kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মতবিনিময় সভায় বিশিষ্টজনরা

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় দরকার দক্ষ প্যারামেডিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় দরকার দক্ষ প্যারামেডিক

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারামেডিক। কমিউনিটি প্যারামেডিকরা মাধ্যমিক (এসএসসি) পাসের পরে দুই বছরের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। দেশের বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকে এসব প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) স্বাস্থ্যবিষয়ক ১২টি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানোন্নয়নে দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিকস এর গুরুত্ব’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশে অবস্থিত সুইসকনট্যাক্ট-এর একটি প্রকল্প অ্যাচিভিং সাসটেইনেবিলিটি টুওয়ার্ডস হেলথকেয়ার একসেস (আস্থা)।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আস্থা-এর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দেশের ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামো, লোকবল বাড়িয়ে নতুন মডেল পাস করানো হয়েছে। এখন প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোকবল। বর্তমানে যারা কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আছেন, তারা উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিন মাসের প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। তিন মাসের এই প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণ ভালো হলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত সহজ হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ পাওয়া কমিউনিটি প্যারামেডিকদের দক্ষতাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই প্যারামেডিকদের কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরির সুযোগ দিতে হবে। এসব ক্লিনিকে প্যারামেডিকদের নিয়োগ দেওয়া হলে তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।  

তিনি আরো জানান, সরকার গত দশ বছরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু হ্রাসসহ বেশ কয়েক খাতে উন্নয়ন করেছে। ইতোমধ্যে ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এমডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনও করবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের কমিউনিটি ক্লিনিকে যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এতে স্বাগত বক্তব্যে আস্থার সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ডা. জাফর আহমেদ হাকিম বলেন, ‘দেশের তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দক্ষ লোকবলের অপ্রতুলতা লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে, গ্রামীণ জনপদে দক্ষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে তাদেরকে অদক্ষ সেবাদানকারীর ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। এর অবস্থার উত্তরণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিকসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাই সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিকসের গুরুত্ব আপনাদের লেখার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী প্রচার পাক এটিই আমাদের উদ্দেশ্য। ’

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় ও সহযোগিতায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এসডিজি অর্জন সহজ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংস্থার আরেকজন সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবায় দাতার সংকট রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ২০১১ সালে কমিউনিটি প্যারামেডিক কোর্স চালু হয়। বর্তমানে দেশের ২৭টি ইনস্টিটিউটে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিশু মৃত্যু ও মাতৃ মৃত্যু হ্রাস করা গেলেও নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা এখনও কমানো সম্ভব হয়নি। তিন মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিএইচসিপি এর দক্ষ হাতে প্রসব করানো সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সভা শেষে তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় কেন দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিকস প্রয়োজন এবং তৃণমূলের জনগণ কেন তাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করবে তার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।



সাতদিনের সেরা