kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

এক বছরে টিকা পেল ৫৬.০৪ শতাংশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক বছরে টিকা পেল ৫৬.০৪ শতাংশ মানুষ

দেশে করোনার টিকা কর্মসূচির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। গত বছর এই দিনে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে দেশে প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে ৯ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৩২১ জন; যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৬.০৪ শতাংশ। দেশে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ধরে ১১ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৩ জন ধরে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ডোজের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ৮০.০৫ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ ১১ হাজার ৫৩৮ বা মোট জনসংখ্যার ৩৫.০৬ শতাংশ মানুষকে। বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৫ বা মোট জনসংখ্যার ০.৭৪ শতাংশ মানুষকে।

সরকারি তথ্য মতে, গত সোমবার পর্যন্ত ছয় ধরনের করোনা টিকা পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ ডোজ। গতকাল পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৬০৪ ডোজ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত সোমবার পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৮২৬ জন। নিবন্ধন করেছে আট কোটি ৬২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৩ জন। নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিয়েছে ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮ জন।

তবে অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা গেলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দেশে এক সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ২৩০ জনের। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত ১২ হাজার ৭৪৭ জন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫২৭ জন। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.৬৪ শতাংশ। ওই ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দেশে করোনার অতিসংক্রমণশীল ধরন ওমিক্রনের ব্যাপকতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওমিক্রন নিয়ন্ত্রণে গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের ৭০ শতাংশ জনসাধারণকে করোনা টিকার আওতায় আনতে শুরু হয়েছে নিবন্ধন ছাড়াই গণটিকা কার্যক্রম।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন তৈরি হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এরই মধ্যে আমরা তা পাঠিয়ে দিয়েছি। ওমিক্রনের যে উপসর্গ আছে, সেগুলো এতে যোগ করা হয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ’

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তসহ দেশে মোট শনাক্ত ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জন। একই সময়ে ১৭ মৃত্যুসহ দেশে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ২৭৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার ছয়জন।

মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১০ জনই ঢাকা বিভাগের। বাকি চারজন চট্টগ্রাম বিভাগের আর রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে।

নিবন্ধন ছাড়াই যশোরে গণটিকা : কালের কণ্ঠের যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল থেকে যশোর পৌর এলাকাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার ১৯টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী গণটিকা কার্যক্রম। এই কার্যক্রমে মানুষ সহজেই টিকা নিতে পারছে। প্রথম ডোজের আওতার বাইরে থাকা যে কেউ নিবন্ধন ছাড়াই এ টিকা দিতে পারবে। যশোরের স্থায়ী বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কারো জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পৌর এলাকার চেয়ারম্যান অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং পৌর এলাকার বাইরে ইউপি চেয়ারম্যান অথবা সদস্যদের প্রত্যয়ন থাকলেও টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার পর তাদের একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘মূলত মানুষের আগ্রহ বাড়াতে গণটিকা কার্যক্রম সহজ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদানের বাইরে যাদের এক ডোজও টিকা দেওয়া হয়নি, এ টিকা তাদের দেওয়া হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা