kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি উন্নত হোক কল্যাণকর হোক

আবুল কাসেম ফজলুল হক   

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ০৩:৩৫ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



রাজনীতি উন্নত হোক কল্যাণকর হোক

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচন আসতে আরো দুই বছরের বেশি সময় বাকি আছে। তবু এর মধ্যেই সেই নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা-সমালোচনা আরম্ভ হয়েছে। যে নির্বাচন কমিশন আছে, তার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। নতুন নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠন করা হবে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে তাতে বিবেকসম্মত, যুক্তিসংগত বাস্তবায়ন সম্ভব বক্তব্য কি পাওয়া যাচ্ছে?

আওয়ামী লীগ জোট থেকে বলা হচ্ছে, চলমান ধারায়ই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির সহায়তা নিয়ে। সার্চ কমিটি গঠিত হবে গতবারের মতো। বিএনপি জোট বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত সরকার মনে করে না, মনে করে জবরদখলকারী অবৈধ সরকার। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা চায় নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। জাতীয় সংসদের বিগত দুটি নির্বাচনকে তারা নির্বাচন বলে স্বীকার করে না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা অনেক অভিযোগ করে আসছে। তারা বলেছে, ক্ষমতা দখলকারী এই সরকারের দ্বারা পক্ষপাতমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব নয়। তারা সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করতে চাইছে এবং গণ-অভ্যুত্থান ঘটবে বলে আশা করছে। আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন নেই, বিএনপি গণভিত্তিহীন, গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করার সামর্থ্য বিএনপির নেই। বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন জনগণের কাছে হাস্যকর ব্যাপার। বামপন্থী দলগুলো সরকারের সমর্থনে আছে বলে মনে হয় না। তারা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যকে বরণ করে চলছে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারাও গণ-আন্দোলন চাইছে। আ স ম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি ও নবগঠিত দলগুলো সরকারের সমালোচনায় মুখর। তারা কোনো জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বলে মনে হয়। কয়েকটি ইসলামী দলকেও সরকারের অনেক কাজের সমালোচনায় মুখর দেখা যাচ্ছে। সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বশর্ত হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রচারমাধ্যমের অধিকার, সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার চাইছে এবং জেলজুলুম, হত্যা, গুম বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে, বিএনপির মধ্যে এবং সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর মধ্যে যথেষ্ট ঐক্য আছে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাতিসংঘ নির্বাচন চায় বলে মনে হয় এবং তার জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা কিছু করে চলছে।

দেশের রাজনৈতিক অবস্থার যে সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমি দিলাম, তাতে কোনো কঠোর কথা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে অনেক কঠোর কথা বলার আছে। অনেকে নানাভাবে তা বলছেন। তাঁরা চলমান অবস্থার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে সামনে স্বাভাবিক ও উন্নতিশীল অবস্থা আশা করছেন। সে জন্য তাঁরা এখন যে রকমেরই হোক একটা নির্বাচন এবং সরকার গঠন চাইছেন। বর্তমান রাজনৈতিক ধারাকে তাঁরা সচল রাখার জন্য কাজ করছেন। এতে কি দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের প্রকৃত কোনো কল্যাণ হবে?

১৯৮০-র দশক থেকেই পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলো এবং বিশ্বব্যাংক নানা কৌশলে বাংলাদেশকে নিঃরাজনীতি করে চলছে। রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য, বক্তব্য ও কার্যপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করলে এটা বোঝায় যায়। জনগণ এখন ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। নির্বাচনকে কিছু নেতাকর্মী জনজীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব বলে প্রচার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু জনগণ নির্বাচন নামের উৎসবে যোগ দিতে আগ্রহ বোধ করছে বলে মনে হয় না। নির্বাচন দ্বারা রাষ্ট্র, জাতি ও জনজীবনের কোনো কল্যাণ হবে বলে মনে করে না, এখন লোকের সংখ্যা গ্রামে, শহরে ও রাজধানীতে অনেক আছে।

বাংলাদেশে জনগণ এখন জাগ্রত নয়, ঘুমন্ত। গণজাগরণে জনগণের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা জাগ্রত ও কার্যকর থাকে, মহান লক্ষ্য থাকে, মহান নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।

প্রতিভাবানের আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে একজন লেখকের লেখায় পাচ্ছি : ‘যে বিশাল ব্যাপক জনভূমিতে আমরা কোনো প্রতিভাকে জন্ম নিতে দেখি, তার প্রকৃতি ও প্রবণতাকে ঐ প্রতিভার মধ্যে প্রতিফলিত দেখি। তাই হীনবীর্য ও নীচ জনসাধারণের নেতাকেও আমরা দেখতে পাই হীনবীর্য নীচ হিসেবে, আর উদার কর্মোদ্যমে ভরপুর সৎ নাগরিকদের নেতাকে পাই মহানরূপে। লালনক্ষেত্র হিসেবে সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবন তাই অসাধারণ মানুষের জন্য অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক জনসাধারণ যদি না থাকত এবং যদি তারা প্রতিভাবানের সৃষ্টিতে অনুভূত, প্রতিফলিত ও সৃষ্ট না হতো, তবে প্রতিভাবান হিসেবে কেউ কোনো দিন স্বীকৃতি পেত না।’ (আফজালুল বাসার, ‘বাংলাদেশে নেতৃত্বের সমস্যা’, লোকায়ত, জুন ১৯৮৮)

মহান নেতৃত্ব সম্পর্কেও এই উক্তি প্রযোজ্য। আসলে মহান চিন্তা-ভাবনা বাংলাদেশে এখন সুলভ নয়। তবে গত দেড় শ বছরের বাংলা ভাষায় কিছু লেখকের অনেক মহান চিন্তা আছে, যেগুলো জানলে আমাদের মধ্যে উন্নতিশীল নতুন চিন্তার আগ্রহ দেখা দেবে। নতুন চিন্তা ও নতুন কর্মের ধারা দুটিই দরকার।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে চিন্তা-ভাবনা ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের নামে কিছু একটা ঘটবে এবং সরকার গঠিত হবে। তবে তার দ্বারা রাজনীতির মান উন্নত হবে না, জটিলতা বাড়তে থাকবে। উন্নত রাজনীতির জন্য গতানুগতিক পরিহার করে দেশ-কাল উপযোগী নতুন রাজনীতি এবং নতুন সাংগঠনিক প্রচেষ্টা দরকার। সে কাজ কঠিন। সেই কঠিন কাজের সংকল্প নিয়ে এগোতে হবে।

যে নতুন কাজের সংকল্প নিয়ে এগোনোর কথা আমি বলছি, তার জন্য বহুমুখী চিন্তা দরকার। বিবেকবান চিন্তাশীল ব্যক্তিদের সেই লক্ষ্যে অগ্রযাত্রী হওয়া দরকার।

বিশ্লেষণমূলক ও বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিহাসের দিক দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে বুঝতে হবে। সেই সঙ্গে বুঝতে হবে চলমান বিশ্বব্যবস্থাকে। বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের জনগণের রাষ্ট্ররূপে। এর জন্য বাংলাদেশের জনগণকে গড়ে তুলতে হবে নেশন বা জাতিরূপে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কিংবা বহুত্বমূলক ঐক্যের নীতি গ্রহণ করতে হবে। জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতা অবলম্বন করে চলতে হবে। উপনিবেশবাদী, সাম্রাজ্যবাদী, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবৈষম্যবাদী চাপ পরিহার করে আত্মশক্তির ওপর নির্ভর করে চলতে হবে। আত্মশক্তির বিকাশের নীতি উদ্ভাবন ও অবলম্বন করতে হবে।

সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশে ধর্ম, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের ভূমিকা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক আদর্শের পুনর্গঠন দরকার। আমার মনে হয়, রুশ বিপ্লব (১৯৭০) ও চীন বিপ্লবের (১৯৪৯) অভিজ্ঞতা এবং উপনিবেশ দেশগুলোর স্বাধীনতা অর্জনের অভিজ্ঞতা বিচার করে সমাজতন্ত্রকে গণতন্ত্রের সঙ্গে সমন্বিত করে। সর্বজনীন গণতন্ত্রের আদর্শ উদ্ভাবন করে তা অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল গঠনের কাজ দিয়ে সর্বজনীন গণতন্ত্রের রাজনীতি আরম্ভ করতে হবে।

রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এখন রাজনীতিবিদদের মধ্যে এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। এই মনোভাব রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জনগণের (of the people, by the people, for the people) রাজনৈতিক দল না থাকলে জনজীবনের সমাধানযোগ্য সমস্যাবলির সমাধান করা হয় না। আধুনিক রাষ্ট্রে সরকার গঠিত হয় রাজনৈতিক দল দিয়ে। সে জন্য বলা যায়, রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রের অপরিহার্য গঠনকর উপাদান। এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।

সর্বজনীন গণতন্ত্র বা শতভাগ মানুষের গণতন্ত্র হবে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত ও দেশপ্রেমিক উচ্চবিত্তদের গণতন্ত্র। সর্বজনীন গণতন্ত্রে বিদেশের দালালিমূলক কার্যক্রম আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ রাখা হবে।

রাজনৈতিক দল কাজ করবে লিখিত ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি ও কর্মনীতি অবলম্বন করে। দলের নেতৃত্ব গঠিত হবে দলের কাউন্সিল অধিবেশনে গোপন ব্যালটে নির্বাচনের মাধ্যমে। দল কাজ করবে মেয়াদি কর্মসূচি অবলম্বন করে। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি এবং স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রচার করতে হবে। দল পরিচালিত হবে জনগণ থেকে সংগৃহীত টাকায়। দল গড়ে তুলবে দলীয় প্রচারমাধ্যম এবং ক্রমে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করবে সেই প্রচারমাধ্যমকে। দলে অবলম্বন করা হবে আদর্শ, কর্মসূচি ও কর্মনীতি বিষয়ক অধ্যয়ন অনুশীলন। আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধির অনুশীলন থাকবে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে। অভিজ্ঞতার সারসংকলন ও চিন্তার নবায়নের কর্মনীতি অবলম্বন করতে হবে। রাষ্ট্রের সংবিধান নিয়েও পর্যালোচনা করতে হবে। শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-কানুন ও বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রের বাজেট ও আয়-ব্যয়, প্রচারনীতি ও প্রচারব্যবস্থা, স্বরাষ্ট্রনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি—সব কিছুই থাকবে দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটিগুলোতে। জনসাধারণকে দলের কর্মসূচি ও কর্মনীতি সব সময় জানাতে হবে। বস্তুত কর্মসূচি ও কর্মনীতি প্রচার করে দলের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্য অর্জন করবে দল। সব সময় দলের সব পর্যায়ের কমিটিগুলো সক্রিয় থাকবে রাজনীতি নিয়ে। রাজনীতিকে উপলব্ধি করতে হবে পরিপূর্ণ গুরুত্বের সঙ্গে।

সর্বজনীন গণতন্ত্রে সরকার গঠিত হবে দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দ্বারা। বর্তমান এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত করতে হবে দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দ্বারা। প্রতিটি দল তাদের প্রার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। নির্বাচন কমিশন লটারির মাধ্যমে প্রতিটি দলকে নির্বাচনী প্রতীক প্রদান করবে। নির্বাচন কমিশন সব দলের প্রার্থীদের নাম, তাঁদের দলীয় প্রতীকসহ দেশবাসীর কাছে প্রচার করবে। ভোটাররা ভোট দেবেন প্রতীক দেখে, দলকে; কোনো প্রার্থীকে নয়। কোনো দল একেবারেই কম ভোট পেলে সে দল কোনো সদস্য পাবে না। নির্বাচন কমিশন কোন দল কত ভোট পেয়েছে, এটি দেখে কোন দল কতজন সদস্য পাবে, তা স্থির করবে। তারপর প্রতিটি দলের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা থেকে নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করবে। যে দল থেকে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নির্বাচিত হবেন, সেই দলের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা থেকে প্রধানমন্ত্রী হবেন। মন্ত্রীর সংখ্যাও নির্ধারিত হবে বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে। মন্ত্রিপরিষদে সব দল থেকেই আনুপাতিক হারে মন্ত্রী পাবেন। সরকারি দল, বিরোধী দল থাকবে না।

দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা দরকার। এর মধ্যে যেসব জটিলতা দেখা দেবে, আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে সেগুলোর মীমাংসা করতে হবে। এ বিষয়ে ১৯৮০-র দশক থেকেই বাংলাদেশে আলোচনা চলে আসছিল। কোনো কোনো দল এ বিষয়ে সমর্থনমূলক বক্তব্য দিয়েছে। কোনো কোনো বুদ্ধিজীবীও এ বিষয়ে উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোনো বক্তব্য দেয়নি। একসময় জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের জন্য দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা বিষয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় তিন-চার দিন ধারাবাহিক বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। এই ব্যবস্থার পক্ষে এর আগে সিপিবি প্রচারপত্র চালিয়েছিল। অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির কথা-চালাচালির মধ্যে সব হারিয়ে গেছে। এখন নতুন রাজনীতির জন্য, বিশেষ করে সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য এ বিষয়ে লেখালেখি দরকার।

মানুষে মানুষে পার্থক্য আছে। প্রকৃতি যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে, তার অতিরিক্ত অনেক পার্থক্য শাসক-শোষকরা আইন-কানুন দিয়ে এবং আরো নানাভাবে সৃষ্টি করেছে। মানবসৃষ্ট এই পার্থক্যকে যত দ্রুত সম্ভব দূর করতে হবে।

যে নতুন রাজনীতির কথা এখানে আমি বললাম, সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা স্পষ্ট করতে পারলাম না। তবে আমার কোনো কোনো বইয়ে এ বিষয়ে আমার বক্তব্য বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করেছি। আমি উন্নতি চাই, প্রগতি চাই, রাজনীতি সম্পর্কে সর্বজনীন আগ্রহ চাই।

লেখক : রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা