kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি

যৌন হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন মুকুট।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট সীমা জহুর, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাজু, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন, মনডিয়াল এফএনভির কনসালট্যান্ট মো. শাহীনুর রহমান, কর্মজীবী নারীর সমন্বয়ক কাজী গুলশান আরা দিপা প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিনামায় বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনবিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন করতে হবে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে প্রদান করা হাইকোর্টের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে ও সমাজে নারী শ্রমিকের যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের নির্দেশনা যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিষ্পত্তি ও বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন মুকুট বলেন, দেশে বিদ্যমান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন’ থাকা সত্ত্বেও কেন কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রয়োজন, সে বিষয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। রায়ে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, কোর্টের এ আদেশ ও নির্দেশনাগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আইন প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত অনুসৃত ও পরিপালিত হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশমতো কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো আইন পাস হয়নি। আবার এ বিষয়ে হাইকোর্টের ১১টি নির্দেশনা দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরকারের প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের আবেদন জানিয়ে নাজমা ইয়াসমীন বলেন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে এই কনভেনশনটি বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত হলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুদৃঢ় করবে, তেমনি বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে। সে জন্য প্রয়োজনে এই কনভেনশনটি যথাযথ পর্যালোচনা করে অনুস্বাক্ষরের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা