kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও বাংলাদেশের রাজনীতি

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০২:৫৮ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও বাংলাদেশের রাজনীতি

রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানুষের জীবন, কোথাও কিছুই হঠাৎ করে ঘটে যায় না। আমাদের মতো নির্বোধ মানুষের কাছে অ্যাকসিডেন্ট বা দুর্ঘটনাকে দৈব্য অভিশাপ মনে হয়। কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আসলে অ্যাকসিডেন্ট বলে কিছু নেই। সব ঘটনা ও দুর্ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এবং ক্ষেত্রভেদে ছোট, বড় বা দীর্ঘ প্রেক্ষাপট থাকে। পার্বত্য অঞ্চলের অশান্তি এবং শান্তিচুক্তি কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অশান্তির প্রেক্ষাপট আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। কারণ এই প্রেক্ষাপট তৈরির উপাদান এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে প্রবলভাবে বিদ্যমান। আবার শান্তিচুক্তির প্রেক্ষাপট এবং তার সুফল উপলব্ধি করতে হবে, যাতে সেটি রক্ষা করার জন্য সমগ্র জাতি, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারি।

প্রথমে অশান্তির প্রেক্ষাপট এবং তার কুশীলবদের কথা বলি। ভ্রান্ত ও বেদনাদায়ক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ দ্বিখণ্ডিত হলে আমরা পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেলাম। মাতৃভূমি খণ্ডিত হওয়ার পরিণতিতে হিন্দু, মুসলমান দুই সম্প্রদায়েরই মানবসন্তানের তীব্র রক্তক্ষরণের গভীর ক্ষত এবং লাখ লাখ ভাসমান মানুষের মহাবিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তা এখনো স্থায়ীরূপে বিদ্যমান। উপমহাদেশের দেশগুলোর মানুষের মধ্যে রক্তের বন্ধন, ঐতিহাসিক ও জাতিসত্তার গভীর সম্পর্ক এবং সংযোগ থাকা সত্ত্বেও রক্তক্ষরণ ও বিদ্বেষ থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ১৯৪৭ সাল থেকেই ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের শত্রু হিসেবে পাশাপাশি অবস্থান করছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এ পর্যন্ত চারবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হয়ে গেছে। জন্মগত বৈরী সম্পর্কের পরম্পরায় গত শতকের ষাট দশকের শুরু থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন জঙ্গলে মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ভারতের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উত্খাত করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর সরকার ঘোষণা করে, অন্য দেশের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ঘোষণা অনুযায়ী কাজও হয়। ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতি আবার পাকিস্তানি আমলের অবস্থায় চলে যায়। পঁচাত্তরের রক্তাক্ত পথ ধরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান দুটি কাজ করলেন, যা পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হওয়ার মূল কারণ হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছে। প্রথমত, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার সব ব্যবস্থা করে দেন। এবার বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে আইএসআই পাকিস্তান আমলের চেয়েও বৃহৎ আকারে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া শুরু করে। দ্বিতীয় যে কাজটি জিয়াউর রহমান করেন তা হলো, বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে আগ্রহী বাঙালিদের নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করেন। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি তার সশস্ত্র শাখা শান্তি বাহিনীকে সক্রিয় করে। কয়েক হাজার উপজাতি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। সংগত কারণেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইমার্জেন্সি অর্থাৎ শান্তি বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তার পর থেকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বৃদ্ধি পায় শান্তি বাহিনীর তৎপরতা।

এখানে যে কথাটি তাৎপর্যপূর্ণ, পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষায় তখন ভারতীয় বিদ্রোহীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় দেওয়ার কারণেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শান্তি বাহিনীও ভারতের আশ্রয় পায়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের যদি পঁচাত্তরের পর জিয়া সরকার আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিত (তাও পাকিস্তানের স্বার্থে) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি যদি বজায় রাখত, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনী কখনো সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগই পেত না। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষরণে বাংলাদেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হবে না। ২১ বছরের অশান্তিতে উপজাতি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তার সঙ্গে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য আহত-নিহত হয়েছেন। কিন্তু এমন নয় যে এটি বাংলাদেশের স্বার্থে হয়েছে, পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে আমরা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছি, এমন উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টিও পাওয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের আমলে শুধু দ্বিজাতিতত্ত্বের আত্মঘাতী নীতিতে একাত্তরের গণহত্যাকারী পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করতেই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে আমাদের জড়িয়ে পড়তে হয়। জিয়াউর রহমানের সময় এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের কোনো চেষ্টাই হয়নি, বরং এর তীব্রতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এরশাদ আমলের শেষের দিকে এবং ১৯৯১-১৯৯৬, বিএনপির প্রথম মেয়াদে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত কোনো ফল দেয়নি।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৯৬ সালের জুন মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এখানে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধির বিষয়, দুই সামরিক শাসক কর্তৃক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সব কিছু তছনছ করে দেওয়ার পর ২১ বছরের বিরতি শেষে আওয়ামী লীগ প্রথমবার সরকার গঠনের মাত্র দেড় বছরের মাথায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলল, যেটি বিএনপি সরকার পাঁচ বছর এবং এরশাদ সরকার কয়েক বছর চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি, যা রীতিমতো বিস্ময়কর এবং অভাবনীয়। নেতৃত্বের রাজনৈতিক সাহস, আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা, দেশের স্বার্থরক্ষায় অবিচল এবং মানুষের প্রতি মানবিক ভালোবাসার কারণেই এত অল্প সময়ে একটা সরকারের পক্ষে এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়েছিল। আরো উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শান্তিপূর্ণ পন্থায় নিরসনে সব জায়গাই তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রবর্গের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন হয়েছে, একমাত্র ব্যতিক্রম পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন হয়নি। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার, যার অন্য পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। চুক্তির বিষয়বস্তু ও শর্তাবলি উভয় পক্ষের জন্য ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য, যা একটা উইন উইন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকায় শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেসকো শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপড়েন সত্ত্বেও শান্তিচুক্তির সুফল পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে পাচ্ছে ও উপলব্ধি করছে। আশি ও নব্বই দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ধরনের ভয়াবহ অবস্থা ছিল, তার সব কিছুতেই আজ উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। পার্বত্যবাসী আজ বাংলাদেশের মূল স্রোতের বৃহত্তর মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছে। ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির সব ক্ষেত্রে পার্বত্যবাসীর জন্য বৈষম্যের অবসান ঘটেছে। অন্যান্য সব নাগরিকের মতো তারা নিজ নিজ ভাগ্য উন্নয়নে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। উচ্চশিক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা আজ তাদের নাগালের মধ্যে। একই সঙ্গে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো পার্বত্য অঞ্চলের সব ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যন্ত এখন পাকা সড়ক হয়ে গেছে। ফলে কৃষিজাত পণ্যের জন্য দেশের বৃহত্তর বাজার তারা সহজে ধরতে পারছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। সর্বত্র মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ আর বিচ্ছিন্ন জনপদ নয়। বছরব্যাপী হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক নিশ্চিন্তে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন, শান্তিচুক্তির আগে যা ছিল অকল্পনীয়। ২১ বছর পর প্রথমবার ক্ষমতায় এসে মাত্র দেড় বছরের মাথায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার এত বড় কঠিন সমস্যার সমাধান যেভাবে করে ফেলেছে, তা আপাত দৃষ্টিতে অবশ্যই বিস্ময়কর। কিন্তু একটু গভীরে গেলে দেখা যাবে, এখানে বিস্ময়ের কিছু নেই। ভুঁইফোড়, রাতারাতি ক্ষমতা দখল এবং তার সূত্রে যেসব রাজনৈতিক দলের জন্ম ও নেতা-নেত্রীর উত্থান, তাঁদের দ্বারা কঠিন জাতীয় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাস আমার এ কথার সাক্ষী। বঙ্গবন্ধু ও সংগ্রামী ঐতিহ্যের দায়বদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে পার্বত্য শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছে।

সব কিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আবার কাল হয়ে দাঁড়ানোর ফলে শান্তিচুক্তির সব ধারার সব কিছু আজও বাস্তবায়িত হতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে চুক্তির সময়ে সংসদের বিরোধী দল বিএনপি ঘোষণা দিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ফেনীর পর থেকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পুরোটাই ভারতের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু কিভাবে ভারত হয়ে গেল, চুক্তির কোন কোন শর্তের দ্বারা সেটা বোঝা যায়, তার কিছুই তারা বলতে পারল না। চুক্তি হলো বাংলাদেশ সরকার, আর নিজ দেশেরই আরেকটি বিক্ষুব্ধ পক্ষের মধ্যে, সেখানে ভারত আসে কী করে। দেশের একটা বড় রাজনৈতিক পক্ষের এমন রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও চরম সাম্প্রদায়িক এবং একান্ত প্রতিবেশী ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থাকলে ভবিষ্যতের জন্য আশান্বিত হওয়ার জায়গা ভীষণভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। ২০২১ সালে এসেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একই অবস্থা দেখছি। সাতচল্লিশের দ্বিজাতিতত্ত্বের অন্ধ চেতনায় সব কিছুতেই ভারতের ভূত দেখা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কোনো যুক্তিতেই বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের জন্য তো বটেই, পুরো এই অঞ্চলের জন্য দুর্ভাগ্য যে আমরা এখনো সাতচল্লিশের চেতনা থেকে বের হতে পারলাম না।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক
[email protected]



সাতদিনের সেরা