kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভূমি দস্যুদের থেকে রক্ষা পেতে

সংসদীয় কমিটির কাছে সাতক্ষীরার ভূমিহীন জনগণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংসদীয় কমিটির কাছে সাতক্ষীরার ভূমিহীন জনগণের অভিযোগ

ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংসদীয় কমিটির দারস্থ হয়েছে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার ‘শেখ মুজিব নগর খলিশাখালী ভূমিহীন আবাসন কেন্দ্রে’ আশ্রয় নেওয়া ভূমিহীন জনগণ। লিখিত অভিযোগে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জমির মালিক দাবিদার ভূমি দস্যুরা হামলা-মামলা ও হুমকি অব্যাহত রাখার কথা জানান। এ নিয়ে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকা করছেন তারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, খলিশাখালীর এক হাজার তিনশত বিঘা খাস জমি বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রভাবশালীমহল অবৈধভাবে দখলে নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলো।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারী সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে ওই জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আদেশ দেন।  

এরপর গত বছরের ৮ এপ্রিল জমির মালিক দাবিদাররা ওই আদেশ পূর্ণ বিবেচনার জন্য  মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে ১৬৮/২০২১নং সিভিল রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন। যা অদ্যোবধি শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে হাজারের বেশি ভূমিহীন পরিবার ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে বসবাস করছে। কিন্তু ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের জন্য অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি নানান ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আদালত সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করলেও গত ২৯ নভেম্বর জেলা ভু-সম্পত্তি জবরদখল ও পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, খলিশখালি নামক স্থানে ৪৩৯.২০ একর সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি, খাস সম্পত্তি নয়। এই জমি অবৈধ দখলদারদের খালি করতে হবে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেন ডিসি।

এর জবাবে পুলিশ সুপার বৈঠকে জানান, ওই জমির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা (নং-১৬৮/২০২১) চলমান রয়েছে। আমাদেরকে আইনের মধ্যে থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যথাযথ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ করা যাবে না। উপযুক্ত আদালত যদি নির্দেশনা দেয় তাহলে জেলা প্রশাসন উক্ত জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পর ভূমিহীনদের আশ্রয়স্থল খলিশাখালীর ৪৩৯ দশমিক ২০ একর (এক হাজার তিনশত বিঘা) খাস জমি দখলে নিতে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কোন ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা দেওয়ার নজির না থাকলেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিশাখালি গিয়ে ভূমিহীনদের সরে যেতে বলেছেন। আবার বিভিন্ন মাধ্যমে জমির দাবিদাররা হুমকিও দিচ্ছে।  

এর আগে তারা ভূমিহীনদের ওপর কয়েক দফা সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট চালিয়ে তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। হামলাকারীদের থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও রক্ষা পায়নি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি ভূমিহীনরা মিছিল-সমাবেশ ও মানবন্ধন করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে ভূমিহীনদের হয়রানি করা হচ্ছে। জমির মালিকানা দাবিদাররা ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৯টি মামলা করেছে। জেলা প্রশাসকের আহ্বানে ডিসি অফিসে গিয়ে ভূমিদস্যুদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন গোলাপ ঢালীসহ তিনজন ভূমিহীন নেতা।  

লিখিত আবেদনে বলা হয়, খাস জমি মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীনদের মধ্যে অগ্রধিকার ভিত্তিতে বন্দোবস্ত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ‘শেখ মুজিব নগর খলিশাখালী ভূমিহীন আবাসন কেন্দ্রে’ বসবাসকারী ভূমিহীনদের নামে ওই জমি বরাদ্দ দিতে হবে। একইসঙ্গে ভূমিহীদের জানমালের নিরাপত্তায় জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। বৈঠকে আলোচনার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা