kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

স্বামীকে হত্যা : স্ত্রী শেফালীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামীকে হত্যা : স্ত্রী শেফালীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

আমেরিকাপ্রবাসী স্বামী সাইদ হাসান বাদলকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্ত্রী শেফালীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জেসমিন আরা বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন- শেফালীর আত্মীয় নয়ন ও আক্কাস বেপারী।

বিজ্ঞাপন

এদিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর তাঁদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।  

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাইদ হাসান বাদল (৪০) ১৯৯২ থেকে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট সেকশনে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাইদ কর্মরত থাকাকালীন ১৯৯৯ সালে ওই হাসপাতালে কর্মরত এমএলএসএস শেফালী (৫০) সুকৌশলে গোপনে সাইদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁদের ঘরে কন্যাসন্তান বৃথি (১৩) জন্মগ্রহণ করে। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে সাইদ আমেরিকায় চলে যান। আমেরিকায় থাকাকালে সাইদ হাসান তাঁর মেয়ে বৃথির যাবতীয় খবচ বহন করতেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ছিল। সাইদের তাঁর অপর ভাই ইঞ্জিনিয়ার জয়েব হাসানসহ ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে নগদ ১০ হাজার ইউএস ডলার, মালামালসহ বিমানবন্দরে পৌঁছেন।  
এ সময় তাঁর ভাতিজা জাহিদ হাসান প্রাইভেট কার নিয়ে তাঁকে রিসিভ করতে যান। সাইদ দেশে আসার খবর শুনে তাঁর স্ত্রী শেফালীও বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে সাইদ হাসান বাদলকে রিসিভ করে জাহিদ হাসানের প্রাইভেট কারে নেওয়া হয়। এরপর মালামালের লাগেজসহ আসার সময় শেফালী বাদলকে শসা খাওয়ান। এরপর ওই দিন মিটফোর্ড হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের পূর্ব দিকে টিনশেডে জাহিদ হাসানকে রেখে শেফালী ও বাদল মালামালের লাগেজসহ শেফালীর বাসায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে শেফালী বাদলের ভাতিজা জাহিদ হাসানকে জানান, বাদল অসুস্থ। তাঁকে মিটফোর্ড হাসাপাতালে নিতে হবে। এরপর বাদলকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাইদের ভাই ডা. শহিদ হাসান কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০২১ সালের ২৪ জুন দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ১৯ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। একই বছরের ৩০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।



সাতদিনের সেরা