kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

'বাকশালের অন্তর্মূলে রয়েছে ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা ও মানবিকতা'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'বাকশালের অন্তর্মূলে রয়েছে ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা ও মানবিকতা'

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, বাকশালের অন্তর্মূলে রয়েছে ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা ও মানবিকতা। কিন্তু আমরা ভুলে যাই এই দ্বিতীয় বিপ্লবের অন্তর্মূলের তাৎপর্য। এর মূলে ছিল মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় করা, ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা কায়েম এবং মানবিকতা।

তিনি আজ শুক্রবার বনানী মডেল স্কুল মাঠে অসহায়-দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় রংপুর বিভাগের ৯টি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের কাছে রংপুর অঞ্চলের শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল হস্তান্তর করা হয়। বনানী মডেল স্কুল মাঠে প্রায় ১০০০ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে যুবলীগ।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘সোনার বাংলা’ কায়েম করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের এই জানুয়ারি মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এনেছিলেন। যেটা ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে পরিচিত, অনেকে “বাকশাল” হিসাবেও জানে।

তিনি বলেন, আমরা চতুর্থ সংশোধনী বা বাকশাল নিয়ে কেউ কেউ বিব্রত বোধ করি, কেউ কেউ এড়িয়ে যেতে চাই। কিন্তু বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বিষয় না। আমি এই বিষয়টা নিয়ে আজকে কিছু কথা বলব। দ্বিতীয় বিপ্লব আমাদের ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু বাকশাল, বা তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন জাতীয় সংসদের বিপুল ভোটে পাশ করে। সামরিক ফরমান জারি করেও করেন নাই, বা “হ্যাঁ-না” ভোটের মাধ্যমেও করেন নাই। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন-“ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলাম, কত জেল খাটলাম, আর এখন এক পার্টি করতে যাচ্ছি। ....আমি এটা চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। অন্য কোন পথ খোলা না দেখে আমি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়ে সমমনাদের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছি। আমি সমাজতন্ত্রবিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষতাবিরোধী এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো দল বা ব্যক্তিকে বাকশালে নেব না।

পরশ বলেন, আমার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নয়, দেশকে বাঁচানোর জন্য এই পদক্ষেপ। আমি ক্ষমতা অনেক পেয়েছি, এমন আর কেউ পায়নি। সেই ক্ষমতা হলো জনগণের ভালোবাসা ও নজিরবিহীন সমর্থন। ....আমার এই একদলীয় ব্যবস্থা হবে সাময়িক। দেশটাকে প্রতিবিপ্লবের হাত থেতে রক্ষা করে আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাব। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত; শোষক আর শোষিত। চেষ্টা করব আমার গণতন্ত্র যেন শোষকের গণতন্ত্র না হয়। আমার দুঃখী মানুষ যেন গণতন্ত্রের স্বাদ পায়। আমার গণতন্ত্র পশ্চিমা গণতন্ত্রের মতো বৈষম্যমূলক এবং শোষণের হাতিয়ার হবে না। ” শোষিতের গণতন্ত্রই ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য-এ কথাতো তিনি নিজেই বলেছেন। শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লব। তাঁকে হত্যা করার পর বিবিসি এক সংবাদ ভাষ্যে বলেছিল: “পৌনে দুই শ বছরের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের পর এই প্রথম শেখ মুজিব এক নতুন ধরণের স্থানীয় সরকারভিত্তিক শাসনকাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

শেখ ফজলে শামস পরশ বলে, ঐ সময়ে বিশ্বপরিস্থিতিতে এ ধরণের নিয়ন্ত্রণমূলক ও স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিক বিকাশের ব্যবস্থা তো অনেক দেশেই ছিল। বঙ্গবন্ধু যদি ঐসব দেশের অনুকরণে বাকশাল গঠন করে দ্রুত আর্থিক বিকাশ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক সমাধান সৃষ্টি করতে চেয়ে থাকেন, তাহলে তো তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। তিনি যা করেছিলেন, তা সাংবিধানিকভাবেই করেছিলেন। তিনি যেটা করেছিলেন সেটা মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় করার জন্য করেছিলেন, ন্যায়-পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য করেছিলেন এবং মানবিকাতার জন্য করেছিলেন।

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, সব উন্নয়নই নির্ভর করে একটা সরকারের চিন্তার উপর, পরিকল্পনার উপর। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। সব সময় জাতির পিতা চিন্তা করেছে এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই পথ অনুসরণ করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার লক্ষ্য একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না, বিশেষ করে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভূমিহীন মানুষ ছিল এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত লোক ছিল। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রম এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ করে চলেছে সরকারের তরফ থেকে। আমরা যুবলীগ স্বল্প পরিসরে এই কর্মসূচিতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি আহ্বান জানাতে চাই আপনাদেরকে, আপনারা খুঁজে দেখুন কোন ভূমিহীন লোক আছে কি না, আপনাদের নিজ নিজ এলাকায়। থাকলে তাদের তালিকা করে আমাদের দিন। আমরা তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিব। বঙ্গবন্ধুকন্যার এটা অঙ্গীকার যে, এদেশে কোন ভূমিহীন লোক থাকবে না। পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচন হবে। এই ১৩ বছরে রংপুরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা দৃষ্টান্তমূলক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. সোহেল পারভেজ, প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা