kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভা

ভারতকে মাদকের নতুন রুটের তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতকে মাদকের নতুন রুটের তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

কৌশল ও রুট পাল্টে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে কারবারিরা। এসব নতুন রুটের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে ভারতের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সীমান্তে যৌথভাবে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। 

বুধবার (২৭ অক্টোবর) ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপাক্ষীয় সভায় (ভার্চুয়াল) এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়েছে, মাদক পাচারের রুট বন্ধ করতে দুই দেশের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

বুধবার বিকেলে সভা শেষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, ভারতের সঙ্গে মাদকপাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি, তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশই ভূমিকা রাখবে। ইয়াবা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের কিছু অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়। সেটিও ভারতকে অবহিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মাদকপাচারে সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হচ্ছে, গুরুত্ব দিয়ে এটা আলোচনা করা হয়েছে। সমুদ্রপথে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। কারণ স্থলপথগুলোতে কড়াকড়িতে হয়তো সমুদ্রপথে আসছে। ইয়াবার তুলনায় আইস আরো বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে, এ বিষয়ে উভয় দেশ তৎপর রয়েছে। বিগত কয়েকটি সম্মেলনে ভারতের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে, ভারত সরকার সেগুলো ধ্বংস করেছে বলে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। 

ডিএনসি ডিজি আরো বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো ভারতকে বলেছি। তারা সীমান্তের অনেকগুলো ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে। ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ভারতও এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার মাদক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই হারে বাংলাদেশে মাদক আসত না। তবে মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডিএনসি ডিজি আব্দুস সবুর মণ্ডল।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ভারত-বাংলাদেশ ছয়বার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দেওয়া হলে সেখানে অভিযান চালিয়ে তথ্য দেয় ভারত। এবারের আলোচনায় নতুন কিছু রুট দিয়ে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার হচ্ছে বলে জানানো হয়। ভারতও কিছু এলাকায় বাংলাদেশি মাদক পাচারকারীদের ব্যাপারে তথ্য দেয়। 



সাতদিনের সেরা