kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

শাবিপ্রবিতে আন্দোলন

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগ শিক্ষকদের একাংশের

নুরুল ইসলাম রুদ্র, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগ শিক্ষকদের একাংশের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘কুরুচিপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগ এনে সমালোচনা করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীরা নারী শিক্ষকদেরকে নিয়ে বিভিন্ন ‘অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করছেন। তবে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি তারা।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ এনে ও এর প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনকালে এ সমালোচনা করেন শিক্ষকদের একাংশ।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে মেডিকেল প্রশাসক অধ্যাপক ড. কবীর হোসেন বলেন, আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হয় না, অথচ তারা শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে চায় না। আমাদের শিক্ষকদের প্রতিনিধিদল তাদের সাথে কথা বলতে গিয়েছিল, কিন্তু তারা আমাদের সাথে কথা বলতে চায়নি। এটা কোনো পথ না, তাদেরকে আলোচনায় বসতে হবে, আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।

শিক্ষার্থী ওপর পুলিশি হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে।  

এদিকে, গণমাধ্যমে সমালোচনা করে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ আরফিন খান বলেন, গত কয়েকদিন একতরফাভাবে গণমাধ্যমগুলো নিউজ প্রকাশ করে গেছে। আমরা যে বিষয়টি সমাধান করতে গিয়েছি তার কোনো সমাধানের রাস্তা আমাদেরকে দেখালেন না। গণমাধ্যমগুলো আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তুলে ধরেছে, নিউজগুলোতে আমাদেরকে শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে দেখানো হয় নাই।

এদিকে, গত শনিবারের ঘটনায় ভুল স্বীকার করে অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ আরফিন বলেন, আমাদের একটা ভুল হয়ে গেছে। আপনারা ভুলটা খতিয়ে না দেখে ভিসির পদত্যাগে চলে গেলেন। একজন ভিসি যাবেন, আরেকজন ভিসি আসবেন। এ সমস্যাগুলো সমাধান করার প্রক্রিয়ায় আসেন। তিন দিনের মধ্যে আমাদের সন্তানদের আন্দোলন দেখে আমরা না পারছি সাস্টিয়ান হিসেবে কিছু বলতে, আবার না পারছি শিক্ষক হিসেবে কিছু বলতে। আমরা কিছুই বলতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় শান্তির রাস্তায় ফিরে আসুক। আমরা আবার ক্লাসে ফিরে যেতে চাই।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষকদের নিয়ে নানা রকম কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলছে। যা একজন শিক্ষার্থীর কাছ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা এমন আচরণ প্রত্যাশা করি না।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাষাভুষা নই যে, আমাদের যা খুশি তাই বলবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সেই বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমরা ২০২২ সালে এসে কেন এ অপমানের শিকার হবো।

আইপিই বিভাগের জাহিদ হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতি নৈতিকতা শেখানো হয় না, নীতি নৈতিকতা স্কুল, কলেজ থেকে শিখে আসতে হয়। যে শিক্ষার্থীরা আজকে শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে তাদের সাথে কিছুদিন পর আমরা কীভাবে ক্লাস করবো? শিক্ষার্থীদের এমন আচরণে আমরা লজ্জিত।

উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে হিমাদ্রী শেখর রায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা প্রশাসনের বিষয়। প্রশাসন বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি।

তবে আন্দোলনকারীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ১০/১৫ জন শিক্ষক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমাদের লজ্জা হচ্ছে যে, শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে মার খেয়েছে এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকরা কোনো কথাই বলেনি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদেরকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন একজন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী বলে সাংবাদিকদের পরিচয় দিয়েছেন। তবে শিক্ষকরা তাকে কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি বলে গেছে যায়।



সাতদিনের সেরা