kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২১

সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এবার ১৩তম বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এবার ১৩তম বাংলাদেশ

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রতিবদনে প্রকাশিত তালিকার নিচ থেকে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার ওপর থেকে ১৪৭তম অবস্থানে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

এ তালিকায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলো রয়েছে নিচের দিকে। গতবার নিচ থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। অর্থাৎ এবার দুর্নীতির ধারণা সূচকের বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ এগিয়েছে। সূচকে বাংলাদেশ ১০০ স্কোরের মধ্যে পেয়েছে ২৬। একই স্কোর ছিল ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে।

আজ সকালে সিপিআই ২০২১ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে অনলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ২০২১ সালের সূচকে ০-১০০ স্কেলে টানা চতুর্থবার অপরিবর্তিত ২৬ স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। গত এক দশকের স্কোরের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ২৬-এ স্থবিরতা এবং সার্বিকভাবে অবস্থানের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না হওয়া হতাশাব্যঞ্জক। এবারের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন  থেকে গণনা অনুযায়ী ২০২০ এর তুলনায় ১ ধাপ উন্নতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। আর সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী একধাপ পিছিয়ে ১৪৭তম। একই স্কোর পেয়ে এবার নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে ১৩তম অবস্থানে মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক। ২০১২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে অষ্টমবারের মতো এবারও বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন, যা বিব্রতকর, উদ্বেজনক ও হতাশার।  

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২১ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৮৮ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ৮৫ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও নরওয়ে এবং ৮৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। আর ১১ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্ন দক্ষিণ সুদান, ১৩ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে তালিকার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন  সিরিয়া ও সোমালিয়া এবং ১৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন  অবস্থানে ভেনেজুয়েলা।  

‘দুর্নীতি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’- এবারের সিপিআই এর প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এবারের সিপিআই অনুযায়ী বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বিশেষ করে, গত এক দশকে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রের ঘাটতির ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সারাবিশ্বেই এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। কোনো দেশই শতভাগ স্কোর করতে পারেনি। ১৮০টির মধ্যে ১০০টি দেশ বৈশ্বিক গড় ৪৩ এর কম স্কোর করেছে। ১৩০টি দেশের স্কোর ৫০ এর নিচে। ২০২০ এর তুলনায় স্কোর বেড়েছে ৬৫টি দেশের, ৬৬টি দেশের স্কোর কমেছে এবং ৪৮টি দেশের স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি দেশ তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোর করেছে। আর গত ১০ বছরে সার্বিকভাবে ৮৩টি দেশের স্কোর হ্রাস পেয়েছে, ৮৪টি দেশের বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশসহ ৭টি দেশের স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টিআই বলছে, যেসব দেশে নাগরিক স্বাধীনতা ও অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তারাই সিপিআই সূচকে কম স্কোর পেয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বিশ্বের যে ২৩টি দেশের স্কোর হ্রাস পেয়েছে, তার ১৯টিই নাগরিক স্বাধীনতা সূচকেও কম স্কোর পেয়েছে। বিশেষ করে, ২০২০ সালে সারাবিশ্বের ৩৩১ জন মানবাধিকার কর্মী হত্যার ঘটনার ৯৮ শতাংশই এমন সব দেশে দেশে ঘটেছে, সূচকে যাদের স্কোর ৪৫ এর নিচে।    

এবারের সিপিআই অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে কম ভুটানে, সূচকে ৬৮ স্কোর পেয়ে ওপর থেকে অবস্থান ২৫তম। এ অঞ্চলের ৮টি দেশই এবার ২০২০ এর তুলনায় অধিক স্কোর অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ভুটান, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের অবনমন হয়েছে।  

 



সাতদিনের সেরা