kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা

হায়দার মোহাম্মদ জিতু   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০২:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা

বাণিজ্যিক পসরা সাজানোর পরিণত হয়েছে বাঙালির গৌরবের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সীমানাজুড়ে। একে কেন্দ্র করে খুচরা এবং মুখরোচক ব্যবসা এমনভাবে জড়িয়েছে যে ক্ষেত্র বিশেষে তা লজ্জাকর। এর বাইরে আবার আরেক উপদ্রব জুড়েছে কথিত মাজার কাঠামো। অথচ জাতীয় এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সব অপস্থাপনা এবং চিন্তা সম্মিলিত উদ্যোগে সরিয়ে ফেলা উচিত।

বিজ্ঞাপন

আহমদ ছফা বাঙালি মুসলমানের মন নিরীক্ষণে বলেছেন, বাঙালি মুসলমানের মন অশ্বখুরাকৃতির মতো। যেকোনো বিষয়েই এরা দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। কিন্তু এটা মনে রাখা জরুরি, এখনকার প্রজন্ম চৌকস এবং মুক্তবুদ্ধিমুখী। কাজেই কোন বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন এটা সঠিক সময়ে বুঝতে না পারলে দ্রুতগতির সভ্যতায় অনেকেই তাঁদের আবেদন হারাবেন এবং এটা অবশ্যম্ভাবী।

বহু বছর আগে বিজ্ঞানী ডারউইন জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কিংবা যুগোপযোগী হয়ে ওঠারাই টিকে থাকবেন। সে হিসেবে এখানকার রাজনৈতিক পক্ষ, প্রতিপক্ষগুলোর বুঝে উঠতে হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে নয়। বরং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ও একে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উত্থাপন করার মানস নিয়েই আগামী দিনের রাজনৈতিক ম্যান্ডেট সাজাতে হবে। সেটা সরকার ও বিরোধী পক্ষ দুই শ্রেণিকেই। অন্যথায় ডাইনোসরের মতো ভাগ্য বিপর্যয় আসন্ন।

এসব বুঝে জাতির ইতিহাস ও স্থাপনাগুলোকে ‘সংরক্ষণ-সম্মানে’ সর্বজনীনভাবে রক্ষাকবচ হয়ে ওঠার আগ্রহ জাগ্রত করতে হবে। বাঙালির জাত্যভিমান সূর্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে কথিত নৈরাজ্যমূলক বাজার সংস্কৃতি ও মিথ্যা মাজারকেন্দ্রিক মাদকতা, যৌনতার মতো অশ্লীলতাকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। পাশাপাশি অনুসন্ধান করতে হবে উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও কাদের প্রশ্রয়ে এটা আবার গজে ওঠার পথে হাঁটছে।

এ ক্ষেত্রে মুক্তির সংগ্রামে জাতিকে পথ দেখানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব অনেক। অবশ্য সেটা তারা এরই মধ্যে বারবার পালনও করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বিষয়টিকে সামনে এনে আদালত পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন ও অযাচিত ইট-সুরকির এই ঘরকে সরিয়ে ফেলার আদেশ নিয়ে এসেছিলেন।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস নিরীক্ষণে দেখা যায়, অতীতেও এর শিক্ষকরা যৌক্তিক বিষয়গুলোকে সামনে এনেছেন, লড়াই করেছেন। তাঁদের সাহস জুগিয়েছেন ছাত্রসংগঠনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের। বয়সের ধারাবাহিকতায় সেসব প্রজ্ঞাবান গুরুজনরা জীবনঘড়ির ক্লান্ত পথিক। তাই সময়ের সাহস এই তারুণ্যের কাঁধেই নিতে হবে। জাতির জাতীয় স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় শিক্ষকদের কণ্ঠ তুলতে হবে।

কারণ এমন মানুষেরা এগিয়ে এলে এই বিষয়গুলোকে কেউ সাম্প্রদায়িকতার আগুনে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পাশে আরো সাহস জোগাতে হবে সব মুক্তবুদ্ধির মানুষ এবং জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকেও। এসব করতে পারলে শহীদ মিনার থেকে শুরু করে স্মৃতিসৌধ—সব জাতীয় স্থাপনাগুলো দিবসকেন্দ্রিক উদযাপন ও রক্ষণার সীমানা পেরিয়ে সব সময়ের জন্য শুদ্ধতা ও গাম্ভীর্য ধরে রাখতে পারবে। সঙ্গে বন্ধ হবে এসব স্থাপনার আশপাশে গড়ে ওঠা মাদক সেবন, বিক্রিসহ সব অপকর্ম।

সময়ের বিবেচনায় এ সবই এখন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অনুভূতিসমৃদ্ধ বিষয়গুলোকে ধারণ করে কারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং কিভাবে তা মোকাবেলা করে—এগুলোই হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক যোগ্যতার মার্কশিট। এর ওপর ভিত্তি করেই দায়িত্ব পাবে নতুন নেতৃত্ব হালনাগাদ। কাজেই শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি।

লেখক : প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ
[email protected]



সাতদিনের সেরা