kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

ব্যাংকঋণে নির্ভরতা বেড়েছে সরকারের

সজীব হোম রায়   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকঋণে নির্ভরতা বেড়েছে সরকারের

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৩৪ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে সরকার ১৯ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এই সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ব্যাংকঋণ বাড়লেও রাজস্ব আদায় ভালো হওয়ায় বাজেট ঘাটতি শূন্যে নেমে এসেছে। অর্থ বিভাগ প্রথম ছয় মাসে সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটাই ঘাটতি। সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে দুই খাত থেকে ঋণ নেয়, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে মূলত ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকেই বেশি ঋণ নেয় সরকার। এ ছাড়া বন্ড ও বিলের মাধ্যমেও ঋণ নেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে মোট আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

এ বছর গত অর্থবছরের তুলনায় সরকারের আয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় এসেছে এক লাখ ৫১ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। শতাংশ হিসাবে ৩৮ শতাংশ। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ছয় মাসে তাদের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা আদায় করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডবহির্ভূত করের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে তিন হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার ১৯ শতাংশ। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাসে অর্জন হয়েছে ১৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার ৩৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বিদেশি অনুদান ধরা হয়েছে তিন হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ছয় মাসে এ খাতে এসেছে মাত্র ১২ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি পূরণে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশি নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সরকার এ খাত থেকে ঋণ নিয়েছে দুই হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশ। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬ হাজার চার কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার বিদেশি খাত থেকে ঋণ নিয়েছিল ছয় হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে সরকার চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ছয় মাসে সরকার এ খাত থেকে ঋণ নিয়েছে ৩৪ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ শতাংশ।

সরকার বন্ড ও বিলের মাধ্যমেও ঋণ নেয়। চলতি অর্থবছর সরকারের বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ২৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে বন্ডে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে সরকার ঋণ নিয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর বিলের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৪ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছর ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩৭ হাজার এক কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র হলো সরকারের ঋণের একটি বড় উৎস। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ। গত অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা।



সাতদিনের সেরা