kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাম দলগুলোর ক্ষোভ-প্রতিবাদ

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি

ছবি- সংগৃহীত

জ্বালানি তেল (কেরোসিন-ডিজেল) ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক-পৃথক বিবৃতিতে দলগুলো অবিলম্বে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজসহ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ডিজেল-কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ বাড়বে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহনে যাত্রী ভাড়া ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ও গৃহস্থালীতে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে রান্নার ব্যয় বাড়বে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণ হবে উল্লেখ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বিবৃতিতে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন। মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে গনবিরোধী আখ্যায়িত করে বলেছেন, এমনিতেই চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা। ডিজেল-কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করায় এবং এলপিজি’র দাম বাড়ানোয় এটা মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে জনগণের জীবন যাত্রাকে বিপন্ন করে তুলবে।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিকদল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, ভারতে শুল্ক কমিয়ে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে আর আমাদের দেশে মূল্য বৃদ্ধি করা হলো। বিপিসিকে তেল আমদানি করতে ৩ ধরনের শুল্ক ও ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, যা কমালে তেলের দাম বৃদ্ধি না করে কমানো সম্ভব। কিন্তু সরকার লোকসানের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট কাটার দিকেই মনোযোগী বেশি, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।

বাসদ (মার্কসবাদী)’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ফখরুদ্দিন কবির আতিক বলেন, অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়ে বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। সংসার চালানোই হয়ে পড়েছে দুষ্কর। এই অবস্থায় সরকার পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা তো নেয়নি, উল্টো এখন ডিজেল-কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে পণ্যমূল্য আরো বৃদ্ধির পথ করে দিলো। ফলে জীবন-যাপনের ব্যয় বাড়বে এবং জন-জীবন দুঃসহ হয়ে উঠবে।

কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা ও করোনা মহামারিতে দেশ তথা বিশ্বব্যাপি সৃষ্ট বিপর্যয়কর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিত্যপণ্যের মূল্য লাগানহীনভাবে বেড়েছে। এমতাবস্থায় কেরোসিন ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। তারা অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা