kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আবারও মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:০৬ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আবারও মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্ত হতে, কিন্তু এখন দেশে চরম বৈষম্য চলছে যা অতীতের সকল ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে। এজন্য শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইনসাফ নেই, সামাজিক মূল্যবোধ বলতে নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মানুষ এখনও স্বাধীন নয়, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে। এটা স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ সময়ও এদেশের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার ও বাক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আবারও মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

দলের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম-এর সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও  দাওয়াহ বিষয়ষক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম ও নূরুজ্জামান সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ওয়াদুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-আব্দুস সাত্তার সরকার, ক্যাপ্টেন মাওলানা আবুল হাশেম নেত্রকোনা, জিএম কিবরিয়া খুলনা, খালেকুজ্জামান নাটোর, আবুল হোসেন হবিগঞ্জ। একজন সংখ্যালঘু মুক্তিযোদ্ধাসহ জীবিত ও মৃত প্রায় একশত মুক্তিযোদ্ধাকে পীর সাহেব চরমোনাই সম্মাননা প্রদান করেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয় দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করেছিল। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর চেতনার নামে দেশপ্রেমিক ও ইসলামপন্থিদেরকে দাবিয়ে রাখতে বিভক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু নিরাপত্তা এবং সর্বক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আরও একটি সংগ্রাম করার আহ্বান জানান।

মেজর জেনারেল অব. ইবরাহিম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রণাঙ্গণের যোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। কেবলমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়াই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়, বরং মুক্তিযোদ্ধারা যে জন্য সংগ্রাম করেছিল, মানুষের মুক্তির জন্য, নাগরিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, তা আজো প্রতিষ্ঠা হয়নি। মানুষ এখন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্ল্যাটফর্মটি ছিল জাতীয় ঐক্যের, কিন্তু ৭২’ এসে তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।  

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলাম সাংঘর্ষিক নয়, কেননা আমরা যারা যুদ্ধ করেছিলাম ঈমানী চেতনা ও শহীদি তামান্না নিয়েই যুদ্ধ করেছিলাম। এখন চেতনার নামে মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামকে মুখোমুখি দাড় করানোর চেষ্টা যারা করছেন তারা মুক্তিযুদ্ধের ‘মু’ এর অর্থও জানে না। কাজেই আমি মুসলমান আগে, তারপর বাঙ্গালী।

প্রিন্সিপাল মাদানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দস্যুতামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে যুদ্ধ হয়েছিল। ৩০ লাখ শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা পাওয়ার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের পরে নামীয় সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এখন মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিলেবাস থেকে ইসলামী শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। ধর্মহীন জাতি গঠনের চক্রান্ত চলছে। ভোট ডাকাতির সরকার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে।

মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, ইসলামী চেতনাকে বিনাশ করাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। মুক্তিযুদ্ধে আলেম ও ইসলামপন্থিদের অবদানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। মনে রাখতে ইসলামের ভিত্তিতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কাজেই বর্তমানে যারা ভোট ডাকাতি করে, মানুষের উপর জুলুম করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় তাদের মধ্যে পাক হানাদারদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

সংবর্ধনা পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধামোঃ আব্দুল ওয়াদুদ ঢাকা, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সাত্তার সরকার ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাশেম ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুলইসলাম ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআব্দুল গনী ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা পিএম শাহজাহান সরকার ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আবুল হাসেম খাঁন ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআবুল কাশেম গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমিনউদ্দিন খাঁন গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ ভুঁইয়া গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল জলিল ভুঁইয়া গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনির হোসেন সিকদার গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মালেক গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতালেব খাঁন গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুলগফুর গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক খাঁন গাজীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু সিদ্দিক মুন্সিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা মাস্টার মুন্সিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবারক ইসলাম মুন্সিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খলিলুর রহমান মুন্সিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল আলম মাদারীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাহেব আলী হাওলাদার মাদারীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাশেম মাদারীপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুনসুর আলী খুলনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া খুলনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হোসেন হবিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুরুজ আলী হবিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফারুক মিয়া হবিগঞ্জ,বীর মুক্তিযোদ্ধা উমেশ ভৌমিক হবিগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলতাফ হোসেন যশোর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু নসর যশোর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মফিজুল আলম যশোর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআব্দুল হাই ঝালকাঠি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআইনুলহক সিরাজগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ লুৎফুর রহমান নড়াইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুর রহমান নড়াইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম শেখ নড়াইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ এমদাদুল হক খাঁন টাঙ্গাইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন নওগা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাজজাদ হোসেন নওগা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউসুফ বরগুনা,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রইসউদ্দিন ধামরাই, ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এইচ এম মহিউদ্দিন মন্ডল কুড়িগ্রাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এইচ এম সালাহ উদ্দিন কুড়িগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধা মোঃসুফিয়ারখান কুড়িগ্রাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কুষ্টিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুজাফর মোঃসালেহ পটুয়াখালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুলইসলামভুঁইয়া নোয়াখালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমিন উল্লাহ নোয়াখালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মহিউদ্দিনমিঞা বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোঃ আব্দুল করিম হাওলাদার বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রুহুল আমিন খাঁন বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ নেছার উদ্দিন বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুলতান মিয়াজি বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক রাঢ়ী বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সেলিম বেপারী বরিশাল  বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের হাওলাদার বরিশাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাজিদুলইসলাম ভুঁইয়া চাদপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম শেরপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কলিম উদ্দিন বিশ্বাস রাজশাহী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃহাবিবুর রহমান জামালপুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খালেকুজ্জামান নাটোর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারফ হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃআব্দুলহাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মেহেরউদ্দিন মিঁয়া নরসিংদি,  বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জাহাঙ্গির ভুঁইয়া বি-বাড়িয়া, আব্দুর রহমান ধামরাই।



সাতদিনের সেরা