kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মিয়ানমারের জান্তার দিক থেকে মুখ ফেরাচ্ছে আসিয়ান

মেহেদী হাসান    

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারের জান্তার দিক থেকে মুখ ফেরাচ্ছে আসিয়ান

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ‘জেনোসাইডের’ পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের পটভূমিতে মিয়ানমারের পাশাপাশি বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে আসিয়ানের ওপরও। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসিয়ান একদিকে মিয়ানমারের জান্তাকে বর্জন, অন্যদিকে জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিনিধিকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে আসিয়ানের পরিবেশ মন্ত্রীদের এক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

ওই সম্মেলনে তিনি মিয়ানমারের মন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। গত অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়া হুমকি দিয়েছিল, মিয়ানমার জান্তা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংকট নিরসন করতে না পারলে তারা জাতীয় ঐক্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার কথা বিবেচনা করবে।

গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ের (আসেম) ১৩তম সম্মেলনেও মিয়ানমারের জান্তাকে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। এবারের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছে আসিয়ান সদস্য কম্বোডিয়া।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আসিয়ান জোটের সদস্যরা জোটভুক্ত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কে ক্ষমতায় কীভাবে আসল, তাও তারা বিবেচনায় নেয় না। এ ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে আসিয়ান দেশগুলো তাদের জোটের সদস্য দেশগুলোর সমালোচনা করে প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। কিন্তু এসবই এখন বদলাতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আসিয়ানের তাৎপর্যপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করছেন। এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো গত অক্টোবর মাসে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে যোগ দিতে না দেওয়া। মিয়ানমারের জান্তাকে শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত করতে চীন আসিয়ানের কিছু সদস্যকে চাপ দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও আসিয়ান মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে সম্মেলনে নেয়নি।

জানা গেছে, শুধু আসিয়ান নয়, গত ২২ নভেম্বর ‘আসিয়ান প্লাস চীন’ সম্মেলনেও নেওয়া হয়নি মিয়ানমারের জান্তাকে। এ ক্ষেত্রেও চীনের চাপ ছিল মিয়ানমারের জান্তাকে যুক্ত করার। কিন্তু আসিয়ান সদস্যরা তাতে সম্মত হয়নি। শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারকে ছাড়াই ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে মিয়ানমারের আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। আর সেটি মেনে নিয়েই চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারবিষয়ক প্রস্তাবের ব্যাপারেও আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো কোনো বিরোধিতা করেনি। অতীতে এ ধরনের প্রস্তাবে আসিয়ান দেশগুলোর বেশির ভাগই বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন কোনো কোনো রাষ্ট্র ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের পরিবেশমন্ত্রী তু কয়াং এক টুইট বার্তায় জানান, মিয়ানমারের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। তিনি এই আমন্ত্রণ পাওয়াকে মিয়ানমারের বৈধ সরকার হিসেবে জাতীয় ঐক্য সরকারের স্বীকৃতি পাওয়ার পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

তবে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিনিধিকে মন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানালেও আসিয়ান এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। এর পরও একে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) সিনিয়র ফেলো এম শহীদুল হক। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, আসিয়ান তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে। তারা সামরিক সরকারকে স্বীকার না করে এখন জাতীয় ঐক্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে। জাতীয় ঐক্য সরকারের একজন মন্ত্রী যদি আসিয়ানের বৈঠকে যোগ দেন তার অর্থ ‘ডি ফ্যাক্টো রিকগনিশন’ (প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি)। এটিও মিয়ানমারের জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।



সাতদিনের সেরা