kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

দাম কমছে মোটা চালের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:৫৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দাম কমছে মোটা চালের

নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য সামান্য হলেও স্বস্তি এসেছে চালের বাজারে। আমন ধানের চাল বাজারে আসায় স্বর্ণা, পাইজাম, আঠাশ, উনত্রিশসহ কয়েক ধরনের মোটা চালের দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দু-তিন টাকা দাম নেমেছে এসব চালের। এতে খুচরা বাজারে চাহিদাও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, আমন মৌসুমের ধান বাজারে আসছে, সরকারের ওএমএস কার্যক্রমও কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া চাল আমদানির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মোটা চালের ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। এতে যারা আগে সরু চাল খেত, তাদের অনেকে ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য মোটা চাল কিনছে। কারণ বাজারে সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে মিনিকেট, নাজির, কাটারিসহ সরু চালগুলোর দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। এসব চালের দাম আগামী বোরো মৌসুম আসার আগ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের মধ্যে গুটি-স্বর্ণা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজি দরে। এই চাল সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৪৫ টাকার নিচে বিক্রি করা হতো না। পাইজাম আগে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হতো। এখন ব্র্যান্ডভেদে দাম কমে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায় নেমেছে। যে মানের আঠাশ ও উনত্রিশ চাল বিক্রি হতো ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে, এখন খুচরায় সেটা ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে কাজল লতা নামের চালগুলো আগে বিক্রি করা হতো প্রতি কেজি ৫৪ টাকা পর্যন্ত দামে। এখন তা ৫০-৫১ টাকায় পাওয়া যায়। একই দামে মিলছে সমমানের আরো বেশ কয়েক ধরনের চাল।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত এক সপ্তাহে সরু চাল ছাড়া অন্যান্য কয়েক ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি তিন টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগের সপ্তাহে এই মানের চাল বিক্রি করা হতো সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা কেজি দরে। এখন তা ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সরু চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। দাম বাড়ার পর  আর কমেনি। গতকাল বাজারগুলোতে খুচরায় মিনিকেট নামের চালগুলো বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে। নাজিরশাইলের মধ্যে কাটারি ও জিরা নাজির বিক্রি করা হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে।

জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ীর মরিয়ম রাইস স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, মোটা চালের দাম কমার পর এ চালের ক্রেতাও বেড়েছে। আগে যারা সরু চাল খেত, দাম বেশি বলে তাদের অনেকেই এখন মোটা চাল কিনছে। সরু চালগুলোর দাম কমছে না। কারণ এই চালের ধানগুলো বোরো মৌসুম থেকে আসে।

বাজারে তেল, চিনি, ডাল, আটা, ময়দা ও অন্য নিত্যপণ্যগুলো আগের বাড়তি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছেও। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা না এলেও বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।

টিসিবির হিসাব বলছে, গত এক সপ্তাহে নিত্যপণ্য, মসলাসহ ১৪টি পণ্যের দাম ওঠানামা করেছে। এর মধ্যে সাতটির দাম বেড়েছে এবং সাতটির কমেছে। বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত সব ধরনের সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, আদা, লবঙ্গ, এলাচের দাম। কমার তালিকায় রয়েছে মোটা চাল, প্যাকেট আটা, খোলা ময়দা, আলু, পেঁয়াজ, ফার্মের মুরগি ও ডিম।

খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা লিটার দরে। সরকারি মূল্য ১৩৬ টাকা প্রতি লিটার। বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা লিটার দরে। সরকারি মূল্য ১৬০ টাকা পর্যন্ত। বড় দানার মসুর ডালের দাম ১০০ টাকা ছুঁয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগেই। সেই দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট দানার মসুর ডাল কিনতে লাগছে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা।

চিনির দাম ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় স্থির রয়েছে। খোলা আটার দাম স্থির রয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা প্রতি কেজি। তবে প্যাকেট আটার দাম দুই টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দার দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা কমিয়ে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা রাখছেন বিক্রেতারা। তবে প্যাকেট ময়দা স্থির রয়েছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে।

বাজারে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে, গত সপ্তাহে যা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ছিল। ডিম হালিপ্রতি দাম ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা।

আলুর দাম আরো কমেছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত যে আলু ২০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এখন তা ১৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের দাম আগের সপ্তাহের মতোই, ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

আলু ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম কমেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। ভালো মানের টমেটো কিনতে এখনো ৫০ টাকার ওপরে লাগছে। কিছুটা নিম্নমানের টমেটো বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা প্রতিটি। অন্যান্য সবজির মধ্যে শিম, শালগম, মুলা, গাজর কিনতে লাগছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, কিছু কিছু সবজির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এতে দামও বাড়ছে।



সাতদিনের সেরা