kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ৩০ দিন

ছোট ছেলেকে নিয়েই সংগ্রাম লক্ষ্মীর

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোট ছেলেকে নিয়েই সংগ্রাম লক্ষ্মীর

ছোট ছেলে প্রত্যয় হাওলাদারের সঙ্গে মা লক্ষ্মী রানী।

এক মাস আগে স্বপ্ননীল আর প্রত্যয়—দুই ছেলেকে নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন মা লক্ষ্মী রানী। রাত ৩টায় লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছোট ছেলে প্রত্যয় হাওলাদারকে নিয়ে মা লক্ষ্মী রানী কোনোমতে লাফিয়ে বাঁচলেও বড় ছেলে স্বপ্ননীল হাওলাদার অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নদীতে ঝাঁপ দিলে তার সলিলসমাধি হয়।

উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র স্বপ্ননীলকে হারিয়ে মা লক্ষ্মী রানী এখনো স্তব্ধ। সন্তানের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে শূন্য হাতে তাঁরা কর্মস্থল ঢাকার উত্তরায় ফিরে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বপ্ননীলের স্মৃতি এখনো কাঁদায় বাবা সঞ্জীব হাওলাদার ও মা লক্ষ্মী রানীকে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মুঠোফোনে কথা হয় লক্ষ্মী রানীর সঙ্গে। ফোনে পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এমন দিনে আমার ছেলেটা পড়ার টেবিলে বসা ছিল। আমি নুডলস দিয়েছি, ও খেয়েছে। আজ সেই টেবিলটা আছে, কিন্তু আমার ছেলেটা নাই। আমার ছেলেটা যদি সাঁতার জানত, তাহলেও হয়তো ও মারা যেত না। এখন ওর স্মৃতিই আমার একমাত্র সম্বল। প্রতিদিন সকাল হলে ওর ব্যবহারের সব কিছু বুকে আঁকড়ে ধরে কাঁদি, তবু ওর শূন্যতা ভুলতে পারি না। ’

বাবা সঞ্জীব হাওলাদার বলেন, ‘স্বপ্ননীল খুব মেধাবী ছিল। ওকে বড় স্কুলে অনেক কষ্ট করে ভর্তি করেছিলাম। ও খুব ভালো ভিডিও এডিটিং করত। প্রতিদিন ওর মজার মজার ভিডিও দেখে এখন দিন কাটাই। ’

এদিকে অভিযান-১০ ট্র্যাজেডির এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন উপজেলার গোলাঘাটা গ্রামের বৃদ্ধ হামিদ হাওলাদার (৬৫)। স্বজনরা এখনো জানে না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী মইফুল বেগম এখনো শোকে কাতর হয়ে আছেন। মইফুল  বেগম বলেন, ‘তোমরা আমার স্বামীর আর কিছু না পেলেও অন্তত হাড়গোড় এনে দেও। মুই একটু স্বামীর কবরটা দেখে মরতে চাই। মোর আর কিছু চাওয়া-পাওয়া নাই। ’

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা গেছে, এ উপজেলায় নিহত একজন ও নিখোঁজ একজন। এই দুই পরিবারকে তাৎণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে নিহত, নিখোঁজ ও আহতের তালিকা করেছি। সরকারিভাবে দুই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। ’



সাতদিনের সেরা