kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হবে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:২২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হবে বাংলাদেশ

গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন তাঁরা এখান থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাজার ধরারও একটি সুযোগ পাবেন। তাঁর সরকার সেভাবেই দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে ব্যাবসায়িক যোগাযোগের একটি সেতুবন্ধ হিসেবেই গড়ে উঠবে।

শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন তাঁরা যে শুধু বাংলাদেশ পাবেন তা কিন্তু নয়। তাঁরা দক্ষিণ এশিয়ার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার একটা সুযোগ পাবেন।’ তাঁর সরকার সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ ও আকাশপথ—সবই যাতে উন্নত হয় তার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করেছে। সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সাত দিনব্যাপী এই সম্মেলন আমাদের দেশের জন্য সম্ভাবনাময় ৯টি খাত; যেমন—অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি ও ফিনটেক, চামড়া, ওষুধ, স্বয়ংক্রিয় ও ক্ষুদ্র প্রকৌশল, কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পাট-বস্ত্র শিল্পসহ অতি চাহিদাসম্পন্ন ভোগ্যপণ্য উত্পাদন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা সময়োপযোগী।’

তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে সঙ্গে আমি এও বলব, নতুন নতুন আর কী কী পণ্য আমরা উত্পাদন করতে পারি এবং রপ্তানি করতে পারি, সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য আমরা বাংলাদেশে উত্পাদন করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের বিবেচনা করতে হবে।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘কাজেই আমাদের যাঁরা ব্যবসায়ী বন্ধু রয়েছেন বিশেষ করে বেসরকারি খাতে, তাঁদের প্রতি আমি অনুরোধ জানাব আপনারা এই বিষয়টির দিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন। কারণ আমাদের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সরকার বাণিজ্যিক কূটনীতি জোরদার করার জন্য আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোতে ২৩টি বাণিজ্যিক উইং খুলেছে।’ দ্বিপক্ষীয় (বিপিটিএ) ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (আরপিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে ২৩টি দেশের সঙ্গে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে একতরফা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, গত প্রায় ১৩ বছরে তাঁর সরকার দেশের প্রতিটি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদনে সক্ষম হব। এরই মধ্যে দেশে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন হচ্ছে এবং ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, “সাড়ে চার কোটির বেশি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় এনেছি। ‘প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত’ বাংলাদেশ গড়ায় অনন্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ১২ কোটি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষপণ করেছি এবং দ্বিতীয় স্যাটেলাইটও তৈরি শুরু হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে। ঢাকায় মেট্রো রেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল এবং পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজেও আমরা বহুদূর অগ্রসর হয়েছি।”

তাঁর সরকার এই ছোট্ট ভূখণ্ডের বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে যোগাযোগ ও কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং উন্নয়নের ৯০ শতাংশ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করছি। করোনা মহামারির প্রতিঘাত নিরসনে এক লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনাও দিয়েছি।’

স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারেও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সাড়ে তিন বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাফল্য, বিভিন্ন সংস্থার সদস্য পদ লাভ ও স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, এ কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী প্রজন্ম পাবে জাতির পিতার স্বপ্নের আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত এবং সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। সূত্র: বাসস।



সাতদিনের সেরা