kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জন্মদিনের আলোচনায় বক্তারা

'শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



'শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন'

শেখ ফজলুল হক মনি স্বাধীনতার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা শুধু বাস্তবায়িত করেন নাই, এটাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি কারান্তরীণ হওয়ার আগে চারণের বেশে সারাদেশ ঘুরে ছয় দফাকে জনগণের অন্তরে গ্রথিত করেছেন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির ৮৩তম জন্মদিনের আলোচনায় এমনটাই বলেছেন বক্তারা।

আজ শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে “শেখ ফজলুল হক মণি; সৃষ্টিশীল তারুণ্যের প্রতীক” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা শুধু বাস্তবায়িত করেন নাই। এটাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ মণি ভাই। তিনি কারান্তরীণ হওয়ার আগে চারণের বেশে সারাদেশ ঘুরে ছয় দফাকে জনগণের অন্তরে গ্রথিত করেছেন। ছয় দফাকে কেন্দ্র করে মনি ভাই হরতাল পালন করেন। সেই হরতালকে সফল করেছেন নারায়ণগঞ্জের আদমজীর শ্রমিক ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সমন্বয়ে, এই সন্বয়ের মূল কারিগর ছিলেন মণি ভাই। মনি ভাইয়ের একটি সম্মোহনী গুণ ছিল। সেটা হলো যদি কোনো শ্রোতা তার বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করতেন, সেই শ্রোতাকেও তার বক্তব্য দ্বারা তার দিকে টেনে নিতেন। এটা তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকেই শিখে ছিলেন। মণি ভাইয়ের হাত আর কলম সমান তালে চলত যা অন্য কারও নেতৃত্বের মাঝে দেখি নাই।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল দিতেন, ভারতে উপস্থিত শরণার্থীদের পাশে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সান্তনা দিতেন। তিনি তরুণ সমাজকে, যুবসমাজকে স্বাধীনতার জন্য, যুদ্ধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, আমার প্রিয় যুবলীগের ভাই ও বোনেরা আপনাদের নেতা, শেখ ফজলুল হক মণি আমার বাবা। বাবাকে আমরা খুক কম পেয়েছি। আমি মাত্র ৫ বছর ছিলাম যখন আমার বাবা, শেখ ফজলুল হক মণিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে হত্যা করা হয়েছিল। বাবা আমাদের সাথে খুবই বন্ধুসুলভ ছিলেন। আমাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেতেন। স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলি। বাবার যেই বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়, সেটা হলো বাবার কর্ম ও বাবার মমত্ববোধ। তিনি আত্মকেন্দ্রিক রাজনীবিদ ছিলেন না, নেতাকর্মীদের প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম মমত্ববোধ ও দরদ। একজন কর্মী মারা যাওয়ায় আমি বাবাকে শিশুর মতো কাঁদতে দেখেছি। বাবার কর্ম আজো বেচে আছে বাবার লক্ষ্য রাজনৈতিক অনুসারীদের মাঝে। বাবার প্রতি তাঁদের যেই ভালোবাসা আর সম্মানবোধ সেটা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

তিনি আরও বলেন, শেখ মণির রাজনৈতিক পরিচয় আপনাদের জানা। শেখ মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করে যুবসমাজকে সংগঠিত করে বঙ্গবন্ধুর দেশ গড়ার কাজে নিয়জিত করে একটা সুখী, সমৃদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করার স্বপ্ন দেখে ছিলেন। স্বল্প উন্নত রাষ্ট্র থেকে আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে। আমাদের চিহ্নিত করতে হবে আগামীর সংগ্রাম কি, প্রতিকূলতা কি। চিহ্নিত করতে হবে সেই সংগ্রামের ধরণ কি; প্রতিকূলতার বৈশিষ্ট কি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়েছেন। বাংলাদেশ আজ জাতীসংঘের অনুমোদণে স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিন-রাত পরিশ্রমের কারণে। তাই আমাদের সংগ্রামটা এখন ভিন্ন রকম। আমাদের আগামীর সংগ্রাম হবে একটা ন্যায়-পরায়ণ, মানবিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, মেধাভিত্তিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যে আমাদের কি কি করণীয়? প্রথমে ধরি ন্যায়-পরায়ণ সমাজ গঠনে কি করণীয় এবং কি উপকারিতা? ন্যায়-পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা গঠনে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে, সাফল্যের পথ খুঁজলে হবে না। সাফল্য অর্জন করতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। কাকে ডিঙ্গাইয়া কোথায় উঠবো এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। যোগ্যতা আর দক্ষতা থাকলে কাউকে ডিঙ্গানোর প্রয়োজন হবে না। যোগ্যতাই সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দিবে। কাউকে ঘুষ, বা তদবির করা দরকার পরবে না। কোনো বড় ভাইয়েরও দরকার হবে না। কোথাও ধর্নাও দিতে হবে না। যেকোনো উন্নত-সভ্য সমাজ সৃষ্টিতে ন্যায়পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা পূর্বশর্তে। এটাই সুশাসন কায়েম করার অন্যতম পন্থা।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,  শেখ ফজলুল হক মনি শুধু ব্যক্তি নয়, একজন প্রতিষ্ঠানও বটে। বঙ্গবন্ধুর পরে এদেশের বিখ্যাত নেতাদের মধ্যে শেখ মণি আবির্ভূত হতেন। নেত্রী শেখ হাসিনা আসতেন ক্রমান্বয়ে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতে আপনারা শেখ হাসিনার পাশে থাকবেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর পরে অনেকেই রাস্তায় ছিলেন না। কিন্তু আমরা ছিলাম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মামুনুর রশীদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, ডা. খালেদ শওকত আলী, শেখ ফজলে ফাহিম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, এমপি, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নবী নেওয়াজ, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ইঞ্জি. মৃণাল কান্তি জোদ্দার, তাজ উদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ ম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা. বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, আবু মুনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।

আজ ৪ ডিসেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮৩তম জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মণিসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।



সাতদিনের সেরা