kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কনডেনসেট আমদানির অনুমোদন পেল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কনডেনসেট আমদানির অনুমোদন পেল বিপিসি

দেশে বিভিন্ন জেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টের জন্য কাঁচামাল বা কনডেনসেট আমদানির অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি আমদানিকৃত কনডেনসেট এসব প্লান্টে সরবরাহ করবে। কনডেনসেট পরিশোধনের পর ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোতে উৎপন্ন হওয়া জ্বালানি পণ্য পূনরায় কিনে নেবে বিপিসি। দীর্ঘদিন ধরে কনডেনসেট বা কাঁচামালের অভাবে বন্ধ রয়েছে ১২টি বেসরকারি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট।

বিজ্ঞাপন

 

তবে এক্ষেত্রে বড় অংকের আর্থিক বিষয়াদি জড়িত থাকায় ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টের উৎপাদিত জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত কমিটি ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত সোমবার এ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তরা জানান, দেশে বেসরকারি ১২টি এবং সরকারি ৩টি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি সিআরইউ (ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট) প্লান্ট রয়েছে। বাকিগুলো নন সিআরইউ প্লান্ট। ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোতে কনডেনসেট পরিশোধন করে উৎপাদন হবে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, এমটিটি ও ফার্নেস অয়েল।

কনডেনসেট আমাদানি প্রসঙ্গে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মেহিদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, এতদিন কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোতে বিএসটিআই’র মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে পারতো না। তাই কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোতে কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট মালিকদের সংগঠন থেকে ডিজেল রিষ্ট কনডেনসেট আমদানির দাবি জানানো হয়। সেই মোতাবেক আামরা বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানাই। বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়ে কনডেনসেট এবং ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন দিল।  

তিনি আরো বলেন, কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলো উৎপাদিত জ্বালানি পণ্য মানসম্পন্ন হলে বিপিসি তা কিনে নেবে। কি পরিমাণ কনডেনসেট প্লান্টগুলোর প্রয়োজন তা ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারন করা হবে।  

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টের পাশাপাশি বেসরকারি রিফাইনারির জন্য ক্রুড অয়েলও আমদানি করতে পারবে বিপিসি। তবে এ দুই ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আমদানিকৃত কাঁচামালের মূল্য নির্ধারণ করবে বিপিসি। রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটিই কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল আমদানির বার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। সিআরইউ, নন-সিআরইউ প্লান্ট এবং রিফাইনারিগুলোর মজুদ ক্ষমতা, উৎপাদিত জ্বালানি পণ্য ব্যবহারের সক্ষমতা বিবেচনায় এ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সিআরইউ প্লান্ট ও রিফাইনারির জন্য বিপিসি প্লান্ট উপযোগী কনডেনসেট আমদানির পাশাপাশি নন সিআরইউ প্লান্টের জন্য নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কনডেনসেট আমদানি করে সরবরাহ করবে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, এছাড়া যেসব প্লান্ট বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী জ্বালানি তেল উৎপাদনে সক্ষম শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বিপিসির কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা কনডেনসেট ও ক্রুড অয়েল সরবরাহ করার বাধ্য বাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল সরবরাহের পর ইয়েল্ডপ্যাটার্ন অনুযায়ী উৎপন্ন পণ্য বিপিসি গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে কোনো ক্রমেই পণ্য বিপিসির অনুমতি ছাড়া রপ্তানি বা খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ভেজাল রোধে কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল প্লান্টে ব্যবহার ছাড়া গ্রাহকের কাছে সরাসরি না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে দেশের গ্যাসফিল্ড থেকে কনডেনসেটের প্রাপ্যতা প্রতিনিয়ত কমছে। চলতি বছরে যার পরিমাণ দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেলের নিচে নেমেছে। এছাড়া সিলেট গ্যাস ফিল্ডের সিআরইউ ইউনিট চালু হলে বর্তমানে উৎপাদিত কনডেনসেটের অধিকাংশই শুধু সরকারি প্লান্টে ব্যবহার হবে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে বিপিসির পক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে চারটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এতে দেশে কাঁচামাল হিসেবে কনডেনসেট আমদানি করে তার থেকে জ্বালানি তৈরির ব্যাপারে যুক্তি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও লার্ক পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার সাহাদাত সাদী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিপিসি কনডেনসেট আমদানির অনুমতি পাওয়ায় আমাদের প্লান্টগুলো চালু করার আশা জেগেছে। কনডেনসেটের অভাব এবং মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দীর্ঘদিন আমাদের প্লান্টগুলো বন্ধ রেখেছে সরকার। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহুল ভারি যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঋণের দায়ে জর্জরিত আমরা।

প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলো হলো- পিএইচপি পেট্রো রিফাইনারি, সুপার রিফাইনারি, ইউনিভার্সেল রিফাইনারি (প্রা.), অ্যাকোয়া মিনারেল টারপেনটাইন অ্যান্ড সলভেন্টস প্লান্টস, সিনথেটিক রেজিন প্রডাক্টস (প্রা.), জেবি রিফাইনারি, রূপসা ট্যাংক টার্মিনালস অ্যান্ড রিফাইনারি, লার্ক পেট্রোলিয়াম কম্পানি, গোল্ডেন কনডেনসেট অয়েল রিফাইনারি ফ্যাক্টরি, চৌধুরী রিফাইনারি ও কার্বন হোল্ডিংস।  



সাতদিনের সেরা