kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিজয় দিবসের বিশালতা উপলব্ধি করতে হবে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিজয় দিবসের বিশালতা উপলব্ধি করতে হবে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী  আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।  

তিনি আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘পথে পথে বিজয়’ শিরোনামে আঞ্চলিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। সমাবেশের শুরুতেই উপস্থিত অতিথি ও দর্শকশ্রোতারা জাতীয় সঙ্গীতে কন্ঠ মেলান।

মন্ত্রী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো ও তাদের সম্মান প্রদর্শন করা, যুদ্ধের অসাধারণ গল্পগুলো উপভোগ করা, তরুণদের যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

সবাইকে এই বিজয় দিবসের বিশালতা উপলব্ধি করানো এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী দেশব্যাপী উদ্যাপন করার লক্ষ্যে এই আয়োজন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীরনিবাস নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা মাসিক ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মন্ত্রী এ সময় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

বিজয়ের গল্পগুলো রোমন্থন করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের এক অংশে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সংগ্রামের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। পাশাপাশি মহাসমাবেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। ‘পথে পথে বিজয়’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক মৌলিক গান পরিবেশিত হয়। এরপর সুধীজন সম্মাননা, সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই আয়োজন আরো উপভোগ্য হয়ে ওঠে। সবশেষে মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে, পঞ্চগড়ে আয়োজিত  ‘পথে পথে বিজয়’ শিরোনামের আঞ্চলিক  সমাবেশ শেষ হয়।

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপনের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি  ৫০টি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে একটি কর্মসূচি হলো ‘পথে পথে বিজয়' শিরোনামে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত্রুমুক্ত হবার দিনে আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ। গত শুক্রবার দিনাজপুরে উপ-আঞ্চলিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শুরু হয়। সর্বমোট ৭টি আঞ্চলিক ও ১৪টি উপ-আঞ্চলিক এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চগড় স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন করে ২৯  নভেম্বর।

আগামী ৬ ডিসেম্বর যশোরে, গোপালগঞ্জে ৭ ডিসেম্বর, কুমিল্লায় ৮ ডিসেম্বর, জামালপুরে ১১ ডিসেম্বর, কক্সবাজারে ১২ ডিসেম্বর এবং সিলেটে ১৫ ডিসেম্বর আঞ্চলিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চলেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেবেন।   

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুনসহ পঞ্চগড়ের পাশের জেলাগুলো থেকে আগত এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা