kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশে বক্তারা

খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে দায় সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৮:৪৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে দায় সরকারের

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : কালের কণ্ঠ

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিএনপি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশ করেছে। রাজধানী ছাড়াও আটটি বিভাগীয় শহরেও একযোগে সমাবেশ করা হয়েছে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনের কারণে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যেতে দিতে পারছে না বলে সরকার যে যুক্তি দেখাচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংবিধানের ধারায়ই বলা আছে, সরকার চাইলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠাতে পারে।

ফখরুল বলেন, ‘আপনারা কেন মিথ্যা কথা বলেন। এখানে অনেক আইনজীবী আছেন, তাঁরা বলছেন ৪০১ ধারাতেই বলা আছে, একমাত্র সরকারই পারে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে। এখন দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের, শেখ হাসিনা সরকারের। খালেদা জিয়ার যদি সুচিকিৎসা না হয়, যদি তাঁর ক্ষতি হয় এ দেশের মানুষ কোনো দিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদের বহন করতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয়ভাবে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে ঢাকা মহানগরের উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন থানা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশের শুরুতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেসারুল হক বিএনপি নেত্রীর আশু সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। কাকরাইলের নাইটিংগেল রেস্তোরাঁ থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে, রাস্তায় বসে বক্তব্য শোনেন। চারটি ছোট ট্রাকের ওপর মঞ্চ তৈরি করা হয়।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকালও (সোমবার) তাঁর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে বন্ধ করতে সমর্থ

হয়েছেন। বেগম জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। গতকাল (সোমবার) রাত ১২টায় ডা. জাহিদ (এ জেড এম জাহিদ হোসেন) আমাকে টেলিফোন করলেন, আপনি এখনই চলে আসুন হাসপাতালে। আমি গিয়ে দেখি প্রায় ১০ জন চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করছেন। প্রত্যেকে উদ্বিগ্ন-চিন্তিত। ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে? তাঁরা বললেন, আমরা যেটা ভয় পাচ্ছিলাম—যেকোনো সময় আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে, আবার রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, সকালে আমি আবার ডা. জাহিদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ম্যাডাম এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। তবে তাঁরা পরিষ্কার করে বলেছেন, তাঁর যে অসুখ সেটির চিকিৎসা এখন আর এখানে নেই। অবশ্যই বিদেশে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সম্পর্কে এক মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘একজন মন্ত্রী বলেছেন, ডাক্তারদের বিএনপি যা বলতে বলেছে তাঁরা তাই বলছেন। ধিক্কার দিই। এভাবে বিদ্রূপ করে কথা বলেন। বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নেই, যারা চায় না খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা হোক।’ 

দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র সম্মেলন হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। কেন? বাংলাদেশ এখন আর গণতন্ত্রের দেশ নেই। শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির নতুন কর্মসূচি আসছে বলে জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘পুলিশ ব্যারাকে রেখে রাস্তায় আসেন। আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি খেলা হবে। কে হারে কে জেতে দেখে নেব।’

ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম মজনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শাহিদা রফিক, তৈমূর আলম খন্দকার, তাবিথ আউয়ালসহ অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শ্রমিকদলের আনোয়ার হোসেইন, সালাহউদ্দিন সরকার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা মনে করেন, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসায় কোনো বাধা নেই। সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটি সভা করে এই মত জানায়। লন্ডন থেকে এতে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল সভার বিষয়ে মহাসচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারেক রহমান চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সদস্যদের অবহিত করেন। সভায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার অবস্থার ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর দাবিতে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক ট্রাফিক নৈরাজ্যের ফলে সৃষ্ট সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো হয় এবং বাসভাড়ায় হাফ পাস পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবিকে যথাযথ বলে মনে করা হয় সভায়। প্রয়োজনে সরকারের ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের সহধর্মিণী।

অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশ

‘খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনে বাধা নেই, সরকার বাধা’ এই বলে মন্তব্য করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এ রকম বক্তব্য তুলে ধরে দলটি খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুরে সমাবেশ করেছে। তবে ফরিদপুরে হট্টগোল ও স্লোগান-পাল্টাস্লোগানে বক্তব্য দিতে না পেরে বিরক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করলে পণ্ড হয়ে যায় সমাবেশ।



সাতদিনের সেরা