kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গুলিস্তান নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর করা যায়নি : মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুলিস্তান নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর করা যায়নি : মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‌‌‌‌'গুলিস্তানে আগেও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু কোনোটাই ফলপ্রসূ বা কার্যকর করা যায়নি। এখানে কয়েকমুখী যাতায়াতব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেকটি যাতায়াতব্যবস্থাকে কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই সেই কার্যক্রম আরম্ভ করব। ' আজ বুধবার সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দুর্ঘটনাস্থলে পথচারী পারাপার সেতু (ফুট ওভারব্রিজ) নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন মেয়র।

বিজ্ঞাপন

 

এ সময় তিনি বলেন, আমাদেরকে বিশেষজ্ঞ মহলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। শুধু একটা কিছু করে ফেললে তা কাজে দেবে না। আমরা চাই কার্যকর ব্যবস্থা। যত দিন যাবে এই এলাকায় যান চলাচল ততই বাড়বে। তবে এখানে আমরা যেটাই (স্থাপনা) করি, সেটাই আমাদের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসানকে উৎসর্গ করব।

মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই নটর ডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসান এখানে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি আমাদের গাড়ির চাপায় নিহত হয়েছেন। সে জায়গাটা আমরা পরিদর্শন করেছি। এখানে (বঙ্গবন্ধু চত্বর) যদিও বা আগে থেকেই পাতালে (মাটির নিচ দিয়ে) পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই পথ বিভিন্নভাবে দখলের কারণে অকার্যকর হয়ে আছে। যার কারণে সাধারণ যাত্রী ও জনগণ রাস্তার ওপর দিয়েই পারাপার করতে বাধ্য হয়। এ জন্য আমাদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাই পুরো বঙ্গবন্ধু চত্বর ও আশপাশের অলি-গলি নিয়েই একটা সড়কের পরিকল্পনা করতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কোনো উদ্যোগই এখানে কার্যকর হবে না। বঙ্গবন্ধু চত্বর ও পুরো এলাকা নিয়েই পথচারীবান্ধব সড়ক পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ’

হকাররা পথচারী চলাচলের পথ দখল করে রাখে – এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘যে কোনো শহরেরই এটি একটি বড় সমস্যা -- হাঁটার পথ, রাস্তাগুলো দখল হয়ে যায়। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ও হকাররা এগুলো দখল করে থাকে। এটার জন্যও কিন্তু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ, আমরা লক্ষ করেছি যে, হকারদেরকে এক দিকে উঠালে তারা নতুন করে আবার জায়গা নিয়ে নেয়। তাদের পুনর্বাসনের দিকটিও কিন্তু চিন্তা করতে হয়। তাকে একটি জায়গা দিতে হবে, যেখানে সে উপার্জন করতে পারে। আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করছি। আমরা বিশেষজ্ঞ মহল ও হকার প্রতিনিধি যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে আলাপ করব। পর্যায়ক্রমে কিছু কিছু রাস্তাকে লাল, সবুজ, হলুদ- এভাবে চিহ্নিত করে হকারদেরকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আমাদের সড়কব্যবস্থা, হাঁটার পথ, পথচারী পারাপার আমরা দখলমুক্ত করব।

মেয়র বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গাড়িচালক না থাকার বিষয়টি নজরে আসে। এরপর আমরা নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ৫০ জন ভারী গাড়ির চালকের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। আমরা ৩২ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু বিআরটিএ থেকে যথাসময়ে লাইসেন্স প্রদান না করার কারণে আমরা মাত্র ১৯ জনকে নিয়োগ দিতে পেরেছি। আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে (অর্গানোগ্রাম) ১৮৩টি পদ আছে। সেই হিসেবে আমাদের পর্যাপ্ত গাড়িচালক নেই। কিন্তু যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই গাড়িতে আমাদের নিয়মিত গাড়িচালককেই দায়িত্ব দেওয়া ছিল। কিন্তু সেই চালক দায়িত্বে অবহেলা করে, গাফিলতি করে আরেকজন ভাড়াটিয়া চালককে দিয়ে গাড়ি চালিয়েছে। সে জঘন্যতম অন্যায় করেছে। এই বিষয়ে এরই মাঝে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা আরো একজনকে শনাক্ত করেছি, যে তার দায়িত্বে অবহেলা করেছে। তাকেও আমরা সাময়িক বরখাস্ত করেছি। আমরা কঠোরভাবে এ ধরনের কার্যক্রম দমন করব।

এর আগে  শেখ তাপস নগরীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র এবং বাসরুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মতিঝিলে নির্মিত যাত্রী ছাউনি পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর সিতওয়াত নাঈম, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহমদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আনিকবৃন্দ এবং ওয়ার্ডসমূহের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা