kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পার্বত্য চুক্তির দুই যুগ পূর্তির আলোচনাসভা

সরকারের কাছে এখন আমি ও জেএসএস সন্ত্রাসী : সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারের কাছে এখন আমি ও জেএসএস সন্ত্রাসী : সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেজেএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে আমি সরকারকে সহযোগিতা করেছি। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি সেই সহযোগিতা দিয়েছি। কিন্তু চুক্তির ২৪ বছর পর মনে হচ্ছে, চুক্তি করে আমি অপরাধ করেছি। আমাকে ও জেএসএসকে এখন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং-এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল ও অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সাংবাদিক সোহরাব হাসান, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিষ্টার সারা হোসেন ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, মেইনথেইন প্রমিলা প্রমুখ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের একটি বৃহত্তর কারাগারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করে সভায় সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ দু’টি পক্ষ। একটি পক্ষ পাহাড়ের নিরীহ মানুষ, যারা চুক্তির বাস্তবায়ন চায়। আরেকটি পক্ষ সরকার ও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ। জনসংহতি সমিতি চুক্তির আলোকে প্রণীত আইনগুলোর বাস্তবায়ন চায়। কিন্তু তা বাস্তবায়নের অবস্থা হতাশাব্যঞ্জক।  

তিনি বলেন, সরকার আজ জনসংহতি সমিতিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করে নেতা-কর্মীদের নানাভাবে দমন-পীড়ন করছে। অনেক নেতা-কর্মীকে মামলা দিয়ে, হামলা করে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। বহিরাগত যে গরিব বাঙালিদের জিয়াউর রহমান নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমা বলেন, যে সরকারের আমলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, গত ২৪ বছরে অধিকাংশ সময় সেই সরকারই ক্ষমতায় আছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থেমে আছে। পার্বত্য সমস্যা চিহ্নিত হলেও চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তার সমাধান হয়নি। আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য? তিনি আরো বলেন, পার্বত্য সমস্যা একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক সমস্যা, সেহেতু এটি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আবারো জোর দাবি জানান তিনি।

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর পর চুক্তি নিয়ে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, তা আজ নেই। জিয়াউর রহমান যখন চরভাঙা গরিব বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখন তরুণ সংসদ সদস্য হিসেবে বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পর্যটনের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে ফাইভ স্টার হোটেল হচ্ছে। পাহাড়িদের ভূমির অধিকার লঙ্ঘন করে এসব কাজ চলছে।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, পার্বত্য চুক্তির দুই যুগ পূর্তি আজ বিষাদ, বেদনার সঙ্গে পালন করতে হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের একটি কলোনি হিসেবে দেখছি আমি। উপনিবেশ হিসেবেই পাহাড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়কে উপনিবেশ নয়, সরকারি ভাষায় উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু ২৪ বছরেও বাস্তবে তা হয়নি।

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা শান্তি চেয়েছিলাম বলেই চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্ততঃ শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে, ন্যূনতম তাও বলতে পারি না। উল্টো একতরফাভাবে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। আদিবাসী মানুষের আদি জীবিকার ওপরও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাদের সমাজ, সংস্কৃতি, পেশা, অর্থনীতি সবকিছুর ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা