মোস্তফা সরকার মিশাত, ওয়াহাব রিয়াজ ও হাকিমুল ইসলাম তারেক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে কামাল উদ্দিন রানা, সাইফুল্লাহ আব্বাছী অনন্ত, রুবেল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, হাফিজ উর রহমান। স্যার এ এফ রহমান হলে রাহিম সরকার, রায়হানুল ইসলাম মল্লিক, সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাজু, মুনেম শাহরিয়ার মুন, রিয়াজুল ইসলাম, আবসার হাসান রানা, মেহেদী হাসান রনি ও আল আমিন হোসেন। মুহসীন হলে শিশির, মুহাম্মদ হোসাইন, লিটন, মেহেদী হাসান মিজান, সাদিল আব্বাস। সূর্যসেন হলে মারিয়াম সোহান, রাইসুল ইসলাম, সিয়াম রহমান, আরিফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম শপু, পারভেজ, ইমরান সাগর। জিয়া হলে আব্দুল্লাহ আল সুবাইল, হাসিবুল হাসান শান্ত, আশরাফুল আলম অনিক, আযহারুল ইসলাম মামুন, মাহমুদুল হাসান। বিজয় একাত্তর হলে সজিবুর রহমান, হারুন অর রশিদ, আবু ইউনুস, রবিউল হাসান রানা, রাজীব আহমেদ, নিশান, ফাহিম হাসান, কামরুজ্জামান লিখন। কবি জসীমউদদীন হলে, ওয়ালিউল সুমন, নাসির উদ্দিন, ইমাম হাসান, খালিদ উর রহমান বাদল, ইমরান আহমেদ, ফরহাদ আলী। জগন্নাথ হলে অতনু বর্মন, সজল দাস, কাজল দাস, সত্যজিৎ দেবনাথ, জয়জিৎ দত্ত। শহীদুল্লাহ হলে,  আশরাফুল ইসলাম, শরীফ আহম্মেদ মুনীম, মাসুদ, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। ফজলুল হক হলে, শিহাব উদ্দিন অন্তর, আবু হাসিব মুক্ত, এনায়েত কবির, আবু মোন্নাফ, আনোয়ার হোসেন নাঈম, সারোয়ার হোসেন, এহতেশামুল হক হৃদয়। অমর একুশে হলে, রাতুল হাসান নাঈম, সাজ্জাদ হোসেন দীপু, ইমদাদ হোসেন সোহাগ, আহসান হাবীব, এনায়েত হোসেন মনন, মুরসালিন অনু, রুহল আমিন শিপন, আলিফ, রাজিব।  

মেয়ে হলগুলোতে ছেলেদের হলের তুলনায় কম প্রার্থী রয়েছে। মেয়েদের হলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী হয়েছেন রোকেয়া হলে। রোকেয়া হলে, ফাল্গুনী দাস তন্বী, মাসুমা ইয়াসমিন, অন্তরা দাস পৃথা, ফারজানা ইয়াসমিন অনন্যা, মজিদা নাসরিন মম, আতিকা বিনতে হোসেন মিম।   শামসুননাহার হলে নুসরাত রুবাইয়াত নীলা, সাবরিনা তাবাসসুম, বিশাখা দাস ইরা, শেহেরজান হক, খাদিজা আকতার উর্মি, সাবিহা মাহফুজ নীলা। সুফিয়া কামাল হলে  রিমা আকতার ডলি, কানিজ মিম, মিতালী মণ্ডল, পূজা কর্মকার। কুয়েত মৈত্রী হলে রাজিয়া সুলতানা কথা, জান্নাতুল হাওয়া আঁখি। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হলে তানিয়া আকতার তাপসী, কোহিনুর আখতার রাখী, সারা বিনতে জামাল, সাবরিনা আকতার শশী, আফরোজ শারমিন ইমু।



সাতদিনের সেরা