kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

আবরার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:১১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবরার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে ১৭ আসামি জেল আপিল করেছে। তাদের আপিল আজ বুধবার শুনানির জন্য গ্রহণও করেছেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। জেল আপিল গ্রহণের আবেদনগুলো বুধবার আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।  

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আজকে ১৭টা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

আসামিরা যদি ফৌজদারি আপিল করেন, তবে এ মামলার ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে একীভূত হয়ে শুনানি হবে। '

জেল আপিলের পাশাপাশি এই ১৭ আসামির অনেকেই ফৌজদারি আপিল করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে। দু-একজন এর মধ্যে ফৌজদারি আপিল করেও ফেলেছেন।  

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা আসামিরা জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যে আপিল করেন, তাকে জেল আপিল বলে। আর রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে যে আপিলটি করেন, সেটিকে ফৌজদারি আপিল বলে।  

আইনজীবী আজিজুর রহমার দুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, "মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মেহেদী হাসান রাসেল ও  মেফতাহুল ইসলাম জিয়নের আপিল (ফৌজদারি আপিল) প্রস্তুত করছি। আশা করি কাল আদালতে উপস্থাপন করতে পারব। "

এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি এস এম মাহমুদ সেতু। গত ৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালত থেকে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।  

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়নের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। সেই অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে, যাকে ‘ডেথ রেফারেন্স’ বলে। এই ডেথ রেফারেন্স ও অন্যান্য নথির সমন্বয়ে তৈরি হয় মামলার পেপারবুক। পেপারবুক তৈরি হলে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

দুই বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান। আসামিদের সবাই বুয়েটের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জনের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন, বাকি তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
 
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। দুই পক্ষে যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য গত বছরের ২৮ নভেম্বর তারিখ রেখেছিলেন। কিন্তু ওই দিন রায়ের তারিখ পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক।  

সেদিন জনাকীর্ণ আদালতে ২০ আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করে বিচারক বলেন, 'মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলে। '

 বাকি পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন  বিচারক। ওই অর্থ দিতে না পারলে তাদের আরো এক বছর সাজা ভোগ করতে হবে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত  ২০ আসামি

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

 
যাবজ্জীবন পাওয়া ৫ আসামি

বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

পলাতক ৩ আসামি

এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।



সাতদিনের সেরা