kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

‘নিশ্চিত থাকুন, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০২:৪১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘নিশ্চিত থাকুন, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন’

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। নিশ্চিত থাকুন, তিনি একদম শঙ্কামুক্ত। তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি স্বজনদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বায়োপসির জন্য বেগম জিয়ার শরীর থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে, আসলে তাঁর কী হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একদম সুস্থ আছেন। কিছুক্ষণ আগে তাঁর সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন। তাঁর ভাই (শামীম এস্কান্দার) কথা বলেছেন। যে দুজন ডাক্তার ছিলেন তাঁরা আমাকে নিশ্চিত করেছেন, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। তিনি বিপদমুক্ত। শি ইজ আউট অব এভরিথিং। অর্থাৎ কোনো রকম বিপদের আশঙ্কা নেই বলে তাঁরা (চিকিৎসকরা) মনে করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের এক জায়গায় ছোট একটি লাম্প (টিউমার) আছে। তাই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এই লাম্পের ন্যাচার অব অরিজিন জানতে হলে বায়োপসি করা প্রয়োজন। সে জন্য আজ (গতকাল) তাঁকে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে তা করা হয়েছে।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘উনি সুস্থ আছেন। উনি অস্ত্রোপচারের পর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পেরেছেন। তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। বেগম জিয়া তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।’

জাহিদ হোসেন জানান, অস্ত্রোপচারের পর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। তিনি এখন সার্জিক্যাল আইসিইউতে আছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই দোয়া করবেন। উনি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়াও চেয়েছেন, যাতে দ্রুত সুস্থ হতে পারেন। পাশাপাশি দেশের বাইরে যাতে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারে আপনারা যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, বায়োপসি মানে চিকিৎসা না। বায়োপসি পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি অংশ এবং এই প্রক্রিয়ার পর চিকিৎসা কী হবে তা নির্ধারিত হবে। তাঁর বয়স এখন ৭৬ বছর। তাঁর আরো যেসব জটিলতা আছে, সেগুলো মাথায় রেখে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষায়িত ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড প্রাথমিক মতামত দিয়েছে।

লাম্প কী জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ষঁসঢ়’। লাম্প শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট চাকা। বেগম জিয়ার লাম্পটি ১.২ সেন্টিমিটারের মতো।

শরীরের কোথায় লাম্প হয়েছে, একজন সাংবাদিক এই প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘আমি একটি নৈতিকতার কথা বলি। প্রত্যেক রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আছে। দয়া করে আপনারা এটা দেখবেন। আমরা আশা করি, এ ব্যাপারে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

বায়োপসির প্রতিবেদন কবে নাগাদ হাতে আসবে জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, বায়োপসির রেজাল্ট পেতে আমেরিকার মতো জায়গায় বৈজ্ঞানিকভাবে ৭২ ঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিন থেকে ২১ দিন সময় লাগে। কাজেই আজকেই বলা যাবে না। বায়োপসি হয়েছে, এখন এর রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা বারবার বলে আসছেন, ‘তাঁর যে নানা ধরনের অসুখ আছে, এগুলোর পরিপূর্ণ চিকিৎসা এখানে করানোর জন্য কোনো অ্যাডভান্সড সেন্টার নেই। এ জন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। তাঁর সেই অধিকারটুকু সরকার স্বীকার করে না। তাঁকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। আমি আবার বলছি, শি নিডস অ্যান অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট ইন অ্যান অ্যাডভান্সড সেন্টার (উন্নত সেন্টারে আধুনিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তার জন্য আইনগত কোনো বাধা আছে বলে আমরা মনে করি না। কারণ তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। এটা তাঁর অধিকার, এটা কোনো দয়া নয়। এ ধরনের একটা মিথ্যা মামলার পরও এই মামলায় জামিন পাওয়া তাঁর অধিকার। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা যদি না পায় এর জন্য সরকারকেই ‘শতভাগ’ দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক দিন ধরে জ্বর অনুভব করায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খালেদা জিয়া অনেক দিন ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, চোখের সমস্যাসহ কয়েকটি রোগে ভুগছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকার শর্ত সাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে তাঁকে জামিন দেয়। গত এপ্রিলে তিনি বাসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। সেখানে ব্যক্তিগত বিশেষ চিকিৎসকদের একটি মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসায় সেরে ওঠেন। কিন্তু কভিড-পরবর্তী  জটিলতায় তাঁকে গত ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কয়েক দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।



সাতদিনের সেরা