kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরের ৩৭৬টি পদের ২৯০টিই শূন্য

দ্রুত পুরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ সংসদীয় কমিটির

অনলাইন ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরের ৩৭৬টি পদের ২৯০টিই শূন্য

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরে ৩৭৬টি পদের মধ্যে ২৯০টি পদই শূন্য রয়েছে। ওই সকল শুন্যপদ পুরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তদেরর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াহাব। কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কমিটি নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা না রেখে সোজা করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত প্রকল্পগুলোর সচিত্র প্রতিবেদন বই আকারে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, এ পরিদপ্তরটি ১৯৬১ সালে স্থাপিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরের ভারী সরঞ্জামাদি দিয়ে তৈরি করতে শুরু করেন। যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তরটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) সব পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর গেইট ও হোয়েস্টিং সিস্টেম তৈরি স্থাপন এবং সরঞ্জাম দ্বারা ছোট নদী-নালা, খাল-বিল খনন কাজ করে আসছে। খুলনা, গোয়ালপাড়া ১১০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট, ঘোড়াশাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন ও কাপ্তাই হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টের স্পিলওয়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছে।  

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য ৬২৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক সরঞ্জাম (এমই) পরিদপ্তর আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। পরিদপ্তরটির সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া শূন্যপদে নিয়োগ ও পদায়ন অত্যন্ত জরুরি। পরিদপ্তরের অবকাঠামো ও ওয়ার্কশপগুলো প্রায় ৬০ বছরের পুরনো হওয়ায় অনেকগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আলোচনাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দপ্তরগুলো অধিদপ্তর না হওয়ায় কর্মকর্তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বাপাউবোকে অধিদপ্তর করার প্রস্তাব দেওয়া হলে এটি ফেরত দেওয়া হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি থেকে একটি সুপারিশ করলে পুনরায় প্রস্তাবটি পাঠানো যায়।  

বৈঠকে কমিটির সদস্য উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, অন্যান্য দপ্তরের তুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তাদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে রাতদিন সবসময় কাজ করতে হয়। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের সুপারিশ করার অনুরোধ জানান।

আরেক সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, এই পরিদপ্তরের জন্য আধুনিক যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। জনবল না থাকলে যন্ত্র চালানো অসম্ভব।

কমিটির সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে বর্ষা মৌসুমের আগেই জনবল নিয়োগ দেওয়া উচিত। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের কাজের পরিধি ও দক্ষতা অধিক। কিন্তু দুটিতেই কর্মকর্তারা নন-ক্যাডার হওয়ায় থাকতে চান না। বিসিএস ক্যাডার হয়ে অন্য দপ্তরে চলে যান। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন এবং পাউবোকে অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করার সুপারিশ করেন।



সাতদিনের সেরা