kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

ধীরগতিতে চলছে ভোটগ্রহণ, বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি

এস এম আজাদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধীরগতিতে চলছে ভোটগ্রহণ, বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের (নাসিক) ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে। অপরাধের পূর্ব ইতিহাসের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে শঙ্কা থাকলেও পরিবেশ আছে শান্তিপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

তবে ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে সব কেন্দ্রেই।

নারীদের বুথগুলোতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, একজন নারীর ভোটগ্রহণে গড়ে ৩-৪ মিনিট সময় চলে যাচ্ছে। নারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সমস্যা এবং ইভিএমে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে দুপুরেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে যথারীতি ভিড় আছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, বিকেল ৪টার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ করতে পারবেন তারা। কেউ ভোট না দিয়ে ফিরবেন না।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আট নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়ানো কোহিনুর বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি সৈয়দপাড়া থেকে প্রায় এক ঘণ্টা আগে আইসা দাঁড়াইয়া আছি। খুবই আস্তে আস্তে ভোট নিতেছে তারা। '

প্রিজাইডিং অফিসার শামসুল হক বলেন, গৃহস্থালির কাজ করার কারণে নারী ভোটারদের হাতের রেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে ফিঙ্গারিং ঠিকমতো হচ্ছে না, কয়েকবার চেষ্টা করতে হচ্ছে। তা ফিট হতে দেরি হচ্ছে। আবার অনেকে কিভাবে ভোট দিতে হবে তা বুঝতে পারে না, তাদের বুঝিয়ে ভোটগ্রহণ করতে হয়। তিনি জানান, কেন্দ্রটিতে ভোটারের সংখ্যা তিন হাজার ২৯ জন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ১৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

এক নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি পাইনাদী ফাজিল মাদরাসার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, নারীদের দীর্ঘ লাইন। ফাতেমা আক্তার নামে এক নারী বলেন, এখানে লাইন সামনের দিকে আগায় না, তারা মনে হয় ওড়না নিয়ে গল্প করছে। ভোটগ্রহণ কক্ষের ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে, ভেতরেও নারীদের লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।  

সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ ভোট নিয়ে ফেলেছি। নারী ভোটারদের হাতের সমস্যার কারণেই মূলত বেশি দেরি হচ্ছে।  

কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হালিম মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, এখানে কোনো ধরনের ঝামেলা নেই। দুই হাজার ৭৯৮ ভোটের মধ্যে ৯০৪ ভোট গ্রহণ করা হয়ে গেছে। হার ৩২ শতাংশ। এখনো ভোটারদের দীর্ঘ লাইন আছে, এতে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটগ্রহণ করা হয়ে যেতে পারে বলে আশা করছি।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের আকবর আলী হাই স্কুল অ্যান্ড মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ দেখা গেছে। এই  ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল। কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, প্রিজাইডিং অফিসার কোভিদ উদ্দিন চৌধুরীও বুথের সামনে দাঁড়িয়ে নারী ভোটারদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের হার বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ভালো।

এদিকে এক নম্বর ওয়ার্ডের বাতানপাড়া কেন্দ্রে বুথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী ঢুকে যাওয়া নিয়ে হট্টগোল শোনা যায়। এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে কোথাও বিশৃঙ্খলার তথ্য পাওয়া যায়নি।  

একটি কেন্দ্রে মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর নৌকা প্রতীকের এজেন্ট এবং আরেকটি কেন্দ্রে হাতি প্রতীকের তৈমূর আলম খন্দকারের এজেন্ট কিছু সময়ের জন্য দেখা যায়নি। তবে মেয়র শহরের যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা