kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কপ-২৬ : প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি

ড. কানন পুরকায়স্থ   

১০ নভেম্বর, ২০২১ ০৩:২৮ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কপ-২৬ : প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি

৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৬তম কনফারেন্স অব পার্টি (কপ-২৬) শুরু হয়েছে। এই কনফারেন্স চলবে দুই সপ্তাহ। এ সম্মেলনে ১২০টি দেশের সরকারপ্রধানরা উপস্থিত হয়েছেন এবং দুই শতাধিক দেশের প্রতিনিধি এখানে যোগ দিয়েছেন। চীন ও রাশিয়ার সরকারপ্রধানরা এ সম্মেলনে অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৯২ সালে ১৯৭টি দেশ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছিল। এসব দেশ এ সম্মেলনের পার্টি। ১৯৯৫ সালে বার্লিনে কপ-১ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে কিয়োটো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর তৃতীয় সম্মেলন।

গত আগস্ট মাসে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্ত সরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম

‘Climate Change 2021 : The Physical Basis’। এ প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ বর্তমানের চেয়ে অর্ধেক এবং ২০৫০ সালে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য সুপারিশ করা হয়। এখানে ‘শূন্য’ বলতে ‘ঘবঃ ুবত্ড়’ বা ‘নিট শূন্য’ বোঝানো হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে শূন্য নিঃসরণ সম্ভব নয়, বরং অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ করলে অন্য কোনো খাতে কার্বনকে কমিয়ে আনার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে গাছ লাগানোর কার্যক্রম উল্লেখ করা যেতে পারে। নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা।

যুক্তরাজ্যে ২০১৯ সালে  ‘UK Net Zero Strategy’  প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে পরিবেশবান্ধব চার লাখ ৪০ হাজার চাকরির ব্যবস্থাসহ বেসরকারি খাতে ৯০ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট। কপ-২৬-এর সভাপতি অলক শর্মা জানিয়েছেন,  ‘No excuse for a lack of program on green finance.’ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন,

‘We have ideas. We have the technology. We have the bankers.’ বর্তমানে সারা বিশ্বে  প্রতিবছর ৫৯ গিগা টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য  (Carbon dioxide equivalent) গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসৃত হচ্ছে। আমরা যদি বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ গণনা করি, তাহলে দেখতে পাই যানবাহন খাতে নিঃসরণের পরিমাণ বছরে ছয় গিগা টন, জ্বালানি খাতে নিঃসরণের পরিমাণ প্রতিবছর ২১ গিগা টন, কৃষি খাতে নিঃসরণের পরিমাণ প্রতিবছর  সাত গিগা টন এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে নিঃসরণের পরিমাণ আট গিগা টন। তা ছাড়া যে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে রয়েছে, তাকে বায়ুমণ্ডল থেকে শোষণ করা প্রয়োজন প্রাকৃতিক এবং প্রযুক্তিগত কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে। এর জন্য প্রতিবছর ১০ গিগা টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করা প্রয়োজন। সুতরাং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নিঃসরণ অর্জন করতে হলে উল্লিখিত প্রতিটি খাতের নিঃসরণকে নিট শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে।

সম্প্রতি নেচার জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে যদি বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের শতকরা ৮৯ ভাগ কয়লার মজুদ, শতকরা ৫৮ ভাগ তেলের মজুদ এবং শতকরা ৫৯ ভাগ মিথেন গ্যাসের মজুদকে প্রকৃতিতে যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে  দিতে হবে। কিন্তু ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও দেখা যায় বিশ্বের ৬০টি বৃহৎ ব্যাংক জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে। ২০২০ সালে আইএমএফের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। এ অবস্থা চলতে থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা সম্ভব নয়।

কিন্তু  কপ-২৬-এ আমরা কিছু আশার আলো দেখতে পাই। এ সম্মেলনে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—ক. জলবায়ু অর্থায়ন, খ. কয়লার ব্যবহার বন্ধ করা, গ. পরিবহন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করা, ঘ. বনাঞ্চল সংরক্ষণ। গত ২ নভেম্বর শতাধিক দেশ, যারা পৃথিবীর শতকরা ৮৫ ভাগ বনাঞ্চলের অধিকারী, তারা ঘোষণা দিয়েছে যে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের কার্যক্রম বন্ধ করবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান বনাঞ্চল প্রতি মিনিটে ধ্বংস হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছর বনাঞ্চলকে সংরক্ষণের জন্য ১৯.২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য, যারা এই বনাঞ্চল রক্ষায় প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে। ১২টি দেশ এবং বেসরকারি খাতে বেজস আর্থ ফান্ডসহ আরো কয়েকটি সংস্থা এই অর্থের জোগানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বনাঞ্চল ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনকে ঠেকানো যাবে না। তাদের ভাষায়, ‘We cannot reach climate goals if we don’t keep trees standing.’ এখানে উল্লেখ্য, সাত বছর আগে কয়েকটি দেশ একইভাবে বনাঞ্চল নিধনকে ২০২০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যাকে বলা হয়  ‘New York declaration on forests.’ কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এ বছর ব্যতিক্রম হচ্ছে এই যে বনাঞ্চল ধ্বংসকারী অন্যতম দেশ ব্রাজিল বনাঞ্চল সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মতামত হচ্ছে এই যে সারা বিশ্বে বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং বৃদ্ধি করতে প্রতিবছর ৪৬০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন। এই অর্থায়নের মাধ্যমে  জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নির্বাহের কথাও ভাবতে হবে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, মিথেন গ্যাসের নিঃসরণকে আগামী এক দশকের মধ্যে ২০২০ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা। এতে ৯০টি দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে বর্তমানে তিন মিলিয়ন মাইল পাইপলাইন থেকে ছিদ্র দিয়ে যে মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তা বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে চীন, ভারত ও রাশিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদান করেনি। তারা মনে করে, ধনী দেশগুলো এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে আরেকটি অগ্রগতি হচ্ছে যে ৪০টিরও বেশি দেশ কয়লাচালিত বিদ্যুতের প্লান্টগুলো ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে পোল্যান্ডও রয়েছে। পোল্যান্ড ২০১৮ সালে কাটোচ  (Katowice) শহরে কপ-২৪-এর আয়োজন করেছিল, যেখানে রয়েছে কয়লার খনি। সেই সময় কপ-এর প্রতিনিধিদের একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাহীন সৌন্দর্য এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছিল পোল্যান্ড। সেই পোল্যান্ড এখন অনুধাবন করেছে যে জীবাশ্ম জ্বালানি ক্ষতিকারক।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৭০ সালের মধ্যে নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আগেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে, তবু অনেকে মনে করে যে অন্তত উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো ভাবতে শুরু করেছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে বেরিয়ে এসে তাদের বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে হবে। কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, জনপ্রতি কার্বন নিঃসরণের হিসাবে ২০১৯ সালে ভারতের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১.৯ টন, যুক্তরাজ্যের ৫.৫ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ টন। এই বিষয়টির প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় যেসব দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সে বিষয়ে আরো বক্তব্য তুলে ধরবে সম্মেলনে। জলবায়ু সম্মেলনে উন্নয়নশীল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো চায় শিল্পোন্নত দেশগুলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত মেনে নিয়ে  নিঃসরণ কমিয়ে আনবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। তবে মনে রাখতে হবে যে বিষয়টি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং উপশম  (mitigation) ও অভিযোজনের  (adaptation) জন্য  আর্থিক সহায়তা পেতে হলে প্রতিটি দেশকে তাদের পরাকৌশল নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই পরাকৌশলে  speed  I scale অন্যতম বিষয় এবং কার্যক্রমগুলো পরিমাপযোগ্য হতে হবে। জলবায়ু তহবিলকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহারের পরিবর্তে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাজে লাগানো যায় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে।

উপশম ও অভিযোজন—এই দুটি উল্লেখযোগ্য বিষয় জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির পর জি-২০-এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য যে ভর্তুকি দিয়েছে সে তুলনায় জলবায়ু অর্থায়নের জন্য যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। জানা যায়, ২০১৯ সালে ৮০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পাওয়া যায়; কিন্তু এর মধ্যে ৭ শতাংশ দরিদ্র দেশগুলোর কাছে পৌঁছায়, অথচ তাদের প্রয়োজন ছিল অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। সুতরাং এ বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন,

‘Our motivation should not be fear, but hope.’ তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন,

‘We are digging our own graves.’ কপ-২৬  সম্মেলনের সফলতা বা ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করছে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। তা ছাড়া আমাদের প্রবৃদ্ধির ভাবনায় থাকবে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের বিকল্প। নিঃসরণ হচ্ছে জনসংখ্যা, মাথাপিছু জিডিপি, প্রতি একক জিডিপির জন্য জ্বালানির ব্যবহার এবং ওই জ্বালানি থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ—এই চারটি ফ্যাক্টর এর গুণিতক। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হলে একটি দেশকে উপরোক্ত ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। সেই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।

অতি সম্প্রতি ঘোষিত সাহিত্যে বুকার পুরস্কার ২০২১-এ বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক  Damon Galgut-এর উপন্যাস  ‘The Promise’-এর কথা স্মরণ করছি। এই উপন্যাসে লক্ষ করি  এক শ্বেতাঙ্গ  পরিবার কর্তৃক তাদের বাড়ির কাজের মেয়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে চার যুগ ধরে একটি বাড়ি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার গল্প। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার পর অবশেষে চার যুগ পর তাকে বাড়িটি লিখে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু তখন তার বাড়ির প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি অনেকটা এ রকমই মনে হচ্ছে। যখন একটি দেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরে তলিয়ে যাবে, তখন জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। এটি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি  প্রদানকারী দেশগুলোর মনে রাখা জরুরি।

লেখক : যুক্তরাজ্যে কর্মরত বিজ্ঞান ও পরিবেশ  বিষয়ক উপদেষ্টা, গ্রন্থকার ও গবেষক
* কপ-২৬ সম্মেলন, গ্লাসগো থেকে



সাতদিনের সেরা