kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা দিবসে ঢাকায় স্মরণসভা

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা দিবসে ঢাকায় স্মরণসভা

প্রয়াত সোহের আহম্মেদের ছেলে ইফতেখার আহম্মেদের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে।

ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা দিবসে প্রয়াতদের স্মরণ ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করলেন ঢাকায় কর্মরত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বিচারকরা। রবিবার রাজধানীর মহানগর দায়রা জজ আদালতের জগন্নাথ-সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে শহীদ বিচারকদের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া। স্মরণসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, যুগ্ম সচিব (মতামত) উম্মে কুলসুম, আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) ড. শেখ গোলাম মাহবুব, যুগ্ম সচিব (আইন) মাহবুবার রহমান সরকার, ঢাকায় কর্মরত ট্রাইব্যুনালসমূহে কর্মরত জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকগণ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকাসহ ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের দুই শতাধিক বিচারক।

স্মরণসভায় প্রয়াত জগন্নাথ পাঁড়ের পরিবারের সদস্য রাজিব পাঁড়ে এবং প্রয়াত সোহের আহম্মেদের ছেলে ইফতেখার আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দুই প্রয়াত বিচারকের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এ সময় প্রয়াত সোহেল আহম্মেদের ছেলে ইফতেখার আহম্মেদের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। পরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে স্মরণসভা সমাপ্ত হয়। 

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন দুই বিচারক। সেদিন সকাল ৯টার দিকে সরকারি বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিচারকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে হামলা চালায় জেএমবি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ। আর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান সিনিয়র সহকারী জজ জগন্নাথ পাঁড়ে। আহত অবস্থায় ধরা পড়ে হামলাকারী জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াড সদস্য ইফতেখার হাসান আল মামুন।

এরপর একে একে জেএমবির শীর্ষ নেতারা আটক হয়। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে তাদের উপস্থিতিতে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকার্য চলে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহমেদ ২০০৬ সালের ২৯ মে সাতজনকে ফাঁসির আদেশ দেন। উচ্চ আদালতে সে রায় বহালের পর দেশের বিভিন্ন জেলখানায় ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ছয় শীর্ষ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরা হলো- জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক শাখা প্রধান আতাউর রহমান সানি, উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী খালেদ সাইফুল্লাহ ও বোমা হামলাকারী ইফতেখার হাসান আল মামুন।

এদিকে ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর আসাদুল ইসলাম আরিফের ফাঁসি কার্যকর করা হয় খুলনা কারাগারে। জঙ্গিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার কিছুদিন পর ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল রাতে গুলিতে নিহত হন এ হত্যা মামলা পরিচালনাকারী ঝালকাঠির পিপি অ্যাডভোকেট হায়দার হুসাইন।



সাতদিনের সেরা