kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনা শনাক্ত ৪০০০ ছাড়িয়েছে, আরো ছয়জনের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি    

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা শনাক্ত ৪০০০ ছাড়িয়েছে, আরো ছয়জনের মৃত্যু

দেশে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৩৭৮ জনের। এ সময়ের মধ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৯ হাজার ৮৭১ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪.৬৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরো ছয়জনের।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ১৪১ দিন পর দেশে এক দিনে আবার করোনা শনাক্ত চার হাজার ছাড়াল। এর আগে গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয় তিন হাজার ৩৫৯ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল  ১৩.০৩ শতাংশ।

বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশেও কিছুদিন ধরে করোনা রোগী শনাক্ত বাড়ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১২৯ জনের।

দুই সপ্তাহে শনাক্ত ২৩ হাজার ৫০৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, এর আগে গত বছরের ২৬ আগস্ট এক দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছিল চার হাজার ৬৯৮ জনের। এর ১৪১ দিন পর গতকাল এক দিনে চার হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হলো। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৫০৩ জনের।

গত মাসের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্তের হার ১ শতাংশের মধ্যে ছিল। ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। গত মাসের শেষ দিকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৫০০ জনের ঘরে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে গত সোমবার এই সংখ্যা দুই হাজার ছাড়ায়। এক সপ্তাহের মধ্যেই দৈনিক রোগী শনাক্ত চার হাজার ছাড়িয়ে গেল।

আলোচনায় ওমিক্রন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত বুধবার বলেছিলেন, ‘দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত। ’ কিন্তু কিভাবে তিনি নিশ্চিত হলেন বা তথ্য কোথা থেকে এসেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। ওই দিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, সংক্রমণ হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধরে নিতে হবে, নতুন ধরনেই সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।

তবে জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএআইডি) এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কয়েক দিন আগের তথ্য অনুসারে দেশে ওমিক্রনে ৩৩ জনের সংক্রমণই নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংক্রমিতদের মধ্যে ৩০ জনই ঢাকার।  

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে এখন ওমিক্রনের সংক্রমণ চলছে। যে হারে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে, তাকে আমি সামাজিক সংক্রমণ না বলে গণসংক্রমণ বলতে চাই। ’

ওমিক্রন পরীক্ষার বিষয়ে ডা. মোস্তাক বলেন, ‘সব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা সম্ভব নয়। কিছু নমুনার জেনোম সিকোয়েন্সিং করেই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। যশোর  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরীক্ষায় যশোরে তিনজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এদের একজন বাংলাদেশি আর দুজন ভারতীয়। এতে আমরা ধারণা পেতে পারি, শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও ওমিক্রনের সংক্রমণ ঘটছে। কিভাবে ঘটছে, সে সম্পর্কেও ধরাণা পাওয়া যাচ্ছে। ’

আরো ছয়জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও চারজন নারী। এদের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছে। এই ছয়জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, চট্টগ্রামের দুজন এবং রাজশাহীর  একজন। সরকারি হাসপাতালে মারা গেছে পাঁচজন এবং বেসরকারি হাসপাতালে একজন।



সাতদিনের সেরা