kalerkantho

সোমবার । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৬ ডিসেম্বর ২০২১। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মানবদেহে পরীক্ষার অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবদেহে পরীক্ষার অপেক্ষায় বঙ্গভ্যাক্স

দেশীয় সম্ভাব্য করোনার টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ প্রাণিদেহে সর্বশেষ পরীক্ষা করে শতভাগ কার্যকারিতা পেয়েছে বলে দাবি করেছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক। বানরের দেহে এই পরীক্ষা চালানো হয়, যাকে বলা হচ্ছে চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই পরীক্ষার ১৪ দিনের সময়সীমা শেষ হয়। এখন প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিচার্স কাউন্সিল (বিএমআরসি) ও সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে গ্লোব বায়োটেকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা সাপেক্ষে অনুমোদন পেলেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে টিকার পরীক্ষা শুরু করতে পারবে। আর এটি হলে দেশীয় কোনো টিকা ঢুকবে পরীক্ষার তালিকায়, সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি যেকোনো টিকা হিসেবেই দেশে প্রথমবারের মতো কোনো টিকার পরীক্ষা হবে।

গ্লোব বায়োটেকের সিনিয়র ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগেই আমরা ইঁদুরের দেহে টিকাটি পরীক্ষা করে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা পেয়েছিলাম। টিকাটি শতভাগ নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার পরও বিএমআরসির নির্দেশনা অনুসারে আমরা বানরের দেহে পরীক্ষা করেছি। এতেও ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা পেয়েছি। এরপর আমরা বানরের দেহে আরেক দফা পরীক্ষা করেছি (চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল)। এই পরীক্ষায় দেখার চেষ্টা করেছি করোনার কতটি ভেরিয়েন্টে আমাদের টিকা কাজ করে। সেখানেও আমরা দেখলাম এখন পর্যন্ত করোনার যতটি ভেরিয়েন্ট বেরিয়েছে, সব কটিতেই এটি শতভাগ কার্যকর।’

ড. মহিউদ্দিন বলেন, টিকাটি এক ডোজের। ফলে অনুমতি পেলে বিদেশেও চাহিদা তৈরি হবে। তিনি আশা করেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ধাপের পরীক্ষার অনুমোদন দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবেন। তিনি দাবি করেন, বঙ্গভ্যাক্স টিকাটি প্রাকৃতিক বিশুদ্ধ এমআরএনএ (মেসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক এসিড) দিয়ে তৈরি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধীরগতির চক্রে পড়ে আছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ জুলাই গ্লোব বায়োটেক করোনার টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয় সংবাদ সম্মেলন করে। এর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের তিনটি টিকাকে সম্ভাব্য টিকাপ্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রাণিদেহে পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক গবেষণা শুরু করে। তারা ইঁদুরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষা চালায়। এরপর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিগত পরীক্ষার জন্য বিএমআরসির কাছে প্রটোকল জমা দেয়। এরপর বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী সংশোধিত প্রটোকল জমা দেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। গত ২২ জুন বিএমআরসি মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়, যদিও এর আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির দেহে পরীক্ষা করার শর্ত দেওয়া হয়। গত ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি বানরের দেহে পরীক্ষা শুরু করে, যা শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর শুরু হয় চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল।



সাতদিনের সেরা