kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

তিন পণ্যে মন খারাপ কৃষকের

আলুতে লোকসান, টমেটোতে শঙ্কা, সামান্য লাভ পেঁয়াজে

রোকন মাহমুদ   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০৭:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন পণ্যে মন খারাপ কৃষকের

এবার আলু উৎপাদন করে একপ্রকার বিপাকেই পড়েছেন কৃষক। কৃষক আলুর যে দাম পাচ্ছেন, তা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। টমেটোতে লাভ পেলেও তা কত দিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষক। কিন্তু আলুর মতো পেঁয়াজের দামও এখন কৃষকের উৎপাদন খরচের কাছাকাছি।

বিজ্ঞাপন

এই চিত্র মূলত কৃষক পর্যায়ে, স্থানীয় হাট-বাজার বা ক্ষেতে বিক্রির। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের বড় শহরের খুচরা বাজারে এই পণ্যগুলোর দাম কৃষকের পাওয়া দামের দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন গুণ। বিপণনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মধ্যস্বত্বভোগী থাকায় দামের এই তারতম্য বলে বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণাগার না থাকায় মৌসুমে উদ্বৃত্ত পণ্য একসঙ্গে বাজারে চলে আসে। তাতে কৃষক দাম হারাচ্ছেন। এতে তাঁরা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তখন আবার বাজারে সংকট তৈরি হবে।

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বরাবরের মতো বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তাঁরা। সংরক্ষণাগার না থাকলেও কৃষকরা নিজেরা যাতে সংরক্ষণ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

আলু : গতকাল সোমবার বগুড়ার পাইকারি বাজার মহাস্থান হাটে কৃষকরা গড়ে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবেই এক কেজি আলু উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ ৯ টাকা ৭৩ পয়সা। গড়ে প্রতি কেজি আলুতে কৃষকের লোকসান ২৩ পয়সা।

বগুড়ার মোকামগুলোতে সাদা হল্যান্ড আলুর দাম গতকাল ছিল পাঁচ থেকে ছয় টাকা কেজি। ভালো জাতের অন্যান্য আলুর কেজি ছিল ১০ থেকে ১৩ টাকা। এসব আলুর উৎপাদন খরচও বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

টমেটো : টেমেটোর দামে এখনো স্বস্তি পাচ্ছেন কৃষক। বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে কৃষকরা টমেটো বিক্রি করছেন গড়ে ১৬ টাকা কেজি দরে। এবার এক কেজি টমেটোর উৎপাদন খরচ আট টাকা ২১ পয়সা। তবে ১৬ টাকার এই টমেটো শহরের খুচরা বাজারগুলোতে গড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে দাম বাড়ছে প্রায় তিন গুণ।

গতকাল বগুড়ার মহাস্থান হাটে আসা চণ্ডীহারার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ সময় এত কম দামে সবজি আগে বিক্রি করতে হয়নি। এবার কী যে হলো, দাম উঠছেই না। একই এলাকার আবুল হোসেন নামের আরেকজন কৃষক বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছুটা দাম পাচ্ছেন। আমরা হাটে এসে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করি। এতে খরচের টাকাই উঠছে না। ’

পেঁয়াজ : গতকাল দেশের বড় মোকামগুলোতে চলতি কন্দ বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে গড়ে সাড়ে ২২ টাকা দরে। এবার এক কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ গড়ে ১৯ টাকা ২৪ পয়সা। সে হিসাবে কৃষকের লাভ কেজিপ্রতি তিন টাকা।

অথচ এই পেঁয়াজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৪৪ টাকা কেজি। সে হিসাবে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে পেঁয়াজের ভোক্তা মূল্য।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছর দেশে ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে সংগ্রহ-উত্তর লোকসানের কারণে দেশে নিট উৎপাদন ধরা হয় ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টন। পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২৬ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে আড়াই লাখ টন। এই ঘাটতি পূরণ হয় আমদানি করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজির আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের কৃষকদের জন্য বড় একটি সমস্যা হলো অধিক মধ্যস্বত্বভোগী। অনেক অঞ্চল থেকেই পণ্য আসতে আসতে দাম দ্বিগুণ-তিন গুণ হয়ে যায়।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া। ]



সাতদিনের সেরা