kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আত্মশুদ্ধি একান্ত প্রয়োজন

আবুল কাসেম ফজলুল হক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:১৪ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



আত্মশুদ্ধি একান্ত প্রয়োজন

দুঃখজনক সত্য এই যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পথভ্রষ্ট হয়ে শুধু বিতর্কে নয়, সহিংস অন্তর্বিরোধে মত্ত। বিরোধ চলছে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে, রাজনীতিতে সক্রিয় বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে। তাতে নানা রকম স্বার্থের ব্যাপার আছে। তাঁরা তাঁদের বিরোধকে জনসাধারণের মধ্যে বিস্তৃত করে চলছেন। উভয় পক্ষেরই দৃষ্টি পশ্চাত্মুখী—অতীতের দিকে। দুই পক্ষের মধ্যে জয়-পরাজয়ের অন্ধ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। কোনো আদর্শ নেই। বাংলাদেশে আমরা চাই সেক্যুলারিজমের অনুশীলন।

জাতিকে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও প্রগতির পথে উত্তীর্ণ হতে হলে দরকার বৌদ্ধিক জাগরণ ও গণজাগরণ। সেক্যুলারিজমের রূপ ও প্রকৃতি বাংলাদেশের জন্য কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা দরকার। শুধু সেক্যুলারিজমের বিমূর্ত ধারণা দিয়ে হবে না; বুঝতে হবে যে সর্বজনীন গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদ ইত্যাদিই হতে পারে ইহলৌকিক মতবাদ।

যে অবস্থা চলছে তাতে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ছাড়া শুধু গণজাগরণ কি সম্ভব? বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা কী করছেন? জনগণ কি জাগ্রত? রাজনীতিবিদদের প্রতি জনসাধারণ কি শ্রদ্ধাশীল। এনজিও ও সিএসও ধারার সংগঠনগুলো কি বাংলাদেশের ভূভাগে জাতি গঠন, রাষ্ট্র গঠন এবং জনজীবনের উন্নতি ও প্রগতির জন্য কাজ করছে? এসব সংগঠন বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চাইছে?

kalerkanthoসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ আজ যে সংকটে নিমজ্জিত, তা থেকে বিনা প্রস্তুতিতে খুব সহজে উদ্ধার লাভ আশা করছে প্রায় সবাই। রাজনৈতিক আদর্শের পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থাকে সর্বজনীন কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য চিন্তা ও চেষ্টা কোথায়? যে চিন্তাধারা ও কর্মধারা চলছে, তাতে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের আত্মনির্ভরতার ও উন্নতির সম্ভাবনা কতটা আছে? যাঁরা ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতালিপ্সু, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার রূপ ও প্রকৃতিকে সর্বজনীন কল্যাণে পুনর্গঠিত করার জন্য কি তাঁদের কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে? বাংলাদেশের ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারাদি নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে কী ভাবছেন এবং করছেন? যেসব সমস্যা বাংলাদেশে জনজীবনকে বিপর্যয়ের মধ্যে নিপতিত করেছে, সেগুলোর সমাধান কি সম্ভব নয়? বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই কোনো কোনো সমস্যা নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তখন যাঁরা প্রবল, তাঁরা কোনোক্রমে সচলতা সৃষ্টির জন্য তৎপর হন এবং নানা কৌশলে সচলতা সৃষ্টি করেন। জোড়াতালির সমাধান দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যেমন এই মুহূর্তে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে দুষ্কৃতকারীদের কিছু অপকর্ম। এই অপকর্ম যারা করেছে, তাদের ফৌজদারি মামলার আসামি করে দ্রুত শাস্তি দেওয়া দরকার।

এই সমস্যা ১৯৭২-৭৩ সাল থেকেই চলে আসছে, কখনো কখনো সমস্যা বড় হয়ে দেখা দেয়, বিচার হয় না। বিষয়টিকে পরিপূর্ণ গুরুত্ব দিয়ে দেখলে এবং সমস্যার সমাধানে চিন্তা করলে দেখা যাবে, অপরাধীদের চক্র অনেক বড় ও জটিল। সমস্যার সমাধানের জন্য আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন দরকার। কিন্তু সে ধারায় চিন্তা-ভাবনার সন্ধান অল্পই পাওয়া যায়। প্রায় সব সমস্যার সমাধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে সক্রিয় রাখা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন গোয়েন্দা অনুসন্ধান, পুলিশ, র‌্যাব, আইন-আদালত ও জেলখানার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আয়োজন করে। আইন-আদালতের গতি খুব মন্থর। বলা হয়, বাংলাদেশ বিচারহীনতার দেশ, বাংলাদেশের সংস্কৃতি পর্যবসিত হয়ে আছে অপসংস্কৃতিতে। স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিপরিষদ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা—সর্বত্র বিরাজ করছে অপসংস্কৃতি। কিছু লোক অপসংস্কৃতিকেই ব্যঙ্গ করে বলে থাকে সংস্কৃতি। সার্বিক দুর্গতির মধ্যে দরকার সার্বিক উত্থানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম। আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা দ্বারা দীর্ঘস্থায়ী সুফল হয় না।

উন্নতিশীল, প্রগতিশীল নতুন অবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য দরকার নতুন অনুসন্ধিৎসা, নতুন পরিকল্পনা, নতুন কর্মসূচি ও নতুন কার্যক্রম। দরকার এসব নিয়ে উদ্যোগী রাজনৈতিক দল ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম।

এটা ঠিক যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা ধরে চলছে। উৎপাদন ও সম্পদ বেড়ে চলছে। এ কথাও সত্য যে উৎপাদন ও সম্পদ যে পরিমাণে বাড়ছে, সেই পরিমাণেই অন্যায়-অবিচার, অসাম্য ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রম ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে চলছে। মানবতাবিরোধী কার্যক্রম, হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, দুর্নীতি বাড়ছে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তির কল্যাণে মানবজাতি আজ এমন এক অবস্থায় উন্নীত হয়েছে যে এখন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত ও উন্নত করে সব রাষ্ট্রের সব মানুষেরই নিরাপদ সম্মানজনক জীবনযাপনের বাস্তবতা তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সেই লক্ষ্যে চিন্তা-ভাবনা নেই। ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে ধর্ম নিয়ে যে রাজনীতি চলছে তা প্রগতির পরিপন্থী। বিবিসি রেডিও ও ভয়েস অব আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদী অভিপ্রায়ে নানা কৌশলে এই বিরোধকে উসকে দিচ্ছে। সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদকে তারা ব্যর্থতার মধ্যে নিপতিত করেছে। জাতিসংঘকে তারা বৃহৎ শক্তিবর্গের সংঘ করে রেখেছে। এনজিও, সিএসও বাংলাদেশে কাজ করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী। দুর্গাপূজা নিয়ে যে দুষ্টকর্ম সামনে এসেছে, তাতে দুষ্কৃতকারীদের সমাদর করে সাম্প্রদায়িক বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা দেখে অনেকে বলাবলি করছেন, ব্রিটিশ শাসকদের ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি এবং হিন্দু-মুসলমানের বিরোধকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। মনমানসিকতার দিক দিয়ে বাংলাদেশের বাঙালি জাতি এখন পেছনের দিকে চলছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেসব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে মনে করা হতো সেগুলো পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

যে অবস্থা চলছে তাতে সব দলে, সব সংগঠনে আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি দরকার। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সেই আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। আত্মশুদ্ধি রাতারাতি অর্জন করা যায় না, মানুষের প্রকৃতি এমন যে ব্যক্তিজীবনে ও সম্মিলিত জীবনে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা নিরন্তর চালিয়ে যেতে হয়।

বঙ্কিমচন্দ্রের একটি উক্তি : ‘চিত্তশুদ্ধি থাকিলে সকল মতই শুদ্ধ, চিত্তশুদ্ধির অভাবে সকল মতই অশুদ্ধ। যাঁহার চিত্তশুদ্ধি নাই, তাঁহার কোনো ধর্ম নাই। যাঁহার চিত্তশুদ্ধি আছে, তাঁহার আর কোনো ধর্মেরই প্রয়োজন নাই। চিত্তশুদ্ধি কেবল হিন্দু ধর্মের সার এ মত নহে, ইহা সকল ধর্মের সার। ইহা হিন্দু ধর্মের সার, খ্রিস্ট ধর্মের সার, বৌদ্ধ ধর্মের সার, ইসলাম ধর্মের সার, নিরীশ্বর কোম্ত্ধর্মেরও সার। যাঁহার চিত্তশুদ্ধি আছে তিনি শ্রেষ্ঠ হিন্দু, শ্রেষ্ঠ খ্রিস্টিয়ান, শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ, শ্রেষ্ঠ মুসলমান, শ্রেষ্ঠ পজিটিভিস্ট। যাঁহার চিত্তশুদ্ধি নাই, তিনি কোনো ধর্মাবলম্বীদিগের মধ্যেই ধার্মিক বলিয়া গণ্য হইতে পারেন না। ...চিত্তশুদ্ধি মনুষ্যদিগের সকল বৃত্তিগুলির সম্যক স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্যের ফল।’

এখানে কোম্ত্ধর্ম বলে বোঝোনো হয়েছে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁতের মতবাদ চড়ংরঃরারংস বা চড়ংরঃরাব চযরষড়ংড়ঢ়যু. আত্মশুদ্ধি বলে আমি বুঝিয়েছিলাম নিজের দেহ-মনকে পরিশুদ্ধ করার অনুশীলন। চিত্ত কথার অর্থ মন। বঙ্কিম চিত্তশুদ্ধি দ্বারা বুঝিয়েছেন মনকে পরিশুদ্ধ করার অনুশীলন। মানুষের মন পরিশুদ্ধ হলে তার কাজও পরিশুদ্ধ হয়। বৃত্তি বলে বঙ্কিম বুঝিয়েছেন মানুষের চেতনাগত প্রবণতাকে বা বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে। বঙ্কিম চেয়েছেন মানুষের সব বৃত্তির সম্যক স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্য।

চিত্তশুদ্ধি বা আত্মশুদ্ধি বা মানুষের সব বৃত্তির সম্যক স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্য জীবনব্যাপী সাধনার ব্যাপার। অল্প সময়ে, একবারেই তা অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষের স্বভাব বা মানব প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করলেই বোঝা যায় তা কত জটিল। ব্যক্তি জীবনের জটিলতা সামাজিক, সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনেও জটিল রূপ নিয়ে দেখা দেয়।

বাংলাদেশে (এবং গোটা পৃথিবীতেই) যে অবস্থা এখন চলছে তাতে এই আত্মশুদ্ধির ব্যাপারটি একান্ত প্রয়োজনীয়। বৃহৎ শক্তিবর্গ ব্যবসা-বাণিজ্য, ভোগবিলাস ও যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত। দুর্বল জাতিগুলো সংখ্যায় অনেক বড় হলেও শক্তির দিক দিয়ে দুর্বল। নানাভাবে তাদের শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু শক্তি অর্জনের চিন্তা ও চেষ্টা তাদের মধ্যে নেই। তারা পরিচালিত ও শোষিত হচ্ছে বৃহৎ শক্তিগুলো দ্বারা, এমন এক পৃথিবীতে এখন মানুষ আছে যাতে গণতন্ত্র বিকারপ্রাপ্ত, সমাজতন্ত্র বিলুপ্ত, জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদ নেই। আছে আধিপত্য ও নির্ভলশীলতা। প্রায় গোটা মানবজাতির গতিকেই দেখা যাচ্ছে পশ্চাত্মুখী। পুরনো পরিত্যক্ত সংস্কার বিশ্বাস ও ধর্মের পুনরুত্থান ঘটছে।

আমরা ভেবেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদির অবসান ঘটিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে সুবর্ণ জয়ন্তীতে আজ আমরা দেখছি যে ধর্মের নামে রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, ইংরেজদের ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি অনুযায়ী মহাত্মা গান্ধী, জওয়াহেরলাল নেহরু ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে সংগঠিত হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িকতাবাদ পুনরুজ্জীবিত হয়ে চলছে। গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ কি বুঝতে পারছিলেন যে তাঁরা তাঁদের রাজনীতির মূল ব্যাপারগুলোতে প্রায় সম্পূর্ণরূপে পরিচালিত হয়েছিলেন লর্ড ওয়াভেল ও লর্ড মাউন্টব্যাটেনের দ্বারা? ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন :

‘আমি, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য ও আস্থা প্রকাশ করছি, এবং আমি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হিসেবে মহামান্য রাজা ষষ্ঠ জর্জের প্রতি বিশ্বস্ত থাকব।’

এর আগের দিন ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা আইন জারি করা হয়। জিন্নাহকে শপথ পড়ান লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মিয়া আবদুর রশিদ, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি হন। ওই দিনই লিয়াকত আলী খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।

এর পরের ইতিহাস আমরা জীবন দিয়ে অনুভব করেছি। তাতে আমরা নানা অবস্থানে থেকে কাজ করেছি, সাধনা করেছি, সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে পৌঁছে আজ আমরা দেখছি, আমাদের অর্জিত মহান ব্যাপারগুলো হারিয়ে চলছি। আমাদের জন্য সাম্প্রদায়িকতার নামে হিন্দু-মুসলমান বিরোধের পুনরুজ্জীবন অবশ্যই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ বা সাম্প্রদায়িকতা কি কমবে, না বাড়বে?

রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। প্রায় গোটা পৃথিবীতেই রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। প্রায় সারা দুনিয়ায় এখন নেতৃত্বে আছে গণবিরোধী শক্তি। বাংলাদেশের অবস্থা এখন এমন যে এ দেশে যার মানুষের ক্ষতি করার শক্তি যত বেশি, তার প্রভাব-প্রতিপত্তি তত বেশি। মানুষের কল্যাণ করার শক্তি এ দেশে কোনো শক্তিবলে স্বীকৃতি পায় না। এ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা চাই। জনসাধারণ যদি নিষ্ক্রিয়, নিশ্চেষ্ট ও আশাহীন থাকে, তাহলে তো অবস্থার উন্নতি হবে না! আমরা অবস্থার উন্নতি চাই।

লেখক : সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক। আহমদ শরীফ অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা