kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, বাঁচানো গেল না শিশু নাহিমের চোখ

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, বাঁচানো গেল না শিশু নাহিমের চোখ

আবদুল্লাহ আল নাহিম। বয়স মাত্র ১২ বছর। এ বছর অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে সে। বয়সে ছোট হলেও নাহিমের স্বপ্ন বড়।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে। কিন্তু চিকিৎসা করেও বাঁচানো গেল না তারই একটি চোখ। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গত বৃহস্পতিবার বেলুনের গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নাহিমসহ ৪১ জন আহত হয়েছিল।

নাহিমের মামা মোবারক হোসেন মাসুদ বলেন, ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আমরা বৃহস্পতিবার রাতে নাহিমকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আমরা নিজ উদ্যোগে রাতেই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার একটি চোখ আর কখনো প্রতিস্থাপনও করা যাবে না। ’

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণের সময় নাহিমের ডান চোখে দুটি স্প্লিন্টার ঢুকে পড়ে। এতে চোখটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। শুক্রবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে নাহিমের চোখটি বাদ দিতে হয়েছে। তুলে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত।

নাহিমের মা নাজমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর খবর পেলাম আমার ছেলেও সেখানে আহত হয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি নাহিমের চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। রক্তে জামা ভিজে গেছে। আমার ছেলেটার ভবিষ্যৎ নষ্টই হয়ে গেল। ’

নাহিমের বাবা আবদুল হালিম আগে দুবাই ছিলেন। ভিসা বাতিলের কারণে গত ডিসেম্বরে দেশে চলে এসেছেন। এখন তিনি বেকার। আবদুল হালিম বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। এরই মধ্যে ছেলেটার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। আমি সব সময় কষ্ট করেছি, কিন্তু সন্তানদের কখনো কষ্ট করতে দিইনি। ছেলের চিকিৎসার খরচ এখন কিভাবে ব্যবস্থা করব, এ নিয়ে চিন্তায় আছি। ’

এদিকে বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল থেকে গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় আহত আরো ১২ জন কুমিল্লা মেডিক্যালে ভর্তি আছে। এ ছাড়া কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা কমপ্লেক্সে আরো দুজন ভর্তি আছে।   

গতকাল রবিবার দুপুরে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক আরো দুজনকে গতকাল উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি সবার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। তাদের বেশির ভাগের শরীরে স্প্লিন্টার। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় (স্প্লিন্টার) পরিণত হয়ে  মানুষের শরীরে ঢুকে গেছে।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাঙ্গলকোট উপজেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংশপ্তক’। সংগঠনটির সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণে আহত রোগীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি আমরা। তাদের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং ওষুধ, খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ ঢাকা ও কুমিল্লায় সার্বক্ষণিক তাদের পাশে আছি আমরা। কারণ আহতদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। ’

 



সাতদিনের সেরা