kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

'খালেদাকে স্লো পয়জনিং করা হলে হুকুমের আসামি হবেন ফখরুল'

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ২২:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'খালেদাকে স্লো পয়জনিং করা হলে হুকুমের আসামি হবেন ফখরুল'

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যদি স্লো পয়জনিং করা হয় তাহলে হুকুমের আসামি হবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে কি স্লো পয়জনিং করা হয়েছে এমন প্রশ্ন গতকাল বৃহস্পতিবার যুবদলের এক কর্মসূচিতে তোলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই বক্তব্যের জবাবে আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, আবদুস সোবহান গোলাপ, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, সুজিত রায় নন্দী, ওয়াসিকা আয়শা খান, শাম্মী আহমেদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, সায়েম খান, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব বলেছেন, বেগম জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। ’ আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে চাই। দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে আজকে যে সুবিধা গ্রহণ করছেন বেগম জিয়া। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতার কারণে। তার পাশে থাকেন আপনারা, ফখরুল সাহেবরা। তাকে যে খাওয়ায় সে পরিবারেরই লোক। তার আশেপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করে বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তার পাশে থাকে না। তার ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্লো পয়জনিং যদি করে থাকে তাহলে পাশের লোকেরাই করতে পারে।

ফখরুলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের পছন্দের লোকেরা চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগকে জড়াচ্ছেন কেন? শেখ হাসিনা কেন হুকুমের আসামি হবেন। হুকুমের আসামি শেখ হাসিনা হবেন না, হলে ফখরুল সাহেব আপনি হবেন। বেগম জিয়াকে আপনারা মাইনাস করার জন্য স্লো পয়জনিং করছেন কি, সেই রকম কিছু করবেন বলেই কি উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে আওয়ামী লীগের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জন্য এখন এত মায়াকান্না কাঁদেন। কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন। তার জন্য দেখবার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিল রাজপথে করার দুঃসাহস আপনাদের ছিল না। এটা দেখাতে পারেননি। কোন মুখে তার জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন, লজ্জা করে না। খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোনো দায় নেই। কোনো কিছু হলে এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে। মির্জা ফখরুল সাহেবদের নিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দেশের সংবিধান ও আইন দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়ননীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তার সবটুকু সুযোগ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মানবিক হৃদয়ের কল্যাণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া বাসায় থাকছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হতে পারেন খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না। বিএনপির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলে। কিন্তু এই দেশের রাজনীতিতে তারা প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছেন।

এই সময় তিনি ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, বিএনপির আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজকে মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। দ্বর্থ্যহীন ভাষায় বলতে চাই যে, কারো চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি শৃঙ্খলাভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে।

বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে। আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেব।



সাতদিনের সেরা