kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

টিআইয়ের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকা

বাংলাদেশের অবস্থান ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের অবস্থান ১৩

দুর্নীতির ধারণা সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। এবার ১৩তম হয়েছে। তবে করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স (সিপিআই) বা দুর্নীতির ধারণা সূচকে আগের তিন বছরের মতো বাংলাদেশের স্কোর ২৬।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে একমাত্র আফগানিস্তান। সূচকে বাংলাদেশের এই অবস্থানকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

গতকাল মঙ্গলবার টিআইবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮০টি দেশের তথ্য নিয়ে বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-২০২১’ তুলে ধরেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। সিপিআই-২০২১ অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্কোর ০-১০০ স্কেলে ২৬। এর আগে ২০২০, ২০১৯ ও ২০১৮ সালেও একই স্কোর ছিল। চলতি বছরের তালিকায় বিশ্বে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আর আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ।

দুর্নীতির ধারণা সূচকে কোনো দেশ ১০০-তে ১০০ স্কোর পায়নি। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশেই দুর্নীতি আছে। সূচকে ৮৮ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এরপর ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও নরওয়ে। ৮৪ স্কোর পেয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ৮২ স্কোর পেয়ে নেদারল্যান্ডস। ৮১ স্কোর পেয়ে পঞ্চম লুক্সেমবার্গ, ৮০ স্কোর পেয়ে ষষ্ঠ জার্মানি, ৭৮ স্কোর পেয়ে সপ্তম যুক্তরাজ্য, ৭৬ স্কোর পেয়ে অষ্টম হংকং, ৭৪ স্কোর পেয়ে নবম কানাডা, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও অস্ট্রিয়া, ৭৩ স্কোর পেয়ে দশম স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জাপান ও উরুগুয়ে।

২০২১ সালের তালিকায় ১১ স্কোর পেয়ে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে দক্ষিণ সুদান। ১৩ স্কোর পেয়ে তালিকার নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিরিয়া ও সোমালিয়া, ১৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন ভেনিজুয়েলা।

দক্ষিণ এশিয়ায় কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ৬৮ স্কোর নিয়ে ২৫তম অবস্থানে থেকে সবার ওপরে ভুটান। ৪০ স্কোর পেয়ে ভারতের অবস্থান ৮৫তম। ২৮ স্কোর পেয়ে ১৪০তম পাকিস্তান। আর ১৬ স্কোর পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন ও বিশ্বে ১৭৪তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে তৃতীয়। বাংলাদেশের পরেই কম্বোডিয়া, এরপর যৌথভাবে আফগানিস্তান ও উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ২৬ স্কোর পেয়েছে মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭, তার আগের বছর ছিল ২৬। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি জরিপের ফলাফল থেকে সূচকটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্নীতির চিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ দুর্নীতি আগের মতোই আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আফগানিস্তান। ভালো অবস্থানে থাকা অর্থাৎ ওপরের দিক থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৭তম। আর নিচের দিক থেকে ১৩তম স্থানে। চার বছর ধরে একই স্কোরে (২৬) রয়েছে বাংলাদেশ। ’

দুর্নীতির পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতা, মত প্রকাশ ও জবাবদিহির অভাবকে অন্যতম কারণ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির দুষ্ট চক্রের গ্রাস থেকে বের হতে পারিনি। করোনাকালে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা আছে। দেশের অর্থনীতির অনেক অগ্রগতি হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই অগ্রগতি আরো অর্থবহ হবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে দুর্নীতির সংক্রমণ বেশ ব্যাপক। এ অবস্থান উন্নত হচ্ছে না। তাই জনসাধারণ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ দুর্নীতি করতে ভয় পায়। কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ছাড়া দুর্নীতি কমানো যাবে না। ’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিপিআই-২০২১-এর তথ্যের উৎস ছিল ১৩টি আন্তর্জাতিক জরিপ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি সূত্র থেকে এসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা