kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ

সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে : জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে : জামায়াত

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নামে মতলবি আইন প্রণয়নের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের নির্দেশনা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার জনগণের মূল দাবি পাশ কাটিয়ে নিজেদের ক্ষমতায় আসার পথ পরিষ্কার করার জন্য নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের নামে জনগণের সঙ্গে আরেকটি প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। বর্তমান সংসদ জনগণের নির্বাচিত সংসদ নয়।

বিজ্ঞাপন

এই সংসদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই কোনো আইন প্রণয়ন করার।

সকল রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং তার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা। সরকার জনগণের সে দাবি অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের নামে মূলত জনগণের সাথে প্রহসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।  

সরকারের প্রস্তাবিত আইনটি একটি সার্চ কমিটি গঠনের আইন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে পরপর দুটো নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এই আইন প্রণয়ন করে মূলত আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটিকে আইনি বৈধতা দানের মাধ্যমে তাদের কূটকৌশল বাস্তবায়ন করতে চায়।  

সংসদে আইনমন্ত্রী যে আইনটি উত্থাপন করেছেন তার শিরোনাম হচ্ছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’; প্রস্তাবিত আইনে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না। আইনটির মূল উদ্দেশ্য হবে দেশে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা। সেটি না করে সরকার যেভাবে আইনটি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, তাতে নির্বাচন বা ভোটাধিকার প্রশ্নে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার নিজেদের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠনের একটি মতলবি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আমরা মনে করি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বাগ্রে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। এ সরকার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। মধ্যরাতের নির্বাচনে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের দ্বারা কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। তাই আমরা নীলনকশার আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে নিজেদের ছক অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য উপস্থাপিত মতলবি আইনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ’



সাতদিনের সেরা