kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘সাম্প্রদায়িক হামলার মূল ঘটনাকে আড়ালের অপচেষ্টা চলছে’

১২ নভেম্বর ধিক্কার দিবস পালন করবে ঐক্য পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সাম্প্রদায়িক হামলার মূল ঘটনাকে আড়ালের অপচেষ্টা চলছে’

দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলার সময় সরকারের একাধিক মন্ত্রীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মূল ঘটনাকে আড়ালের অপচেষ্টা চলছে দাবি করে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রতিবাদে আগামী ১২ নভেম্বর দেশব্যাপী ধিক্কার দিবস পালনের কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েছেন।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস কাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাবেক এমপি ঊষাতন তালুকদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংবাদিক স্বপন সাহা, হীরেন্দ্রনাথ সমাদ্দার হিরু ও জয়ন্তী রায়, ইসকন সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাশ ব্রক্ষ্মচারী প্রমুখ।

সাম্প্রদায়িক হামলা চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে রানা দাশগুপ্ত বলেন, সামগ্রিক ঘটনাকে লঘু করে দেখায় তার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষুন্ন করেছে। তিনি (মন্ত্রী) বিবৃতিতে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তিতে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ব্যক্তিকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে’ বলে মূল ঘটনাকে আড়ালের অপচেষ্টা করেছেন। তদন্তকালীন সিআইডির ভাষায় ‘সে ভবঘুরেও নয় মানসিক ভারসাম্যহীনও নয়, সে চতুর’। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বিবৃতির জন্য আমরা তাকে ধিক্কার জানাই। এর প্রতিবাদে আগামী ১২ নভেম্বর বিকেল ৪টায় সারাদেশে ধিক্কার দিবস পালিত হবে। ওইদিন রাজধানীর শাহবাগ চত্বর এবং চট্টগ্রাম প্রেস কাব চত্বরে সমাবেশ ও মিছিল করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেন, গত ২ নভেম্বর ভার্চুয়াল ভাষণে সত্য কথা তুলে ধরার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের রায় শুধু কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে তা দৃশ্যমান করা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘোষিত সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশনের বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদপে গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত দিনগুলোতে দেশের কোনো রাজনৈতিক দল ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্বিচারে সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়টি কখনোই স্বীকার করতে চাননি। অনেকেই এ ঘটনাগুলোকে অতীতেও ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এবারও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি করছেন। এরমধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে স্বীকার করছেন, সাম্প্রদায়িক হামলা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে তা চলছে।

আরো বলা হয়, এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। সব ক’টির নিরপে ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে যারাই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও বিশেষ মতা আইন এবং দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেবিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা