kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আট বছর আগে মেলে স্বীকৃতি

৫০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অংশ এখন জীবনসায়াহ্নে। তাঁদের মধ্য থেকে ৮০ বছর পেরিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা

সৈয়দ মেহেদী হাসান ডামুড্যা (শরীয়তপুর)    

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আট বছর আগে মেলে স্বীকৃতি

আবদুল খালেক

‘কেমন আছেন’, জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নির্বাক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক বেপারী। তারপর বলেন, ‘ভালোই আছি। তবে কষ্টের সাগর পাড়ি দিচ্ছি। এখনো বইতে হচ্ছে ঋণের বোঝা।

বিজ্ঞাপন

অনেক দিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আনুষ্ঠানিক সম্মান পাননি। মাত্র আট বছর আগে মেলে স্বীকৃতি। তত দিন চলেছে কঠিন সংগ্রাম। তবে মনে খেদ নেই কোনো। ‘যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য। কিছু পাওয়ার জন্য না। সরকারি ভাতা ছাড়া কোনো কিছুই চাই না’, কালের কণ্ঠকে বললেন আব্দুল খালেক বেপারী।  

একাত্তরে আব্দুল খালেক বেপারী ছিলেন ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদস্য। ৯ মাস ধরে যুদ্ধ করেও তাঁর সংগ্রাম শেষ হয়নি। বিজয়ের পরও কাজ করে যান দেশের সীমান্ত রক্ষায়। তিন বছর পর ছুটিতে এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

১৯৪১ সালের ৫ জানুয়ারি ডামুড্যা উপজেলায় জন্ম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের। অর্থাৎ বয়স ৮০ পেরিয়েছে। ১৯৬১ সালে ইপিআরে যোগ দেন তিনি।

স্বাধীনতার ৫০ বছর হলো। কী চাওয়া আছে আপনার, জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা খালেক বেপারী বলেন, ‘জীবনের শেষ চাওয়া প্রতিটি উপজেলায় যারা যুদ্ধ করেছে তাদের নামসংবলিত ফলক স্থাপন করা হোক। আর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বন্ধু হিসেবে পাশে থেকে লড়াই করেছে ভারতীয় সৈনিকরা। তাদের মধ্যে যারা আমাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে তাদের নামেও ফলকে থাক। ’

যুদ্ধে যোগ দেওয়ার স্মৃতিচারণা করে মুক্তিযোদ্ধা খালেক বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর ক্যাম্পের গ্যারেজ ডিউটিতে ছিলেন। রাত ২টার দিকে আইয়ুব নামের এক কর্মকর্তা তাঁকে ঢাকায় গণহত্যার খবর দেন। আরো বলেন, যুদ্ধ লেগে গেছে। বাংলাদেশের পক্ষে যারা আছে তারা রেডি হও। তবে প্রতিদিনের মতো ২৬ মার্চ সকালে পাকিস্তানি পতাকা উঠানো হলো। সকাল ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা লোকজন নিয়ে তাঁদের ক্যাম্পের পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন সাদেককে ধরে নিয়ে যান। ইপিআর সদস্যরা সেখানেই অবস্থান নিলেন। ৩০ তারিখ তাঁরা কুষ্টিয়া আক্রমণ করেন। একে একে পুলিশ লাইন, সার্কিট হাউস, ওয়্যারলেস কলোনিতে পাকিস্তানিদের ওপর আক্রমণ চালান তাঁরা। ৫০০ ইপিআর ও তিনজন সামরিক অফিসার নিয়ে আক্রমণ করে ইপিআর। এতে পাকিস্তানি পক্ষের ৩০০-এর বেশি সেনা নিহত হয়। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধবিমান তাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। তখন নির্দেশনা এলো মেহেরপুর যেতে হবে। সেখানে বাংলাদেশের নেতাদের সালাম দিতে হবে। ’

দুঃখ করে খালেক জানান, ইউনিফর্মের অবস্থা ভালো না থাকায় তাঁর সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। পরে বেনাপোল সীমান্ত অঞ্চলে ১০ দিনব্যাপী প্রচণ্ড মর্টার যুদ্ধে অংশ নেন। সৈনিকসহ অনেক নাম না জানা মানুষ সেখানে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের একসঙ্গে কবরও দিয়েছিলেন।

১৪ ডিসেম্বর শেষ যুদ্ধের পর পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির খবর পেয়ে যশোর সার্কিট হাউসে অবস্থান নেয় খালেক বেপারীর ইউনিট। ১৭ ডিসেম্বর তাঁদের ক্যাপ্টেন সিদ্দিক আহত হন। খালেক নির্দেশনা মতো নড়াইল থেকে তাঁকে যশোর নিয়ে এসে ভারতীয় বিমানে উঠিয়ে দেন চিকিৎসার জন্য। যুদ্ধের সব দায়িত্ব শেষ হয় তাঁর। এর পর তাঁকে পাঠানো হয় সীমান্তে চাকরির জন্য। আমার বস বলেছিলেন, ‘এখন দেশকে রক্ষা করতে হবে। তাই সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ’

তিন বছর পর ছুটি মেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকের। শুরু হয় নতুন জীবনের যুদ্ধ।



সাতদিনের সেরা