kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

'পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে'

তিন পার্বত্য জেলায় প্রতিনিধিত্বশীল বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা বলেছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। যে কারণে এখনো ভূমি বিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়নি। তাই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর : ভূমি নিষ্পত্তির অগ্রগতি ও প্রতিকার’ শীর্ষক বৈঠকে তারা এ দাবি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রফেসর মং সান চৌধুরী, উন্নয়ন কর্মী প্রভা রানী বাড়ৈ প্রমূখ। মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, পাহাড়ের জনগণ শান্তিতে নেই। শান্তির জন্য চুক্তি হলেও সেখানকার মানুষ অশান্তিতে আছে। সেখানে জনসংখ্যার সমীকরণ বদলে গেছে। সেটেলারদের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করলেও সেখানে সামরিকীকরণ বহাল রয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আবার যাদের ওপরে চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারাই এ থেকে সরে যাচ্ছে। এই অবস্থায় পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্য চুক্তির অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়, সেই কাজগুলো অগুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি বাস্তবায়নের ফলাফল পাওয়ার বিষয় থেকে আমরা অনেক দূরে। আমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অনেক কাজ করতে হবে, অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। শুরুতে চুক্তি বাস্তবায়ন করা যতটা সহজ ছিল, এখন ততোটা সহজ নেই। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগষ্ঠীর অনুপাত বদলে গেছে।

তিনি বলেন, পাহাড়িরা বিচ্ছিন্নবাদী নয়। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে সেটা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

চুক্তি বাস্তবায়ন বারবার বাধার সম্মুখীন হয়েছে উল্লেখ করে মানিবাধিকার কর্মী খুশী কবির বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের যে সমস্যা, এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা। ওই সমস্যা সমাধানে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তি চুক্তি হয়নি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের সঙ্গে গোষ্ঠির চুক্তি হয়েছিলো। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে যতদিন পর্যন্ত জাতিগতভাবে কাজ না করতে পারব, ততদিন পর্যন্ত এটা কিনারে পড়ে থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হলেই ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মূল প্রবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গৌতম দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চুক্তিকে অর্থবহ করতে পার্বত্য চুক্তির আলোকে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হবে। পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন দিতে হবে। চুক্তিতে প্রতিশ্রুত মৌলিক বিষয়গুলো পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অভ্যন্তরীণ ও ভারত থেকে প্রত্যাগত শরণার্থীদের চুক্তির শর্তানুসারে পুনর্বাসন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা