kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সম্মিলিত সনাতন পরিষদের

'পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হিন্দুদের সঙ্গে তামাশার শামিল'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হিন্দুদের সঙ্গে তামাশার শামিল'

দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়টি অস্বীকার ও অসত্য বক্তব্য দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে ৩৯টি সংগঠনের জোট সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতৃবৃন্দ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম সদস্য ডা. এম কে রায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, উত্তম কুমার দাস, চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, ড. জে. কে. পাল, লে. কর্ণেল (অব.) নিরঞ্জন ভট্টাচার্য্য, অ্যাডভোকেট প্রবীর হালদার, সঙ্গীতানন্দ মহারাজ, রূপানুগ গৌরদাস ব্রক্ষ্মচারী, জগৎগুরু দাস ব্রক্ষ্মচারী, অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস, ড. নলিনী রঞ্জন বসাক, অধ্যাপক অশোক তরু, অ্যাডভোকেট জয়া ভট্টাচার্য্য প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেখানে প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও নানান অজুহাতে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন, নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা ঘটছে, সেখানে হিন্দুদের একটি বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি ও বিচারহীনতার অশুভ প্রবণতা হিন্দুদেরকে সন্ত্রস্ত করছে। এটি গণতন্ত্র ও শিষ্টাচার পরিপন্থী। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন দেশের কোথাও নাকি কোনো হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। এর মাধ্যমে তিনি সনাতনী জনগোষ্ঠির সঙ্গে তামাশা করেছেন। আমরা কাণ্ডজ্ঞানহীন এই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। এ ছাড়া হিন্দুদের মন্দির, পূজামণ্ডপ, দোকানপাট, বাসাবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট এবং হতাহতের ঘটনায় গত ২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া সঠিক বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সম্মিলিত সনাতন পরিষদভূক্ত সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু ল'ইয়ারস অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন বাংলাদেশ), মহানাম সম্প্রদায় (বাংলাদেশ), শ্রী শ্রী স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রম, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, সৎসংঘ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ, শ্রী শ্রী প্রণব মঠ ভক্ত সংঘ, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশন (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার), বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আচার্য বিবেকানন্দ গোস্বামী আন্তর্জাতিক সেবাশ্রম (বাংলাদেশ অধ্যায়), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু পরিষদ, শারদাঞ্জলি ফোরাম, জাতীয় শ্রী শ্রী শিব মন্দির, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরিগুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জেটি, বাংলাদেশ দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, শ্রীগুরু সংঘ, হিন্দু হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিন্দু সেবক সংঘ, বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদ, সনাতন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশন, পতঞ্জলী যোগসংঘ, অনুরাগ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ হিন্দুলীগ, জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, সেবাশ্রম ফাউণ্ডেশন, হিন্দু কল্যাণ ফাউণ্ডেশন, ভক্ত সংঘ বাংলাদেশ, বৈদিক আর্য সমাজ এবং শঙ্খনিধি মন্দির।



সাতদিনের সেরা