kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজধানীতে বাস থেকে ফেলে শিশু হত্যা

'গেটলক বাস' বলে ছুড়ে ফেলা হয় সাহায্য চাওয়া মরিয়মকে

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'গেটলক বাস' বলে ছুড়ে ফেলা হয় সাহায্য চাওয়া মরিয়মকে

রাজধানীর প্রগতি সরণির কুড়িল চৌরাস্তার কাছে রাইদা পরিবহনের একটি চলন্ত বাস থেকে এক কন্যাশিশুকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনার ঘাতক বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গত (৯ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রগতি সরণির ফুটপাতের ওপর ১০-১২ বছরের অজ্ঞাত মেয়ে শিশু আহত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত পথচারীরা মেয়েশিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এবং পাশের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাইদা পরিবহনের বাসের চালক রাজু মিয়া (২৫) এবং সহকারী ইমরান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব।

জানা গেছে, নিহত শিশুটি কখনো রাস্তায় ফুল বিক্রি, কখনো লিফলেট বিলি, কখনো সাহায্য চেয়ে চলত। থাকত খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী এলাকায় বাবা-মার সঙ্গে।

আজ শনিবার (১৩ নভেম্বর) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, এই ঘটনার তদন্তে জানা যায়, অকালমৃত্যুর শিকার মেয়েশিশুটি তার পরিবারের সাথে খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী এলাকায় বসবাস করত। তার পিতা মো. রনি একজন প্রাইভেটকার চালক। ২০১৯ সালে ভিকটিম মেয়ে শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ ছিল। সে নিয়মিতভাবেই অর্থ সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে কুড়িল এবং এর আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করত। ঘটনার দিনেও ভিকটিম সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পথচারী এবং বাসযাত্রীদের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাচ্ছিল।

তিনি আরো বলেন, গত ৯ নভেম্বর মরিয়ম তার বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে গ্রগতি সরণি মেইন রোডে আসে। সেখান থেকে পরিবহনের একটি বাসে করে প্রগতি সরণির সামনে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিকটিম মরিয়ম ফুট ওভারব্রিজের দক্ষিণ পাশের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রাইদা সিটিং সার্ভিস নামক পরিবহনের একটি বাস উত্তর দিক থেকে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তার একটু পরেই অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে সেই বাসটিকে থামার জন্য একজন পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখা যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার এই ফ্রেমের ঠিক পেছনে ভিকটিম মরিয়মকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং সময় বিবেচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এখানেই অকালে মৃত্যুবরণকারী মরিয়ম অর্থ সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে উঠেছিল। কিন্তু ভিকটিমের বাসে উঠা এবং পড়ে যাওয়ার কোনো সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ায় ঘাতক বাসের ড্রাইভার এবং হেলপারকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা হয়। 

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১-এর অভিযানে গত ১২ নভেম্বর রাতে ঢাকার টঙ্গী এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত অকালমৃত্যুর সঙ্গে জড়িত রাইদা পরিবহনের বাসচালক রাজু মিয়া (২৫), হেলপার ইমরান হোসেনকে (৩৩)’ গ্রেপ্তার করা হয়। 

র‌্যাব আরো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাসটির চালক রাজু জানায়, তাদের বাসের ঠিক পেছনেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাস ছিল এবং তারা বাসে ভাঙচুর এবং মারপিট করতে পারে; এই ভয়ে তারা ঘটনাস্থলে বাস না থামিয়ে দ্রুত সামনের দিকে অগ্রসর হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দিয়াবাড়ি থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত ফিরতি ট্রিপ করে আসলে জানতে পারে যে তাদের বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ায় মেয়েশিশুটি মারা গেছে। এই সংবাদপ্রাপ্তির পরপরই বর্ণিত পরিবহনের ড্রাইভার এবং হেলপার পোস্তগোলায় হাসনাবাদের একটি বাস ডিপোতে গাড়িটি রেখে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে না বলে আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যবের এই কর্মকর্তা।



সাতদিনের সেরা